কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল বেশ কয়েকদিন আগে। সত্যি হল আজ। ‘দাদামণি’র সেট নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়েছে। এও শোনা যাচ্ছে ‘কুসুম’ ধারাবাহিকেও পড়তে পারে চাপ। বিষয়টি খানিক খোলসা করা যাক।

প্রযোকদের উপরে এবার কোপ?
শেষ আপডেট: 24 May 2025 16:24
কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল বেশ কয়েকদিন আগে। সত্যি হল আজ। ‘দাদামণি’র সেট নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়েছে। এও শোনা যাচ্ছে ‘কুসুম’ ধারাবাহিকেও পড়তে পারে চাপ।
বিষয়টি খানিক খোলসা করা যাক। ফিরে যেতে হবে ১লা মে সিনেকর্মীদের অধিকার স্বার্থে সেই মেগা মিটিংয়ে। টালিগঞ্জের কলাকুশলীদের সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ্ সিনে টেকনিশিয়ান অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’র অন্তর্ভুক্ত ২৮টি গিল্ডের নির্বাচিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন সেই মেগা মিটিং-এ।
একাধিক বিষয় নিয়ে চলে সেই আলোচনা সভায়। শুটিংয়ে খাবারের মান নিশ্চিত করার দাবিতে, শুটিংয়ের সময়সীমা, এবং পারিশ্রমিক বৃদ্ধি, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। ১লা মে শ্রমিক দিবসের সাধারণ সভায় চলাকালীন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস একটি বিষয়ের উপর বারবার জোর দেন। সিনেটেকনিশিয়ানদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি।
তিনি বলেন, ‘টেকনিশিয়ানদের পারিশ্রমিকের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত দু’মাস হল। যা ছিল গত ৩১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত। ঠিক যে সময়ে আমরা পারিশ্রমিক বাড়ানোর দাবি জানাই, সেই সময়ে ফেডারেশন বিরুদ্ধে মামলা করা হল! যেন এই পারিশ্রমিকের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায়!’
সূত্রের খবর, শুধু পারিশ্রমিক নিয়ে এই কিছু পরিচালক প্রযোজক-টেকনিশিয়ানদের সমস্যা তৈরি হয়নি। কলকাতা হাইকোর্টে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে করা মামলার সঙ্গে জড়িত প্রযোজকদের কয়েকজন! এক সূত্রের খবর, ‘কলকাতা হাইকোর্টে যে মামলা করা হয়েছে, সেই মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীদের পারিশ্রমিকের ‘অঙ্ক’ বিরাট। শুধু তাই নয়, একটি মামলা হয়নি। ১৮টি মামলা রয়েছে, সেই বিপুল অঙ্কের টাকা আসছে গুটি কয়েক প্রযোজকদের ঘর থেকে!’
মামলার সঙ্গে যে যুক্ত রয়েছেন প্রযোজকদের একাংশ, তার ইঙ্গিত মিলেছিল, মে মাসের প্রথম তারিখের সেই মেগা মিটিংয়েই। ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’র অন্তর্ভুক্ত সমস্ত গিল্ড এবং নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে মেগা মিটিংয়ে নাম না করেই স্বরূপ বিশ্বাসের অভিযোগে ছিল কিছু প্রযোজকদের দিকেও। নাম না করেই তিনি একাধিকবার বলেছেন, ‘অনেকেই এমন রয়েছেন, যাঁরা পরিচালকদের সঙ্গে হাতে হাত রেখে, টেকনিশিয়ানদের ক্ষতি করে চলেছেন। কিন্তু তাঁরা এটা ভুলে যাচ্ছেন, ফেডারেশনের ঐক্যতাকে এত সহজে ভেঙে ফেলা সম্ভব নয়। সব কিছু মনে রাখা হবে!’
তা হলে কি প্রযোজকদের চাপে ফেলতে এই শুটিং থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত টেকনিশিয়ানদের? সূত্রের খবর, ‘নতুন সিরিয়ালের শুটিং সেটের নির্মাণ কাজ বন্ধ হওয়ার আগে সমস্ত সিনে টেকনিশিয়ান এবং ওয়াকার্স, ফেডারেশনের কাছে জানতে চায়, কবে তাঁদের, ন্যায্য পারিশ্রমিকের বৃদ্ধি হবে? তা না হলে, এই সময়ে দ্রব্যমূেল্যর বৃদ্ধির বাজারে, তাঁদের কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়!’
প্রযোজকদের ‘একাংশ’ অর্থাৎ কোন কোন প্রযোজনা সংস্থার উপর এই ‘অদৃশ্য প্রকোপ’ আসতে চলেছে? এমন এক প্রশ্ন ফেডারেশন ঘনিষ্ট এক সূত্রকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও সংস্থার নাম না করে বলেন, ‘ফেডারেশনের বিরুদ্ধে মামলার সঙ্গে মূলত যুক্ত রয়েছে দুই প্রযোজনা সংস্থা এবং এক প্রযোজক। টলিউডের প্রথম সারির এক নামী প্রযোজনা সংস্থা, বলা যেতে পারে, নিয়মিত ছবি প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত সেই সংস্থা। দ্বিতীয় এক প্রযোজনা সংস্থা, যাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রযোজনা তবে এখন তারা ডিস্ট্রিবিউশন এবং সাপ্লাইয়ের কাজে সঙ্গে বেশ হাত পাকিয়েছে। এবং এক বিখ্যাত বাংলার লেখকের পুত্র, যিনি খানিক বিপথে চালিত হয়েই টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।’
টলিপাড়ার এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনিশিয়ান বলেন, ‘একদিকে আইনজীবীদের এত এত টাকা পারিশ্রমিক! গোটাটাই জুগিয়ে চলেছেন কিছু প্রযোজক। অন্যদিকে আমরা ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত। এই দ্বিচারিতা চলতে পারে না। শুধু তাই নয়, আমাদের বিরুদ্ধেই করা হয়েছে হাইকোর্টে মামলা! অনৈতিকতার বিরুদ্ধে আমরা এক জোট আছি। আমাদের আন্দোলন বৃহৎ থেকে বৃহত্তর দিকেই যাবে!’