রিহার্সাল ফাঁকে ফাঁকেই নাচ, সংসার নিয়ে আড্ডাগল্পে পাওয়া গেল ডোনাকে। দ্য ওয়াল-কে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দিলেন 'শ্যামা' ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়।

ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের 'দীক্ষামঞ্জরী'। গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 30 May 2025 18:57
'ধরা সে যে দেয় নাই, দেয় নাই,
যারে আমি আপনারে সঁপিতে চাই--
কোথা সে যে আছে সংগোপনে,
প্রতিদিন শত তুচ্ছের আড়ালে আড়ালে।'
আগামী রোববার ১ জুন রবীন্দ্রসদনে জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম নিবেদন 'শ্যামা'। এই প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শ্যামা' মঞ্চস্থ করতে চলেছে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের 'দীক্ষামঞ্জরী'। গতকাল এই শো'য়ের ফাইনাল রিহার্সাল হল ডোনার নিজের বেহালার বাড়িতেই। নাচের মহড়ার ফাঁকে দ্য ওয়াল-কে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দিলেন 'শ্যামা' ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়।

'সুন্দরের বন্ধন নিষ্ঠুরের হাতে, ঘুচাবে কে।
নিঃসহায়ের অশ্রুবারি পীড়িতের চক্ষে,মুছাবে কে।'
রিহার্সাল ফাঁকে ফাঁকেই নাচ, সংসার নিয়ে আড্ডাগল্পে পাওয়া গেল ডোনাকে।
'দীক্ষামঞ্জরী'র 'শ্যামা' স্বতন্ত্র কোথায়?
রবীন্দ্রনাথের 'শ্যামা' তো অনেকেই বহুবার করেছেন। আমার পরিচালনায় খুব যে একেবারে তফাত রয়েছে তা নয়। ওড়িশি নাচের মুদ্রার সঙ্গে রবীন্দ্র নৃত্যকে মিলিয়ে এই উপস্থাপনা করেছি। । আর আমাদের লাইভ গানের সঙ্গে নাচের উপস্থাপনা। ডঃ আনন্দ গুপ্ত ও সহশিল্পীরা অসাধারণ সঙ্গীত পরিবেশন করছেন। আজকের রিহার্সালে গান আর নাচের সেই মেলবন্ধন তো দেখাই যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের গানের সঙ্গে কিছু অভিনব মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট রয়েছে। মিউজিক করছেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। আসলে 'শ্যামা' রেকর্ডে আমরা যে রকম শুনতে অভ্যস্ত শুধু সেটুকু দিলে তো হবে না। মঞ্চে প্রবেশ, প্রস্থান থেকে পোশাক পরিবর্তন সবই তো করতে হয়। সেই কারণে গানের মাঝে কিছু মিউজিক দিতেই হয়।

আপনি তো গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রর সুযোগ্য শিষ্যা। ওড়িশি নাচের সঙ্গে রবীন্দ্রনৃত্যের মেলবন্ধন কতটা চ্যালেঞ্জিং?
আমার মনে হয় খুব ভাল মেলে। কারণ বাংলা আর ওড়িশা দুটো রাজ্য তো খুব কাছাকাছি। আমার গুরুজি কেলুচরণ মহাপাত্র ও সংযুক্তা পাণীগ্রাহী ওড়িশি একদম মূল ঘরানাতেই করতেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তো ওঁদের আরও আগের মানুষ। তখন ওড়িশি ডান্স ফর্ম বাংলায় খুব একটা প্রচার পায়নি। প্রচার পেলে হয়তো বিশ্বভারতীতে ওড়িশিও থাকত। ওড়িয়া ভাষাও কিন্তু বাংলা ভাষার কাছাকাছি। তাই ওড়িয়া ভাষা আমরা বাঙালিরা সহজে বুঝতে পারি। (ওড়িয়া ভাষা বলেও বাংলার সঙ্গে মিল বুঝিয়ে দিলেন ডোনা)।
রবীন্দ্র নৃত্যনাট্য যখন আপনি বিদেশে পারফর্ম করেন তখন বিদেশিরা বাংলা গানের সঙ্গে, বাংলা ভাষার সঙ্গে কানেক্ট করেন কীভাবে?
'শ্যামা' কিন্তু আমাদের প্রথম প্রোডাকশন। এই প্রথম ১ জুন রবীন্দ্রসদনে মঞ্চস্থ হবে। পরে যাব 'শ্যামা' নিয়ে বিদেশে। 'মায়ার খেলা' নিয়ে আমরা সুইজারল্যান্ড, লন্ডন গেছিলাম। তারপর আমরা একবার ওড়িশি পারফর্ম করতে মিশরে গেছিলাম। কিন্তু সেদিন ২৫ শে বৈশাখ পড়েছিল। তখন সেদিন আমরা মিশরে 'শাপমোচন' পারফর্ম করেছিলাম। চীনে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের গানে নাচের শো করেছি। ভীষণ আপ্লুত হয়েছিলেন ওখানকার মানুষেরা। আমার মনে হয়, নাচে তো কোনও ভাষা লাগে না। নাচের নিজের ভাষাই যথেষ্ট। যদিও গল্পগুলো আমরা সেই সেই দেশের ভাষায় বলে দিই। আমি হিন্দিতে 'চিত্রাঙ্গদা' করেছিলাম। 'কোনারক' মন্দিরে ওড়িয়া ভাষায় 'চিত্রাঙ্গদা' নেচেছিলাম। সেগুলো খুব স্মরণীয় কাজ।
তবে 'শ্যামা', একদম নতুন প্রোডাকশন। আগে কোথাও করিনি। এই প্রথম করছি। আমার ইচ্ছে আছে 'শ্যামা' ভাষান্তর করে অনেক ভাষায় করার। বিশেষত ইংরেজি ভাষায়। রবীন্দ্রনাথ নিজেও এমন অনেক কাজ করেছেন।

দাদা (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়) কী বলছেন ডোনা বৌদির নাচ দেখে?
দাদা বসে হয়তো সে ভাবে পুরোটা দেখেনি। তবে টুকটাক দেখেছে। আমি প্র্যাকটিস করছিলাম, দাদা দেখে আমাদের দলের একজনকে বলছিল ''শ্যামা'তে তোমাদের ডোনাদি এত কাঁদছে কেন?' (বরের কথায় উচ্ছল হাসি ডোনার)
সানার নাচের দিকে কতটা আগ্রহ?
আমাদের প্রথম 'চিত্রাঙ্গদা' যখন হয় তখন আমার মেয়ে সানা হরিণ-এর চরিত্র করেছিল। তখন সানা খুব ছোট। হরিণ খুঁজতে খুঁজতে আমি অর্জুনকে বাণ মারছি এমন ছিল দৃশ্যটা। তারপর বড়বেলায় 'তাসের দেশ' করেছিল একবার। এখন তো সানা নিজের কর্মজগতে ব্যস্ত।

প্রথম 'শ্যামা' উপস্থাপন নিয়ে দর্শকদের কী বার্তা দেবেন?
এই রোববার ১জুন আমাদের দীক্ষামঞ্জরীর প্রথম করছে 'শ্যামা'। সবাইকে সাদর আমন্ত্রণ। সকলেই আসতে পারেন। সবার জন্য অবারিত দ্বার। আসুন, উপভোগ করুন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শ্যামা'।