
শেষ আপডেট: 8 June 2021 15:38
মহানায়ককে নিয়ে বাঙালির যেমন গর্বের শেষ নেই ঠিক তেমনই ভাঁটা পড়ে না আগ্রহেও। মাত্র ৫৪ বছর বেঁচে ছিলেন উত্তম কুমার। গ্ল্যামার জগতের শীর্ষে পৌঁছে নেহাতই সাধারণের ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছিলেন। উত্তমের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কম কাঁটাছেড়া হয়নি। তবু এখনও হয়তো অজানা থেকে গেছে মহানায়কের ঘটনাবহুল জীবনের গোপন কোনও পর্ব।
জানেন কি, মৃত্যুর মাত্র বছর খানেক আগেই একবার আমেরিকা গিয়েছিলেন উত্তম কুমার! সঙ্গে ছিলেন প্রেয়সী সুপ্রিয়া দেবী। জীবনে ওই একটিবারই মার্কিন মুলুকে পা রেখেছিলেন মহানায়ক। ছিলেন টানা দেড় মাস।
এর আগে অবশ্য একাধিকবার ইউরোপে গিয়েছিলেন উত্তম। সঙ্গে ছিলেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায়। তবে আমেরিকা সফর বলতে ওই একটাই। উত্তম-সুপ্রিয়া জুটিতে সফর।
আরও পড়ুনঃ ‘অগ্নিপরীক্ষার’ পোস্টার বিতর্কে নাকি ঘি ঢেলেছিলেন গৌরী-দিবানাথ, উত্তমের জীবনে এমন কত যে গল্প
নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ওয়াশিংটন, ক্যালিফোর্নিয়া, বালতিমোর, সুপ্রিয়া দেবীর হাত ধরে আমেরিকার অলিগলি ঘুরে দেখেছিলেন উত্তম কুমার। গিয়েছিলেন কানাডাতেও। শোনা যায়, বিদেশের রাস্তাঘাটে যাঁরাই তাঁকে দেখেছিলেন, তাঁরাই মুগ্ধ হয়েছিলেন। রূপে নয়, অমায়িক, মিশুকে ব্যবহার আর ভুবন ভোলানো সেই হাসিতে।
আমেরিকা গিয়ে এক পরিচিতের বাড়িতেই থাকছিলেন উত্তম সুপ্রিয়া। সেসময় একবার মহানায়কের জন্মদিন পালনের হিরিকও উঠেছিল। বিদেশি ভক্তরা নাছোড়বান্দা, কানাডার বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে পার্টি চাই। চাই নাচ-গান হইহুল্লোড়। কিন্তু উত্তম কুমার সেসব চাননি। বাড়িতেই ছোটোখাটো সেলিব্রেশন হয়েছিল।
উত্তম কুমার কিন্তু ভাল গান গাইতে পারতেন। পরিচিতরা সকলেই বলেছেন তাঁর গানের গলা সুন্দর, সুরও আছে ভরাট। আমেরিকা গিয়ে নাকি টুকটাক গান গেয়ে ভক্তদের মনোরঞ্জন করতেন মহানায়ক। গাইতেন রবীন্দ্রসংগীত। বড় পর্দায় যাঁর অভিনয় দেখে মুগ্ধ দর্শকরা, তাঁর গলায় রবি ঠাকুরের এমন গান প্রবাসী বাঙালিদের অবাক করেছিল বইকি।
১৯৮০ সালে শ্যুটিং ফ্লোরেই ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয় উত্তম কুমারের। তড়িঘড়ি বেলভিউ ক্লিনিকে ভর্তি করা হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান তিনি। বাংলা সিনেমায় শেষ হয় একটা স্বর্ণযুগ। এতগুলো বছর কেটে গেছে। গানে গল্পে আড্ডায় আমেরিকার উত্তমময় বিকেলগুলো আজও ভোলেননি মহানায়কের প্রবাসী ভক্তরা।