দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলিউডের গায়িকা কণিকা কাপুর। চতুর্থবার টেস্টের রিপোর্টও এসেছে পজিটিভ। এরপরেই ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন কণিকা। লিখেছেন যে তিনি আশা করছেন পরবর্তী টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসবে।
গায়িকা আরও জানিয়েছেন যে তিনি এখন আর আইসিউইউতে নেই। শরীরও ভালোই রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি বাড়ির লোকেদের বিশেষ করে নিজের সন্তানদের যে খুব মিস করছেন সেকথাও লিখেছেন কণিকা। তাঁর কথায়, “জীবন আমাদের সময়ের সদ্ব্যবহার করতে শেখায়। আর সময় আমাদের জীবনের আসল মানেটা বুঝিয়ে দেয়। আমি এখন আর আইসিইউতে নেই। ভাল আছি। হাসপাতালের বিছানা থেকে উঠে খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে চাই। আমার সন্তান এবং পরিবারকে খুব মিস করছি। আশা করি আমার পরবর্তী রিপোর্ট নেগেটিভ আসবে।“
https://www.instagram.com/p/B-VDEeLl5CO/?igshid=1p48027rdc9n
গত ৯ মার্চ লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন কণিকা কাপুর। প্রাথমিক ভাবে কোনও উপসর্গ দেখা যায়নি তাঁর। বিমাবন্দরের থার্মাল স্ক্রিনিংয়েও ধরা পড়েনি কিছুই। তবে দেশে ফেরার দিন চারেক পরেই সর্দি-কাশি-জ্বর ও নানারকম লক্ষণ দেখা দেয় কণিকার। এরপর হাসপাতালে গিয়ে লালারসের নমুনা পরীক্ষা করার পর জানা যায় যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন গায়িকা। মার্চ মাসের ২০ তারিখ লখনউয়ের কিংস জর্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন কণিকা।
এরপরেই প্রকাশ্যে আসে এক বিস্ফোরক তথ্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে বেশ কিছু ছবি। যেখানে দেখা যায় এক বিলাসবহুল পার্টির আয়োজন করেছিলেন কণিকা। লখনউয়ের নামিদামি আমলা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছাড়াও সেখানে হাজির ছিলেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া এবং তাঁর ছেলে দুষ্মন্ত সিং। পার্টির পরের দিন আবার দুষ্মন্ত সংসদেও গিয়েছিলেন। কণিকার কোভিড ১৯ পজিটিভ রিপোর্টের কথা জানতে পেরেই তড়িঘড়ি পরীক্ষা করান বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া এবং দুষ্মন্ত। রিপোর্ট আসে নেগেটিভ।
তবে ততক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। এরমধ্যেই আবার শোনা যায় যে লন্ডন থেকে ফেরার পর নাকি কণিকাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, সেসব না শুনে দিব্যি লোকজনের সঙ্গে দেখা করেন গায়িকা। পাশাপাশি আয়োজন করেন একটি পার্টির যেখানে হাজির ছিলেন প্রায় ৪০০ অতিথি। যদিও এইসবকিছুই অস্বীকার করেন কণিকা কাপুর। কিন্তু নেট দুনিয়ায় গায়িকাকে নিয়ে ট্রোলের বন্যা বইতে শুরু করেছিল সেসময়।
এমনকি কণিকার আচার-ব্যবহারেও ক্ষুব্ধ হন ডাক্তার-নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা। চিকিৎসকদের একাংশ বলেই বসেন যে সেলিব্রিটি স্ট্যাটাস না দেখিয়ে, তারকা সুলভ আচরণ না করে বরং কণিকার উচিত আর পাঁচজন সাধারণ রোগীর মত চিকিৎসকদের সঙ্গে সহায়তা করা। তাতেই ভাল হবে দু’পক্ষেরই।
আপাতত চতুর্থবারও রিপোর্টে কোভিড ১৯ পজিটিভ আসায় চিন্তায় রয়েছে কণিকার পরিবার। দুশ্চিন্তা করছেন গায়িকা নিজেও। তবে পরবর্তী রিপোর্ট যাতে নীগটিভ হয় এখন সেই আশাতেই রয়েছেন বিটাউনের এই গায়িকা।