
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 January 2025 19:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহু বিতর্ক শেষে মুক্তি পেল ‘ইমারজেন্সি।’ তারিখ পে তারিখের সময় শেষ। দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। ইমারজেন্সি শুনে সকলে ভাবছেন, এই সিনেমার পুরোটা জুড়ে হয়তো ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু না, এটা ভেবে সিনেমা দেখতে গিয়ে হতাশ হতে হবে। ইমারজেন্সিতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীই মুখ্য। বাকিটা রইল 'দ্য ওয়াল'-এর পাতায়।
কঙ্গনা রানাওয়াতের পরিচালনায় শুক্রবার মুক্তি পেল এই ছবি। ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় দেশের পরিস্থিতি, প্রশাসনের ভূমিকা, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত বিশ্লেষণ রয়েছে। তবে, এক্ষেত্রে পরিচালক কঙ্গনা সবচেয়ে বেশি যেটা তুলে ধরেছেন, তা হল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর জীবন ও তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা। কিছু জায়গায় মনে হতেই পারে, পরিচালকের অনেক কিছু বলার আছে তাই ছোট্ট পরিসরে তিনি সব বলার চেষ্টা করেছেন।
ছোট্ট ইন্দিরা গান্ধী তাঁর দাদার কাছ থেকে শিখছেন শক্তির অর্থ, এই দিয়ে শুরু হয় সিনেমা। কাট টু ১৯৬২ সালের চিন যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থি যেখানে ইন্দিরা গান্ধী অসমকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এরপরই জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের তিক্ততা ফুটে ওঠে স্ক্রিনে।
এরপর ছবিতে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কীভাবে মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাঁকে নিয়ে ব্যাঙ্গ করতেন। উপহাস করতেন। এসবের ঊর্ধ্বে গিয়ে তিনি কীভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন, তাও তুলে ধরা হয়। ছবিতে ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, ইন্দো-সোভিয়েত চুক্তি, সিমলা চুক্তি, পোখরান পারমাণবিক পরীক্ষা এবং পরবর্তী সময়ে ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক বিপর্যয় সবটাই দেখানো হয়। জরুরি অবস্থা ঘোষণা, বিরোধী নেতাদের আটক, গণমাধ্যমের ওপর চাপ-সহ কিছু বিষয় ছুঁয়ে গেলেও দেখানো হয়নি বিস্তারিতভাবে। নেই পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্যও।
প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ, দুইতেই মনে হয়েছে খুব তাড়াতাড়ি অনেক কথা বলার চেষ্টা করেছেন পরিচালক। সিনেমা দেখলে বোঝা যাবে গল্পের সঙ্গে নামের খুব একটা মিল নেই। নাম এক্ষেত্রে যথাযত নয়। অভিনয়ের দিক থেকে দেখলে, কঙ্গনা রানাউত তো ভালই কিন্তু তাঁর যে অভিনয় অনেকের চেয়ে আলাদা, সেটা এখানে দেখা যায়নি। ইন্দিরা গান্ধীকে অস্থির, অত্যন্ত দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে অনুপম খের ও সতীশ কৌশিক যথাক্রমে জয়প্রকাশ নারায়ণ ও এলকে আডবাণী হিসেবে ভীষণ ভাল অভিনয় করেছেন। শ্রেয়স তালপাড়ে অটল বিহারী বাজপেয়ীর চরিত্রে তেমন নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে পারেননি। সিনেমায় ব্যবহার করা গান ও তার দৃশ্য যথাযথ নয়। সিনেমা দেখার সময় বেশ কয়েকবার মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। গুগল করে নিতে হতে পারে।