ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় চ্যানেল RCTI-তে আর সম্প্রচার হবে না ডোরেমন। ৩৫ বছরের সফর থামায় আবেগে ভাসছে দর্শক ও নেটদুনিয়া।

ডোরেমন
শেষ আপডেট: 7 January 2026 23:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘জিন্দগি সওয়ার দু, ইক নায়ি বাহার দু…’ এই সুর কানে এলেই বহু মানুষের মন ছুটে যায় ছোটবেলার রবিবারের সকালে। কয়েক প্রজন্মের শৈশব মানেই নীল রোবট বিড়াল ডোরেমন (Doraemon) আর তার সঙ্গী নোবিতা। কিন্তু সেই রঙিন সফরের এ বার ইতি টানতে (Doraemon Goes Off Air) চলেছে ইন্দোনেশিয়ায়।
৩৫ বছরের দীর্ঘ যাত্রার শেষে ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল RCTI-র পর্দায় আর দেখা যাবে না ডোরেমন। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে প্রথমবার ইন্দোনেশিয়ায় সম্প্রচার শুরু হয়েছিল এই কার্টুন সিরিজের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা হয়ে উঠেছিল ঘরে ঘরে চেনা নাম। তবে ২০২৫ সালের শেষ দিকে প্রকাশিত RCTI-র অনুষ্ঠান সূচিতে ডোরেমন-এর নাম না থাকায় জল্পনা শুরু হয়। এরপর ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি স্পষ্ট হয়ে যায়, ডোরেমন আর সম্প্রচারিত হবে না।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। ইন্দোনেশিয়ার সিনেমা সংক্রান্ত একটি সংস্থার তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়, RCTI চ্যানেলের শিডিউল তালিকা থেকেই ডোরেমন উধাও। তবে কেন এই জনপ্রিয় কার্টুনটি বন্ধ করা হলো, সে বিষয়ে RCTI কর্তৃপক্ষ কোনও লিখিত বিবৃতি দেয়নি। চ্যানেলের এই নীরবতায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দর্শকরা।
প্রিয় শো বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন নেটিজ়েনরা। হাজার হাজার দর্শক RCTI-র কাছে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ডোরেমনকে সরিয়ে দেওয়া হলো? একই সঙ্গে ফের এই কার্টুন ফিরিয়ে আনার দাবিও জানানো হয়েছে। অনেক অনুরাগী আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন, ডোরেমন ছাড়া রবিবার এখন আর আগের মতো রঙিন লাগে না। কেউ কেউ আবার দাবি করেছেন, শুধুমাত্র এই কার্টুন দেখার জন্যই তাঁরা ওই নির্দিষ্ট চ্যানেলটি চালাতেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে জাপানের টিভি আসাহি-তে প্রথম সম্প্রচারিত হয়েছিল ডোরেমন। ইন্দোনেশিয়ায় এসে এই শো শুধু একটি কার্টুনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। শিশুদের বন্ধুত্ব, দায়িত্ববোধ এবং সাহসের পাঠ শেখানোর এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছিল নোবিতা-ডোরেমনের গল্প।