‘ম্যাডক ফিল্মস‘-এর নতুন ছবি ‘ভুলচুক মাফ’ এক অদ্ভুত টাইম-লুপ কমেডি, যেখানে গল্পের গোড়ায় যতটা আকর্ষণ, শেষ পর্যন্ত তা দাঁড়িয়ে উঠতে পারে না নিজের পায়ে। স্ত্রী আর তাঁর সিক্যুয়েলের পর প্রোডাকশন হাউস যে ম্যাজিকটা আবার করতে চেয়েছিল, তা এখানে কার্যত মিসফায়ারড!

ম্যাডক ফিল্মস-এর নতুন ছবি ‘ভুলচুক মাফ’ কেমন হল?
শেষ আপডেট: 26 May 2025 13:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ম্যাডক ফিল্মস‘-এর নতুন ছবি ‘ভুলচুক মাফ’ এক অদ্ভুত টাইম-লুপ কমেডি, যেখানে গল্পের গোড়ায় যতটা আকর্ষণ, শেষ পর্যন্ত তা দাঁড়িয়ে উঠতে পারে না নিজের পায়ে। স্ত্রী আর তাঁর সিক্যুয়েলের পর প্রোডাকশন হাউস যে ম্যাজিকটা আবার করতে চেয়েছিল, তা এখানে কার্যত মিসফায়ারড!
রঞ্জনের একদিনেই আটকে থাকা জীবন
বেনারসের ব্যস্ত ঘাট, অলিগলি, আর সেখানে ঘুড়ে বেড়ানো রঞ্জন তিওয়ারি (রাজকুমার রাও), সাধারণ, যার স্বপ্ন সরকারি চাকরি আর প্রেমিকা তিতলিকে (ওয়ামিকা গব্বি) বিয়ে। তিতলির বাবা দু’মাস সময় দেন—চাকরি পেলেই বিয়ে, না হলে বিদায়! সেই উদ্দেশ্যেই রঞ্জন ঢুকে পড়ে এক দুর্নীতিগ্রস্ত দালালের জালে (সঞ্জয় মিশ্র) পর্যন্ত, যে তার থেকে টাকা নেয়, এবং গায়েবও হয়ে যায়। সব বাধা কাটিয়ে যখন বিয়ের দিন ঠিক হয়, তখন শুরু হয় নতুন কাহিনি—একই দিন বারবার ফিরে আসে! গায়ে হলুদ এবং আবার গায়ে হলুদ পর্ব! কনফিউশন বাড়তে থাকে, রঞ্জন-তিতলির বিয়ে কিছুতেই হয় না। রঞ্জন বুঝতে পারে না কীভাবে এই লুপ থেকে বেরোবে, আর এই গণ্ডগোলের প্রেমে, জড়িয়ে যায় পরিবার, গোটা সমাজ।

দুর্বল চিত্রনাট্য আর ছড়ানো গল্প
পরিচালক করণ শর্মার লেখা চিত্রনাট্য যতটা বড় ভাবনাকে ধরতে চায়, ততটাই এলোমেলো আর জোড়াতালি দিয়ে তৈরি। রাজকুমার রাও তাঁর সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন, আর ওয়ামিকা গাব্বিও শক্ত হাতে তাঁকে সাপোর্ট দিয়েছেন, কিন্তু তাতেও ছবির মেরুদণ্ড খুব একটা শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে না। অভিনয়ের টিম কিন্তু খারাপ নয়—সীমা পাহওয়া, রঘুবীর যাদব, সঞ্জয় মিশ্র, ইশতিয়াক খান—সবার কমিক টাইমিং চমৎকার। কিন্তু স্ক্রিপ্টের সীমাবদ্ধতায় তাঁরা শুধুই হালকা রঙ তাতে মাখাতে পেরেছেন, ভিতটা গড়ে তুলতে পারেননি।
ভাবগম্ভীরতা বনাম হাস্যরস: কোনওটাই জমেনি
ছবির টোন এতটাই দোদুল্যমান—কখনও সিরিয়াস, কখনও জোর করে হাসানোর চেষ্টা— দর্শক ঠিক বুঝে উঠতে পারে না কী নিয়ে হাসবে আর কী নিয়ে ভাববে। মাঝে মাঝে রোম্যান্স, কখনও ধর্মীয় উপদেশ, কখনও ফ্যামিলি ড্রামা—সব একসঙ্গে মিশিয়ে দেওয়াতে কিছুই ঠিকঠাক ছাপ ফেলতে পারে না।

দৃশ্যত সুন্দর, কিন্তু ভিতরে ফাঁপা
সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের ক্যামেরায় বেনারস যেমন প্রাণবন্ত, ছবির দৃশ্যগুলো তেমন প্রাণহীন। সেই চেনা গলি, ঘাট, ছাদে বসে বন্ধুদের সঙ্গে চা-আড্ডা—সব কিছু থাকলেও, দৃশ্যের গভীরে তা জীবন্ত হতে পারেনি। এমনকি ‘সারপ্রাইজ’ ব্যাচেলর পার্টির দৃশ্যও একঘেয়ে। কোনও নতুনত্ব নেই।
শেষ কথা
‘ভুলচুক মাফ’ একটা দুর্বল আইডিয়ার উপর দাঁড়িয়ে থাকা ছবি, যা সময়ের গোলকধাঁধা আর বিয়ের গণ্ডগোলকে মিলিয়ে একটা মজার গল্প বানাতে চেয়েছিল। কিন্তু দুর্বল স্ক্রিপ্ট, অতিরিক্ত ‘প্যাঁচ’ এবং আবেগ-হাসির ভারসাম্য না রাখতে পারায়, ছবি ধীরে ধীরে নেমে যায় এক স্লিপারি রাস্তায়। এই ভুলচুক কি আসলেই মাফযোগ্য? দর্শকের পক্ষে তা বোঝা সত্যিই মুশকিলের!