প্রায় দু’বছর আগে ফারহান আখতার ঘোষণা করেছিলেন, তিনি আবার পরিচালকের চেয়ারে ফিরছেন। ছবির নাম— ‘ডন ৩’

শেষ আপডেট: 12 February 2026 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় দু’বছর আগে ফারহান আখতার ঘোষণা করেছিলেন, তিনি আবার পরিচালকের চেয়ারে ফিরছেন। ছবির নাম— ‘ডন ৩’ (Don 3, Farhan Akhtar, Ranveer Singh)। হিন্দি ছবির ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় অ্যাকশন ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন অধ্যায়। কিন্তু ঘোষণার মুহূর্তেই এল বড় মোচড়। শাহরুখ খান আর ফিরছেন না ডনের ভূমিকায়। সেই আসনে বসবেন রণবীর সিং। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র বিরোধিতা। ফারহান, রণবীর এবং ছবির পুরো ইউনিটকে ঘিরে তৈরি হয় নেতিবাচকতার ঘন কুয়াশা।
সময়ের সঙ্গে সেই অশান্তি থামেনি, বরং নাকি আরও ঘনীভূত হয়েছে। শিল্পমহলের খবর, গত দু’বছরে ভেতরের টানাপড়েন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে শেষ পর্যন্ত ‘ডন থ্রি’ কার্যত থমকে গেছে। কারণ, ‘ধুরন্ধর’-এর মুক্তি এবং বিপুল সাফল্যের পর রণবীর সিং নাকি ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম জানায়, শুটিং শুরুর কয়েক মাস আগে প্রকল্প ছেড়ে দেওয়ার জন্য ফারহান আখতার নাকি রণবীরের কাছে ৪০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
এদিকে আরও এক প্রতিবেদনের খবর অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে প্রোডিউসার্স গিল্ড অফ ইন্ডিয়ার তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যেই দু’দফা বৈঠক হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা। সূত্রের বক্তব্য, কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা নয়, বরং বৃহত্তর একটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই ছিল আলোচনার উদ্দেশ্য—একজন প্রধান অভিনেতা যখন প্রি-প্রোডাকশনের শেষ পর্যায়ে এসে সরে দাঁড়ান, তখন বিপুল বিনিয়োগ করা প্রযোজকের হাতে কী বিকল্প থাকে? একইসঙ্গে অভিনেতার অবস্থানও খতিয়ে দেখা হয়। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কী ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
প্রথম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বর্ষীয়ান প্রযোজক, তাঁদের মধ্যে সাজিদ নাডিয়াদওয়ালা-ও ছিলেন। সেখানে রণবীরের সরে যাওয়ার পেছনের কারণ এবং অগ্রসর প্রি-প্রোডাকশনে পৌঁছে কোনও ছবি ভেঙে পড়লে তার প্রভাব কী, তা নিয়ে কথা হয়। দ্বিতীয় বৈঠক ছিল আরও বিস্তৃত। আমির খান, সিদ্ধার্থ রায় কাপুর, রমেশ তৌরানি, কুমার তৌরানি-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপতি উপস্থিত ছিলেন।
এই বৈঠকে প্রথমে রণবীরের বক্তব্য শোনা হয়। এক প্রযোজকের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, রণবীর অভিযোগ করেন যে এক্সেল এন্টারটেনমেন্ট যথেষ্ট পেশাদারিত্ব দেখায়নি এবং ‘ডন থ্রি’ দ্রুত ফ্লোরে নেওয়ার বিষয়ে তারা আন্তরিক ছিল না। তাঁর দাবি, ফারহানের কাছে কখনও পূর্ণাঙ্গ, বাউন্ড স্ক্রিপ্ট প্রস্তুত ছিল না। একজন অভিনেতা হিসেবে তিনি কেবল সম্পূর্ণ পরিণত চিত্রনাট্য নিয়েই কাজ করতে স্বচ্ছন্দ। আরও অভিযোগ, স্ক্রিপ্ট নিয়ে মতামত দিতে গেলে ফারহান তা গ্রহণে অনীহা দেখাতেন এবং কিছু উপকাহিনি অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আপত্তি ছিল তাঁর। এমনও নাকি অভিযোগ ওঠে যে, এক্সেল এন্টারটেনমেন্ট মাঝখানে হৃত্বিক রোশনকে নেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছিল এবং ‘ধুরন্ধর’-এর সাফল্যের পর রণবীরের গতি কাজে লাগাতে আবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে।
প্রতিবেদনটি আরও জানায়, প্রায় তিন বছর ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন রণবীর। তাঁর অভিযোগ, এই সময়ে ফারহান অভিনয়-সহ একাধিক পেশাগত ব্যস্ততায় ডুবে ছিলেন, অথচ ‘ডন ৩’র সৃজনশীল অগ্রগতি থমকে ছিল। রণবীরের বিশ্বাস, যে পরিসর ও মহিমার আশ্বাস দিয়ে তাঁকে নেওয়া হয়েছিল, চূড়ান্ত উপাদান সেই মানে পৌঁছতে পারেনি।
অন্যদিকে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফারহান আখতার এবং এক্সেল এন্টারটেনমেন্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রীতেশ সিধওয়ানি। তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে ভিন্ন ছবি তুলে ধরেন। ফারহান নথিপত্র পেশ করে জানান, রণবীর কখনও স্ক্রিপ্ট নিয়ে আপত্তি তোলেননি। বরং অমিতাভ বচ্চন ও শাহরুখ খানের পর তৃতীয় প্রজন্মের ডন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে তিনি উৎসাহী ছিলেন। ফারহানের দাবি, নিয়মিত বিরতিতে স্ক্রিপ্ট শেয়ার করা হয়েছে এবং প্রতিটি ধাপেই রণবীর সম্মতি দিয়েছেন।
এক্সেল এন্টারটেনমেন্ট গিল্ডকে জানায়, রণবীরের সরে যাওয়ায় তাঁদের প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে, যদিও অভিনেতার বেশ কিছু দাবি মেনেও নেওয়া হয়েছিল। ফারহান ও রীতেশ নাকি এই অর্থ ফেরত পেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পাশাপাশি প্রযোজক সংগঠনগুলির কাছে তাঁদের আবেদন, অযৌক্তিক তারকাসুলভ দাবির বিরুদ্ধে স্পষ্ট নীতি প্রণয়ন করা হোক। অন্যদিকে, রণবীরের ঘনিষ্ঠদের দাবি, সম্ভাবনাময় এক ফ্র্যাঞ্চাইজিকে যেভাবে সামলানো হয়েছে, তাতে তিনি গভীরভাবে হতাশ।
এক সূত্রের ভাষায়, এটি এখন দুই পক্ষের সরাসরি লড়াই। ফারহান ও রীতেশ ক্ষতিপূরণ আদায়ে অনড়। ফারহান নাকি গিল্ডকে অনুরোধ করেছেন, রণবীর-সহ অন্যান্য অভিনেতার অযৌক্তিক চাহিদা রুখতে প্রস্তাব আনতে।
অন্যদিকে রণবীর মনে করেন, সম্ভাব্য ‘ক্যাশ কাউ’ হিসেবে যে ‘ডন থ্রি’ এগোতে পারত, সেটিকে অত্যন্ত হালকাভাবে নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ফ্লোরে যাওয়ার আগেই যদি এমন জটিলতা থাকে, তবে শুটিং চলাকালীন অপেশাদার বিশৃঙ্খলা কল্পনা করাই কঠিন।