সিনেমার টিকিটে জিএসটি কমালেও মাল্টিপ্লেক্সে দাম কমছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০০ টাকার টিকিট এখন কার্যত নেই, ফলে দর্শকদের সুবিধা সীমিত।
.jpeg.webp)
সিনেমার টিকিটে জিএসটি কমেছে
শেষ আপডেট: 6 September 2025 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিনেমা দেখার খরচ কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি সরকার সিনেমার টিকিটের ওপর জিএসটি কমানোর ঘোষণা করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১০০ টাকার কম দামের টিকিটের ওপর জিএসটি ১৮% থেকে কমে ৫% করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে আশা করা হচ্ছে, সিনেমা দেখার খরচ কমবে এবং দর্শক হলে ফিরবেন। তবে এই সংস্কার নিয়ে ট্রেড অ্যানালিস্ট এবং বিশেষজ্ঞরা ভিন্নমত পোষণ করছেন।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনু্যায়ী, ট্রেড অ্যানালিস্ট শ্রীধর পিল্লাই মনে করেন, এই কর কমার ফলে দর্শক উপকৃত হবেন। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে, যেখানে সিঙ্গেল স্ক্রিন ও মাল্টিপ্লেক্সের টিকিটের দাম তুলনামূলকভাবে কম, সেখানে এই পরিবর্তন বড় প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, "যদি একটি টিকিটের দাম ১০০ টাকা হয় এবং কর ৫% কমানো হয়, তাহলে দর্শক সেই সুবিধা সরাসরি দেখতে পাবেন। বিনোদন সবার জন্য জরুরি, এবং বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ ১০০ টাকার টিকিট কেনেন, তাই ছোট পরিবর্তনও তাদের কাছে বড় বিষয়।"
তবে আরেক ট্রেড অ্যানালিস্ট রোহিত জয়সওয়াল পিল্লাইয়ের মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তার মতে, জিএসটি কমার ফলে টিকিটের দাম বাড়বে, কমবে না। তিনি বলেন, “এখনকার দিনে ১০০ টাকার নীচে টিকিট প্রায় দেখাই যায় না। এমনকি সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতেও কেবল পেছনের সারির আসনের দাম এত কম থাকে। তাই আমার মনে হয়, এই জিএসটি কমানোর ফলে আসল কোনও পরিবর্তন আসবে না।”
সিনেমা ট্রেড এক্সপার্ট গিরিশ ওয়ানখেড়ে এবং রোহিত জয়সওয়ালের মতে, ১০০ টাকার টিকিটের যুগ এখন শেষ। এখনকার বেশিরভাগ মাল্টিপ্লেক্সের টিকিটের দাম ২০০ টাকার উপরে। সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোও হয় বন্ধ হয়ে গেছে, না হলে মাল্টিপ্লেক্সে পরিণত হয়েছে। ওয়ানখেড়ে বলেন, "যখন কোনও মাল্টিপ্লেক্সে টিকিটের দাম ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা, তখন ১০০ টাকার টিকিটে ৫% জিএসটি কমানোর ঘোষণা অর্থহীন।" তিনি আরও বলেন, এই সংস্কারটি যতটা না ব্যবহারিক, তার চেয়ে বেশি প্রতীকী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জিএসটি সংস্কারের ফলে হয়তো ছোট শহর এবং কিছু সিঙ্গেল স্ক্রিনের দর্শকদের সামান্য সুবিধা হবে, কিন্তু মাল্টিপ্লেক্সে যাওয়া দর্শকদের জন্য কার্যত কোনও পরিবর্তন আসবে না। সিনেমা শিল্পকে সত্যিই পুনরুজ্জীবিত করতে হলে শুধু কর কমানোর চেয়ে আরও বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।