রজত কাপুর ভারতীয় সিনেমা এবং থিয়েটারের প্রতিভাবান অভিনেতা। শুধু তাই নয় একাধারে নির্দেশক, চিত্রনাট্যকার এবং পরিচালকও বটে। তাঁর প্রতি দর্শকদের মুগ্ধতা বেড়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। সম্প্রতি রজতের নতুন নির্দেশিত নাটক ‘হোয়াট ইজ ডান, ইজ ডান’ দেখানো হল শহরের কলামন্দিরে। নাটক শুরুর আগে একান্ত আড্ডায় রজত কাপুর। এক্সক্লুসিভ ‘দ্য ওয়াল’-এর ক্যামেরায়।

রজত কাপুর। ছবি: সৌম্যদীপ সেন।
শেষ আপডেট: 21 June 2025 17:06
রজত কাপুর—যিনি শুধু প্রতিভাবান অভিনেতা নন, তিনি একাধারে পরিচালক, চিত্রনাট্যকার এবং নাট্যনির্দেশকও বটে। প্রতিনিয়ত দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছেন তিনি, আর সম্প্রতি কলামন্দিরে মঞ্চস্থ হয়েছে তাঁর নতুন নাটক ‘হোয়াট ইজ ডান, ইজ ডান’। নাটকের আগমুহূর্তে ‘দ্য ওয়াল’-এর ক্যামেরায় খোলামেলা আড্ডায় ধরা পড়লেন এই শিল্পস্রষ্টা।
কথার পিঠে কথা বসতে, একসময় তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনার গল্পগুলি বলিউডের প্রচলিত ফর্মুলা থেকে অনেকটাই আলাদা হয়। আজও কি ভারতীয় ইন্ডিপেন্ডেন্ট চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সেই জায়গা পাওয়া কষ্টসাধ্য, আপনি রজত কাপুর তাই হয়তো পেরে উঠছেন, নাকি ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে? প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই রজত বললেন, ‘আমি কোথায় পারছি বলুন তো? আমার প্রত্যেকটি ফিল্ম ৩-৪ বছর তৈরি করতে লেগে যাচ্ছে। একটি ছবি বানানো আমার পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছে।’ এর কারণ কি প্রযোজক? করা হল পাল্টা প্রশ্ন। ‘কারণ মার্কেট, কারণ যা চলছে। ইন্ডি ছবির জন্য প্রযোজক পাওয়াও চাপের হয়ে উঠছে!’
আবার করা হল প্রশ্ন, আপনার ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটছে? ‘একেবারে, ‘কড়ক’ ছবিটা আমার টাকায় হয়েছে। তারপর ‘আরকে আরকে’তেও আমার আংশিক টাকা লগ্নি হয়েছে। তারপর ‘এভরিবডি লাভস সোরা সোরভ হান্ডা’ এখনও রিলিজ হয়নি। দু’বছর হয়ে গিয়েছে। তিন বছর হয়ে গিয়েছে, নতুন ছবি করতে পারিনি। তাই...’
চোখেমুখে নিরাশা গ্রাস করল রজতের, তাও হালকা হাসি ঠোঁটে, বললেন, ‘সিনেমা বানানো একেবারেই সহজ ছিল না। কোনও ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্মমেকারের পক্ষেই সহজ নয়, আমার কাছেও নয়, প্রত্যেকটি ফিল্ম এক একটা যুদ্ধ করার সমান।’
রজত কাপুরের ছবিগুলো সমালোচিত এবং প্রশমসিত। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও। বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে সমাদৃত তাঁর পরিচালিত ছবি, কিন্তু যে কথাগুলো রজত বললেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। কথাটি শুনে রজত বললেন, ‘এসবের কোনও অর্থ নেই। কারও কাছে তার কোনও দাম নেই!’ তার মানে বলছেন, ভাল ছবিরও কোন কদর নেই? আবার খানিক হেসে রজতের জবাব, ‘তাঁদের কাছে নয়। যাঁদের কাছে টাকা আছে, তাঁদের কাছে নেই। যাঁদের কাছে টাকা আছে, তাঁদের কাছে ব্যবসায়িক লাভই সব। এটাই তো বাজারের নিয়ম। এটা তো থাকবেই, এ নিয়ে কি আর ঝামেলা করব?’
আবার প্রশ্ন করা হল, ‘বলিউডে সমস্যাটা ঠিক কোথায় হচ্ছে? বলিউড কি পিছিয়ে যাচ্ছে? পুষ্পা ২ কিংবা বাহুবলীর মতো ছবিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে...’ প্রশ্ন থামিয়ে রজত বললেন, ‘এটা এখনকার সমস্যা নয়, এটা ছিল। অবস্থা কিছুটা বদলেছে, কিন্তু এমন নয় ইনডিপেনডেন্ট ছবি ক্ষেত্রে পরিসরটা খুব সহজ ছিল। ইনডিপেনডেন্ট ফিল্মমেকাররা বাড়ির টাকাপয়সা দিয়েই ছবি বানাতেন। এখন যা হয়েছে, ওটিটি আসার পর, স্ট্রাগল বেড়েছে। আগে যখন এই সব ছবি, সহজে রিলিজ করা যেত, এখন রিলিজই হয় না। যদি না আপনি কোনও ওটিটি প্ল্যাটাফর্ম থেকে কোনও সবুজ সংকেত দেখতে না পান...তাই এখন একটু বেশিই কঠিন!’