
গৌরী-সার্থক
শেষ আপডেট: 18 April 2025 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি সপ্তাহে মুম্বইয়ের ফাইন-ডাইনিং দুনিয়ায় একটু অন্য রকমের গরম হাওয়া বইছে। কারণ? ইউটিউবার সার্থক সচদেব একের পর এক সেলিব্রিটি মালিকানাধীন রেস্তোরাঁয় চালালেন এক ‘পনির অথেনটিসিটি টেস্ট’। আর সেই টেস্টের শেষ গন্তব্য ছিল বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের স্ত্রী এবং জনপ্রিয় ডিজাইনার গৌরী খানের এশিয়ান ফিউশন রেস্তরাঁ ‘টোরি’ (বান্দ্রা)।
সার্থকের ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি ‘টোরি’র এক পনির স্যাম্পেল আয়োডিন টিংচার দিয়ে টেস্ট করছেন। দেখা যায়, পনির রং বদলে যাচ্ছে, তা কালো হয়ে যাচ্ছে—যা সাধারণত স্টার্চের উপস্থিতি বোঝায়। অনেকে ধরে নেন, এটা নকল বা নিম্নমানের পনিরের লক্ষণ। ব্যস, এরপরেই নেটদুনিয়ায় তুফান!
তবে ‘টোরি’ রেস্তোরাঁও চুপ করে বসে থাকেনি। তাঁদের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম এবং এক বিবৃতির মাধ্যমে পুরো বিষয়টা পরিষ্কার করেছে। তাঁরা বলেছে, ‘এই টেস্টে যেটা ধরা পড়েছে সেটা স্টার্চের উপস্থিতি, পনিরের মান যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নয়। আমাদের ডিশে সোয়াবিন-ভিত্তিক উপাদান থাকে (যেটা এশিয়ান খাবারের অঙ্গ), তাই এই রঙের পরিবর্তন স্বাভাবিক।’
View this post on Instagram
গৌরী খানের রেস্তোরাঁ আরও জানিয়েছে, ‘আমরা প্রতিটি ধাপে খাদ্যমানের উপর নজর রাখি। পনির হোক বা অন্য যে কোনও উপাদান—সবার গুণমান নিয়ে আমাদের কোনও আপোস নেই।’
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন অনলাইনে একটা বড় প্রশ্ন উঠেছে—এই ধরণের টেস্ট আদৌ কি প্রফেশনাল কিচেনে খাবারের গুণমান যাচাই করতে পারে? বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আয়োডিন স্টার্চের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে কালো হয়। অনেক সময় সোয়া সস, থিকেনার বা মারিনেডের মধ্যেও স্টার্চ থাকতে পারে, তাই এই রঙের পরিবর্তন সবসময় নকল পনির বোঝায় না।
যদিও সার্থক সচদেবের এই টেস্টে আরও কিছু সেলিব্রিটি রেস্তোরাঁ যেমন বিরাট কোহলির ‘ওয়ান কমিউন’, শিল্পা শেট্টির ‘বাস্তিয়ান’, ববি দেওলের ‘সামপ্লেস এলস’ ছিল, তবে ‘টোরি’র প্রতিক্রিয়াই সবচেয়ে বিস্তারিত ও বিজ্ঞাপনযোগ্য ছিল। খাবারের মান নিয়ে এই ধরনের আলোচনায় দুনিয়ার রসনাপ্রেমীরা বেশই মজেছে। দেখা যাক, এরপর আর কোন ‘ফুড টেস্ট’ ভাইরাল হয়!