ইডি সূত্রে খবর, রাজ কুন্দ্রার দখলে বর্তমানে মোট ২৮৫টি বিটকয়েন রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫০.৪৭ কোটি টাকা। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই বিটকয়েনগুলি তিনি পেয়েছিলেন গেইন বিটকয়েন পঞ্জি স্ক্যামের সঙ্গে যুক্ত ভরদ্বাজ গোষ্ঠীর কাছ থেকে।

শেষ আপডেট: 9 January 2026 13:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারি মামলায় নাম জড়ানোর পর ফের বড়সড় তদন্তের মুখে রাজ কুন্দ্রা। ৬০ কোটি টাকার প্রতারণা মামলার মধ্যেই এবার বিটকয়েন সংক্রান্ত কেলেঙ্কারিতে তাঁকে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই মামলায় আগামী ১৯ জানুয়ারি আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শিল্পা শেট্টির স্বামীকে।
ইডি সূত্রে খবর, রাজ কুন্দ্রার দখলে বর্তমানে মোট ২৮৫টি বিটকয়েন রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫০.৪৭ কোটি টাকা। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই বিটকয়েনগুলি তিনি পেয়েছিলেন গেইন বিটকয়েন পঞ্জি স্ক্যামের সঙ্গে যুক্ত ভরদ্বাজ গোষ্ঠীর কাছ থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউক্রেনে বিটকয়েন মাইনিং প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই ডিজিটাল সম্পদ রাজ কুন্দ্রার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।
যদিও প্রথমদিকে নিজেকে শুধুমাত্র ‘মধ্যস্থতাকারী’ বলে দাবি করেছিলেন রাজ কুন্দ্রা, তদন্তে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। ইডির বক্তব্য, ইউক্রেনে প্রস্তাবিত বিটকয়েন মাইনিং প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। তবুও ওই বিপুল সংখ্যক বিটকয়েন কুন্দ্রার দখলেই থেকে যায়। এমনকী তদন্ত চলাকালীনও তিনি এই ক্রিপ্টো সম্পদের উৎস ও হিসেব গোপন রেখেছেন বলেই অভিযোগ।
এই ক্রিপ্টো কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ২০১৭ সালে। ওই সময় অজয় ভরদ্বাজ, মহেন্দর ভরদ্বাজ এবং অমিত ভরদ্বাজ ‘ভেরিয়েবল টেক প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থা তৈরি করেন। এর হাত ধরেই শুরু হয় ‘গেইন বিটকয়েন’ নামে একটি পঞ্জি স্কিম। বিনিয়োগকারীদের বলা হয়েছিল, বিটকয়েনে লগ্নি করলে প্রতি মাসে ১০ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়া যাবে। এই আশ্বাসে বহু মানুষ তাঁদের সঞ্চয় বিনিয়োগ করে দেন।
তবে পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, প্রতিশ্রুত মুনাফা তো মেলেনি, উল্টে বিপুল অঙ্কের টাকা উধাও হয়ে যায়। দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে একাধিক বিনিয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার পর বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তকারীদের মতে, বিটকয়েন মাইনিংয়ের নাম করে প্রায় ৬,৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছিল। সেই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে রাজ কুন্দ্রার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগেও ইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, গেইন বিটকয়েন কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত অমিত ভরদ্বাজের কাছ থেকে ইউক্রেনে মাইনিং ফার্ম তৈরির উদ্দেশ্যে ২৮৫টি বিটকয়েন নিয়েছিলেন রাজ কুন্দ্রা। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি কখনও নিজের ডিজিটাল ওয়ালেটের ঠিকানা বা বিটকয়েন সংক্রান্ত পূর্ণ হিসেব আদালতে জমা দেননি বলে অভিযোগ।
প্রসঙ্গত, রাজ কুন্দ্রার নাম এর আগেও একাধিক আইনি বিতর্কে জড়িয়েছে। আইপিএল বাজি কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত মামলা এবং ৬০ কোটি টাকার আর্থিক তছরূপ, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। নতুন করে বিটকয়েন কেলেঙ্কারিতে তলব হওয়ায় তাঁর আইনি জটিলতা যে আরও বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।