যাঁরা ফেডারশনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরি, বিদুলা ভট্টাচার্য, সুদেষ্ণা রায়দের মতো পরিচালকরা। কিছুদিন আগে কিংশুক দে এবং পরে সুদেষ্ণা রায়ের ক্ষেত্রেও ঘটেছে শুটিংয়ে টেকনিশিয়ানদের ‘অসহযোগিতা’। শুটিং শুরু করতে পারেননি সুদেষ্ণা রায়। তাহলে কি এবার অনির্বাণ ভট্টাচার্যর ক্ষেত্রেও আরোপ হল ‘আজীবন অসহযোগিতা’?

১৪ মে, অর্থাৎ এসভিএফ প্রযোজিত অনির্বাণ ভট্টাচার্যর বাংলা ব্যান্ড ‘হুলিগানিজম’-এর অ্যালবামের তৃতীয় মিউজিক ভিডিওর শুটিং ঠিক ছিল। ছবি: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 14 May 2025 19:35
সোমবার অর্থাৎ ১২ মে, ‘দ্য ওয়াল’-এ প্রকাশ্যে আসে খবরটি। শিরোনাম—কোপের মুখে প্রোডাকশন ডিজাইনার! শুভার্থীকে ‘বয়কটের’ ডাক গিল্ডের সেক্রেটারির। টলিপাড়ার প্রোডাকশন ডিজাইনার শুভার্থী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এক ‘হুঁশিয়ারি’ মেসেজ করা হয় অফিসিয়াল সিনে আর্ট ডিরেক্টরস গিল্ডের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। ‘ইনি শুভার্থী বা তিতলি (ডাকনাম)। ইনি আমাদের কোন মেম্বার নয়। এর সাথে আমাদের কোন সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কাজ করবেন না। যদি একে কোথাও কাজ করতে দেখেন তৎক্ষণাৎ গিল্ডকে জানান।’
এও জানা যায়, ১৪ মে, অর্থাৎ আজ এসভিএফ প্রযোজিত অনির্বাণ ভট্টাচার্যর বাংলা ব্যান্ড ‘হুলিগানিজম’-এর অ্যালবামের তৃতীয় মিউজিক ভিডিওর শুটিং হতে চলেছে। প্রোডাকশন ডিজাইনিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন সেই শুভার্থী বিশ্বাস। তাঁকে জানানো হয়, শুভার্থী এই কাজটির সঙ্গে যুক্ত হলে, একাধিক সিনেকর্মী বিরত থাকবেন। এই প্রসঙ্গে শুভার্থীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘আমি চাই অনির্বাণদাদের কাজটা শেষ হোক। আমি কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারলেও চাই, সেটা শেষ হোক।’
কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনির্বাণ ভট্টাচার্যর সেই কাজ স্থগিত। অর্থাৎ ‘হুলিগানিজম’-এর তৃতীয় মিউজিক ভিডিওর শুটিংটি আজ হচ্ছে না। সূত্রের খবর, শুভার্থী বিশ্বাস শুটিংয়ের যাবতীয় কাজ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু তবুও শুটিং বন্ধ হওয়ার কারণ এখন আর শুভার্থী নন! তাহলে কারণ ঠিক কী? সূত্রের খবর অনুযায়ী কারণ ‘অনির্বাণ ভট্টাচার্যর সঙ্গে কোনও টেকনিশিয়ান অভিনেতা-পরিচালকের সঙ্গে কাজ করবেন না। এক কথায় ‘অসহযোগিতা’। সূত্রের এও খবর, গতকাল অর্থাৎ ১৩ মে সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
২রা মে ‘দ্য ওয়াল’ প্রথম ব্রেকিং খবরটি প্রকাশ করে। শিরোনাম—পরম, অনির্বাণ, সুদেষ্ণারা করতে পারবেন না ছবি? টেকনিশিয়ানদের ‘আজীবন অসহযোগিতা’ সিদ্ধান্ত! ১লা মের ফেডারেশনের ডাকে যে মেগা মিটিং আয়োজন হয়, সিদ্ধান্ত হয় ‘কঠোর সিদ্ধান্ত’ নিতে পারে ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’।
কী সেই কঠোর সিদ্ধান্ত’ এমন প্রশ্ন করা হলে আলোচনায় উপস্থিত এক সূত্র জানান ‘ফেডারেশনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের মামলায় কার (পরিচালকদের) কী বক্তব্য ছিল, তাও দেখানো হয়। এই মামলার বাইরেও যাঁরা, তাঁদের সমর্থন করছেন, তাঁদের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এবং তা বেশ উত্তপ্ত পর্যায়ে পৌঁছয়। আলোচনায় একটাই কথা বারবার উঠে এসেছে তাঁদের প্রতি ‘আজীবন অসহযোগিতা!’ ফেডারেশন সূত্রের খবর, অনির্বাণ ভট্টাচার্য কেন্দ্রিক কোনও নথিপত্র জমা পড়েনি ফেডারেশনের দফতরে।
যাঁরা ফেডারশনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরি, বিদুলা ভট্টাচার্য, সুদেষ্ণা রায়দের মতো পরিচালকরা। কিছুদিন আগে কিংশুক দে এবং পরে সুদেষ্ণা রায়ের ক্ষেত্রেও ঘটেছে শুটিংয়ে টেকনিশিয়ানদের ‘অসহযোগিতা’। শুটিং শুরু করতে পারেননি সুদেষ্ণা রায়। তাহলে কি এবার অনির্বাণ ভট্টাচার্যর ক্ষেত্রেও আরোপ হল ‘আজীবন অসহযোগিতা’?
সূত্রের কাছে প্রশ্ন ছিল, কিন্তু আজ অর্থাৎ ১৪ মের ‘হুলিগানিজম’-এর গানের ভিডিও শুটিংয়ে, অনির্বাণ পরিচালক নন। একজন অভিনেতা হিসেবে যোগ দিতেন, সেক্ষেত্রে তো কোনও অসুবিধে থাকার কথা নয়। ‘পরিচালনা হোক বা অভিনয়, অনির্বাণের কোনও কাজের সঙ্গেই যুক্ত থাকবে না সিনে টেকনিশিয়ানরা’, জানায় সূত্র। এই প্রসঙ্গে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকে একাধিকবার ফোন করা হলে, তিনি ফোন ধরেননি। ফোন করা হয় পরিচালক-অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যকেও। তাঁর ফোন বেজে গিয়েছে। তিনিও ফোন তোলেননি।