
অনির্বাণ-ভানু
শেষ আপডেট: 18 September 2025 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘আশিতে আসিও না’ ছবিতে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই দৃশ্য মনে পড়ে? ভানু গাড়ি চালাচ্ছেন। পাশে বসে রয়েছেন রুমা গুহঠাকুরতা। হঠাৎ তাঁদের ধাওয়া করেছে পুলিশ। বেগতিক দেখে ভানু প্রথমে গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন। তাতেও রক্ষে নেই বুঝে, গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন রাস্তার পাশে পুকুরে। তার পর পুলিশ ধরতে এলে বলেন, “আমাকে ধরার কোনও এক্তিয়ার নেই আপনার। আমি এখন জলপুলিশের আন্ডারে...”
অনির্বাণ ভট্টাচার্যও যেন ফেডারেশনকে এভাবেই বুড়ো আঙুল দেখাতে চাইছেন। তিনিও যেন ‘জল পুলিশের’ আন্ডারে! টলিপাড়ার ফেডারেশনের নীতি পুলিশ আর তাঁকে ধরতে পারবেন না!
গোড়ার কথা জানতে গেলে একটু পিছনে হাঁটতে হবে। গত ৩০ জুন, দুপুর ১২টা নাগাদ যোগেশ মাইম অ্যাকাডেমিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিনেতা-পরিচালকের মন্তব্য রীতিমতো ঝড় তুলেছিল। অনির্বাণ প্রায় চ্যালেঞ্জ ঠোকার মতো বলেছিলেন, “আমার অভিনয় করা আটকাবে না”। কারণ তার ঠিক আগের দিনই, ২৯ জুন, টেকনিশিয়ানরা ফোনে জানিয়ে দেন, তাঁরা আর আসবেন না তাঁর শুটিংয়ে।
অনেককে আবার নাকি ফোনেও ধরা যায়নি। অভিযোগের তীর ছিল একেবারে সোজা—‘হুলিগানিজম’-এর গানের শুটিং আটকে দেওয়া হল। এমনকি অনির্বাণ এও বলেছিলেন, ‘‘‘রঘু ডাকাত’-এর পর আমার হাতে আর কাজ নেই।’’
সেই অভিঘাতে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল অনির্বাণের ‘হুলিগানিজম’-এর চতুর্থ মিউজিক ভিডিওর শুটিং। প্রথম দুটি গানের শুটিং আগেই সারা। তৃতীয় ভিডিওর কাজ শেষ হয়েছিল মে মাসের শেষ দিকে। কিছু অংশ বাকি থাকলেও তা সম্পন্ন হয়। গোটা ভিডিওর ইনডোর অংশ তোলা হয়ে গিয়েছিল, আউটডোরেও হয়েছে খানিকটা। শোনা যাচ্ছে, এ সবের খবরই নাকি ছিল না ফেডারেশনের। টলিউড অন্দরমহলে যাকে বলা হয় ‘গুপি শুটিং’।
এই ‘গুপি শুটিং’ ধরেই ফেডারেশনের মেগা মিটিংয়ে নেওয়া হয় ‘কঠোর সিদ্ধান্ত’। সভাপতির ঘোষণা—অনির্বাণ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে ‘আজীবন অসহযোগিতা’। শুধু তিনিই নন, হাইকোর্টে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে যাঁরা মামলা করেছিলেন—পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরি, বিদুলা ভট্টাচার্য, সুদেষ্ণা রায়—তাঁদের বিরুদ্ধেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কিন্তু ‘নন-কো অপারেশন’-এর রাশ টেনে ধরলেও অনির্বাণ যেন ভানুর মতোই বুড়ো আঙুল দেখালেন ফেডারেশনকে। ফেডারেশনের অমোঘ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই শুট করলেন ‘হুলিগানিজম’-এর পঞ্চম একেবারে নতুন গান। নাম ‘পূজার গান’। এবং তা প্রকাশও হয়ে গেল—গতকাল, ১৭ সেপ্টেম্বর, এসভিএফ মিউজিকের ব্যানারে।
![]()
এ গান যেন দুর্গাপুজোর আগমনী সুর। মাটির আখরে, মাটির সুরে সাজানো। ঢাকের আওয়াজ, মাটির গন্ধ, মানুষের মিলনমেলা—সব মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ। সুরকার অনির্বাণ, শুভদীপ, দেবরাজ ও গোপীনাথ। কথা লিখেছেন অনির্বাণ, শুভদীপ ও গোপীনাথ। কণ্ঠ দিয়েছেন অনির্বাণ, শুভদীপ ও দেবরাজ। গানের ভিডিও পরিচালনার দায়িত্বও নিয়েছেন অনির্বাণ নিজেই।
এদিকে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস মেগা মিটিংয়ে বলেছিলেন, ‘‘সিনেমা কর্মীদের পরিস্থিতি আরও সচ্ছল করতে হবে। তাদের কাজের অধিকার, রুটি-রুজির স্বার্থে, শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষার্থে আরও উন্নতি করতে হবে।’’ অথচ ‘পূজার গান’-এর শুটিংয়ে ফেডারেশনের সমর্থিত কোনও গিল্ডের সদস্য ছিলেন না বলেই খবর। ঝাড়খন্ডে জুলাই মাসেই শেষ হয়েছে শুটিং।
এ ব্যাপারে ‘দ্য ওয়াল’-এর পক্ষ থেকে সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। তবে ফেডারেশনের এক কর্তা বলেন, ‘অনির্বাণ যতটা নয়, আপনারা তার বেশি দেখাতে চাইছেন। ওকে সত্যজিৎ রায় বানিয়ে ফেলবেন না!’
এ ব্যাপারে অন্যদিকে অভিনেতা-পরিচালক অনির্বাণ ভট্টাচার্য কিংবা এমনকি প্রযোজনা সংস্থাও বেশ চুপচাপ। তাঁরাও প্রতিক্রিয়া দেননি। মেসেজ করা হলেও জবাব পাওয়া যায়নি।

তাহলে? ফেডারেশনের কঠোর নির্দেশের মধ্যেও গান শুট হল, রিলিজও হল। কী করে হল? না সে প্রশ্নের জবাব মেলেনি। ভানুর ভাষায় বলতে গেলে—‘‘চোপ, ধরবার আপনার এক্তিয়ার নেই, আমি এখন জলপুলিশের আন্ডারে।’’ ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় মজা করে বলেছিলেন, অনির্বাণ আজ সেটাই যেন বাস্তবে খাটিয়ে নিলেন। টলিউডের গ্যাঁড়াকল কাটিয়ে, ফেডারেশনের নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল ডিঙিয়ে শুটিং সম্পন্ন হল, সত্যিই প্রশ্নটা এটাই—অনির্বাণ কি এখন জলপুলিশের আন্ডারেই?