১৯৯৮-এর দিল্লি। জীবন তখন এখনকার তুলনায় অনেকটাই সহজ। জটিলতা কম। সমাজজীবনে সাধারণ কথা, আলাপচারিতার ভাষাও যেন ছন্দে বাঁধা। পুরনো দিল্লিতে (Old Delhi) তখনও প্রতিটি কথাই যেন পানকৌরির মতো ডুব দিয়ে ওঠে উর্দুর মাধুর্যে। পরিচালক বিভু পুরীর নতুন ছবি ‘গুস্তাখ ইশ্ক’ (Gustaakh Ishq review) যেন সেই সুবাসিত জগতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছেন দর্শককে।

‘গুস্তাখ ইশ্ক’ রিভিউ
শেষ আপডেট: 28 November 2025 15:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৯৮-এর দিল্লি। জীবন তখন এখনকার তুলনায় অনেকটাই সহজ। জটিলতা কম। সমাজজীবনে সাধারণ কথা, আলাপচারিতার ভাষাও যেন ছন্দে বাঁধা। পুরনো দিল্লিতে (Old Delhi) তখনও প্রতিটি কথাই যেন পানকৌরির মতো ডুব দিয়ে ওঠে উর্দুর মাধুর্যে। পরিচালক বিভু পুরীর নতুন ছবি ‘গুস্তাখ ইশ্ক’ (Gustaakh Ishq review) যেন সেই সুবাসিত জগতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছেন দর্শককে। আর সেখানে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ (Naseeruddin Shah)।
ছবির তিনটি মুখ—নওয়াজউদ্দিন সাইফুদ্দিন (বিজয় বর্মা), মান্নাত (ফাতিমা সানা শেখ) এবং কবি আজিজ বেগ (নাসিরুদ্দিন শাহ)। বাবার মুদ্রণযন্ত্র বাঁচাতে হন্যে নওয়াজউদ্দিন খুঁজে পান আজিজের দুর্ধর্ষ সাহিত্যকর্ম। বিশ্বাস জন্মায়, এগুলি ছাপতে পারলে হয়তো ঘুরে দাঁড়াবে সংসার। কিন্তু আজিজ কখনও প্রকাশ করতে চাননি তাঁর লেখা। তাই বাধ্য হয়ে কবির সাক্ষাৎ চাইতে রওনা হন নওয়াজ। সেখানে পরিচয় হয় আজিজের সদ্য বিবাহবিচ্ছিন্ন মেয়ে মান্নাতের সঙ্গে—আর সেখান থেকেই নদীর স্রোতের মতো জন্ম নেয় প্রেম।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি প্রকাশে সম্মতি দেন আজিজ? নওয়াজ আর মান্নাত কি খুঁজে পায় নিজেদের পরিণতি? সেই উত্তরই ধীরে ধীরে খুলে দেয় ছবির পরের অঙ্ক।
ছবির অন্যতম শক্তি এর প্রোডাকশন ডিজাইন—মধুমিতা সেন ও অজয় শর্মার যত্নে তৈরি ৯০-এর দশকের আবহ যেন সত্যিই স্পর্শ করা যায়। এটি মণীশ মালহোত্রার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্টেজ ফাইভের (Stage5) -এর প্রথম থিয়েট্রিকাল প্রোজেক্ট, আর স্টাইল-নান্দনিকতায় তাঁর স্বাক্ষর স্পষ্ট।
প্রথমার্ধে গল্প একটু বেশিই সাজানো-গোছানো। উর্দু শব্দের ঘনঘটা—‘লফ্জ’, ‘মোহতরমা’, ‘ইশ্ক’—দর্শকের মধ্যে ভাষাজড়তা তৈরি করতে পারে। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে সংলাপের মায়াজাল ছবিকে কিছুটা ধীর করে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে গল্প পাকাপাকি দাঁড়ায়। এখানে প্রেমের পাশাপাশি উঠে আসে শিল্পী ও শিল্পের সম্পর্ক, বাজারের বাইরে শিল্পের অস্তিত্ব এবং সৃষ্টির স্বাধীনতা। আজিজের একটি সংলাপ ছবির মর্মকে এক ঝলকে ফুটিয়ে তোলে—“ওহ শায়র হি কেয়া জিসে মশহুর হোনে কে লিয়ে বাজার কি মোহর জরুরত হো?” এই এক বাক্যেই বোঝা যায় ‘গুস্তাখ ইশ্ক’ নামটি কেন এত সুন্দরভাবে মানায়।
নাসিরুদ্দিন শাহ (Naseeruddin Shah) পুরো ছবির স্তম্ভ। তাঁর অভিনয় প্রতিটি দৃশ্যে প্রত্যাশামতোই গভীরতা রয়েছে। বিজয় বর্মা তাঁর চরিত্রকে একদম ঠিকঠাক ক্যারি করতে পেরেছেন, বিশেষ করে ক্লাইম্যাক্সে। ফাতিমা সানা শেখও (Fatima sana shaikh) খুব স্টেবল ও প্রাঞ্জল অভিনয় করেছেন। বিশাল ভরদ্বাজের মিউজিক, বিশেষ করে টাইটেল সং, ‘উল জলুল ইশ্ক’, ছবির আবেগকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
‘গুস্তাখ ইশ্ক’ কখনও কখনও ধীর, কখনও ক্লান্তিকরও বটে। কিন্তু তার শব্দ-ভেজা প্রেম, শিল্পের স্বাধীনতা নিয়ে ভাবনা, এবং নাসিরুদ্দিন শাহর শক্তিশালী উপস্থিতি মিলিয়ে ছবিটি শেষমেশ একটা মোলায়েম উষ্ণতা রেখে যায়। হয়তো আপনাকে মুগ্ধ করবে না, কিন্তু মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো সৌম্য অনুভূতি দেবেই—এটাই ছবির সাফল্য।