
শেষ আপডেট: 5 September 2021 06:30
কেমন সেই পরিকল্পনা? জার্মানি থেকে দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্ণব জানান, বাংলা ব্যান্ড হলেও শুরুতে অন্য ভাষার গানও গাইবে 'নস্টালজিয়া'। কারণ, যেকোনও দেশেই ভারতীয় ভাষা হিসেবে হিন্দি গানের জনপ্রিয়তা রয়েছে। বোঝেনও অনেকেই। কিন্তু বাংলা গান গাইলে শুরুতে দর্শক নাও জমতে পারে। তাই হিন্দি বাংলা পাঁচ মিশেলি গানের কভার করে আগে বিদেশের মাটিতে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে চান অর্ণব।
জানান, তাঁর স্বপ্ন সত্যি হওয়ার প্রথম ধাপ এটাই। তারপর একদিন পরপর দশটা গানই গাইবেন বাংলায়। মুগ্ধ হয়ে শুনবেন জার্মানবাসী।
তবে এ সবকিছুরই পরিকল্পনা হয়েছিল গত বছর। করোনার আতঙ্কে গৃহবন্দী তখন গোটা বিশ্ব। একসঙ্গে হয়ে গানবাজনা করবেন এমন পরিস্থিতি ছিল না। ওয়ার্ক ফ্রম হোমের শেষে ফোন আর ভিডিও কলেই কথাবার্তা চলত। তাই ব্যান্ড গড়া তখনই সম্ভব হল না।
আরও পড়ুনঃ জীবন সায়াহ্নে এসে নতুন করে পথ বাঁধলেন চার বন্ধু
ব্যান্ড আগেও গড়েছেন অর্ণব। এমবিএ শেষ করে যখন বেঙ্গালুরুতে কর্মরত ছিলেন, বাঙালি বন্ধুরা মিলে গড়ে তুলেছিলেন 'আলপিন'। সেই আলপিনই সব হত, যদি না কাজের সূত্রেই ফের জার্মানিতে বদলি হতেন। 'আলপিনে'র সদস্য হয়ে হিন্দি বাংলা পাঁচমেশালি গানের পারফর্ম করতেন অর্ণব। তবে জার্মানিতে বসে এতবছর পর ব্যান্ড তৈরির ইচ্ছেটা আসে অন্য তাগিদ থেকে।
অর্ণব জানান, বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সম্পর্কে এখানকার মানুষের তেমন ধারণা নেই। এমনকী জার্মানিতে বড় হওয়া বাঙালি ছেলেমেয়েরাও শোনে না বাংলা ব্যান্ড। বড় হয়ে গান বাজনার জগতে পা রাখলেও তাদের মুখ থেকে চট করে বাংলা গান বেরোয় না। কিন্তু অর্ণব চাইছেন বাংলা গানই শুনুক জার্মানি। ভাষা যাঁরা বোঝেন না তাঁদের কাছেও বাংলার মাধুর্য্য পৌঁছে দেবার লক্ষ্য নিয়েছে 'নস্টালজিয়া'।
এমনকী জার্মান ভাষায় রবীন্দ্র সংগীত গাওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। রবীন্দ্র সংগীতের মূল ভাব অক্ষুন্ন রেখে মন মাতানো ফিউশন গড়তে চায় নস্টালজিয়া। লোকে কী বলবে সে নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন অর্ণব। বাঙালির মনেপ্রাণে প্রেম, বিদ্রোহ, দেশাত্মবোধের যে ঐশ্বর্য্য লুকোনো রয়েছে তাই বিশ্বের সামনে মেলে ধরার তাগিদটা অনেক বড়। আর সেই অনুপ্রেরণা রবি ঠাকুরই। নস্টালজিয়ার পারফরম্যান্সে তাই বেশ কয়েকটি রবীন্দ্র সংগীত থাকবেই।
https://youtu.be/gsz5Ck8B9ZY
তবে এখনই নয়। অর্ণব জানান, তিনি ছোট্ট ছোট্ট লক্ষ্য স্থির করার পক্ষপাতী। করোনার বিধ্বস্ততা কাটিয়ে আগে গড়ে উঠুক ব্যান্ড। নিয়মিত রিহ্যার্সাল শুরু হোক। তারপরই শো। তার আগে সিটিসেন্টার বা জাইলেই স্ট্রিট শো শুরু করতে চায় 'নস্টালজিয়া'। আপাতত মিউজিশিয়ান খুঁজছেন। ঠিকঠাক ড্রামার, কিবোর্ড আর্টিস্ট না পেলে ব্যান্ড তৈরি হবে কী করে! নস্টালজিয়ার এখনও অনেক পথ হাঁটা বাকি। তবে একটু একটু করে পাখা মেলছে।
ঘরবন্দী অবস্থায় আড্ডায় গানে একঝলক নস্টালজিয়া রেকর্ড করে অর্ণবরা তুলে দিয়েছেন ইউটিউবে। সেই আদলেই শুরু হয়ে গিয়েছে ব্যান্ড। পেশা নয়, প্যাশনটুকু সম্বল করেই আগামীদিনে এগিয়ে চলবে নস্টালজিয়া। যেখানে বিশ্বের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙালিদের জন্যই গাইবেন অর্ণবরা। গাইবেন বিশ্বের মাঝে বাঙালিকে বাঁচিয়ে রাখতে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'