টলিউড-বলিউডের কানাঘুষো এখন হেডলাইনে!সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার আসন্ন ছবি ‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের বিপরীতে অভিনয় করার শর্ত নিয়ে দীপিকা পাড়ুকোন এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। ৮ ঘণ্টার শুটিং, ২০ কোটি টাকার পারিশ্রমিক! এবং তেলুগু না বলার অনুরোধ—এই তিনটি দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে দ্বিমত। কেউ বলছেন, ‘বড্ড বেশি চাওয়া’, আবার অনেকেই বলছেন, ‘এই তো একজন সুপারস্টার নিজের প্রাপ্য চাইছে’। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, একজন মহিলা সুপারস্টার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেই কেন এত হইচই?

দীপিকা
শেষ আপডেট: 22 May 2025 15:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টলিউড-বলিউডের কানাঘুষো এখন হেডলাইনে!সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার আসন্ন ছবি ‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের বিপরীতে অভিনয় করার শর্ত নিয়ে দীপিকা পাড়ুকোন এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। ৮ ঘণ্টার শুটিং, ২০ কোটি টাকার পারিশ্রমিক! এবং তেলুগু না বলার অনুরোধ—এই তিনটি দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে দ্বিমত। কেউ বলছেন, ‘বড্ড বেশি চাওয়া’, আবার অনেকেই বলছেন, ‘এই তো একজন সুপারস্টার নিজের প্রাপ্য চাইছে’। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, একজন মহিলা সুপারস্টার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেই কেন এত হইচই?
দীপিকার দাবি—অন্যায়, না যুক্তিসঙ্গত?
ট্রেড সার্কিটে ঘুরে বেড়ানো রিপোর্ট অনুযায়ী, দীপিকা নাকি এই তিনটি শর্তে রাজি হয়েছেন ‘স্পিরিট’-এ কাজ করতে:
১. ৮ ঘণ্টার কাজের দিন
২. ২০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক এবং লাভে ভাগ
৩. তেলুগু ডায়লগ না বলা
এরপরই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে প্রোডাকশন হাউস পর্যন্ত নানা গুঞ্জন—এ নাকি ‘অতিরিক্ত অ্যাটিটিউড’! কেউ কেউ বলছেন, দীপিকা হয়তো এই ছবিটা হাতছাড়া করতে পারেন। কিন্তু একটু দূর থেকে দেখলে, চিত্রটা অন্যরকম।
৮ ঘণ্টা কাজ—তাতে সমস্যা কোথায়?
দীপিকার কাজের সময় নির্ধারণ ঘিরে যতই বিতর্ক হোক, বলিউডে এমন নজির আগে থেকেই আছে। নব্বইয়ের দশকে শাহরুখ খান, সলমন খান, আমির খানরা দিনে তিন-তিনটে শিফটে কাজ করতেন।
অক্ষয় কুমার তো সকালবেলা শুটিং শুরু করে সন্ধ্যার মধ্যে ফিনিশ করে ছুটি নেন—উপরন্তু সপ্তাহান্তে বিশ্রাম নেন। সলমন খান ‘সুলতান ছবির শুটিংয়ের সময় নিজের ট্রেনিং টাইমকেও কাজের সময়ের মধ্যে ধরতেন—তখন কেউ প্রশ্ন তোলে না।
তবে দীপিকা যখন সদ্য মা হয়েছেন, তখন তো এটা আরও গুরুত্বপূর্ণ। একজন নতুন মা হিসেবে তাঁর স্বাস্থ্য, পরিবার, ও ক্যারিয়ারের মধ্যে ভারসাম্য আনা একেবারে স্বাভাবিক ও প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত।

তেলুগু না বলা—তা নিয়ে এত বিতর্ক কেন?
দীপিকা নাকি ‘স্পিরিট’-এ তেলুগু ভাযায় ডায়ালগ বলতে চাননি। অনেকেই বলছেন, এতে ছবির প্রামাণিকতা কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে দক্ষিণী ছবিতে হিন্দি ডাবিং খুব স্বাভাবিক। প্রভাস নিজেও বাহুবলী কিংবা সালার ছবির হিন্দি ভার্সনে নিজের ডায়ালগ বলেননি, বরং শারদ কেলকর তাঁর ভয়েস দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠছেই—তা হলে দীপিকা তেলুগু না বললে সমস্যা কোথায়? সব অভিনেতা কি নতুন ভাষা শিখে নিখুঁতভাবে সংলাপ বলতে পারেন? বরং ভুল উচ্চারণে বলা ডায়ালগ পুরো পারফরম্যান্সকেই নষ্ট করে দিতে পারে। ভাষাগত গ্রহণযোগ্যতা ও অভিনয়ের ভারসাম্যের জন্য ডাবিং তো একেবারেই গ্রহণযোগ্য সমাধান।

‘পেমেন্ট’ মানে শুধু টাকা নয়, সম্মানও
দীপিকার দাবি মূলত সম্মান ও সমতার। আগেও তিনি একবার একটা ছবিতে কাজ করতে রাজি হননি, কারণ প্রযোজক জানিয়ে দেন, হিরোর পারিশ্রমিক ম্যানেজ করতে গিয়ে তাঁর পারিশ্রমিক কমাতে হবে। একটি আলোচনা সভায় দীপিকা বলেছিলেন, ‘আমি জানি আমি কী অ্যাচিভ করেছি। ওঁর (পুরুষ অভিনেতার) শেষ কয়েকটা ছবি চলেনি, আর আমার ছবি হিট হয়েছে। তা হলে কেন আমি কম টাকা নেব? আমি নিজের কাজ, নিজের অবদান, নিজের মূল্য বুঝি।’
এই মনোভাবই আজকের দিনেও প্রাসঙ্গিক। হলিউডে জেনিফার লরেন্স থেকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া পর্যন্ত বহু অভিনেত্রী এই অসমতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। পুরুষ তারকারা ১০০ কোটির পারিশ্রমিক দাবি করলে তাঁকে বলা হয় ‘স্ট্র্যাটেজিক’। আর কোনও নারী সুপারস্টার একই রকম দাবি তুললেই তাঁকে ‘ডিভা’ তকমা দেওয়া হয়—এই বৈষম্য নিয়েই তো প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে।

‘প্রাপ্য’ চাইলে দোষ কোথায়?
‘পদ্মাবত’, ‘পাঠান’, ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’, ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’—দীপিকার হিট ছবির তালিকা দীর্ঘ। তিনি যদি মনে করেন তাঁর অবদানের নির্দিষ্ট মূল্য রয়েছে তাহলে সেটা নিয়ে আলোচনায় বসা তো স্বাভাবিক। মেকাররা রাজি হবেন কি না, সেটা পরবর্তী ধাপ। কিন্তু শুধু দাবি তোলার জন্য তাঁকে তিরস্কার করা মানেই ইন্ডাস্ট্রির জেন্ডার বায়াসের মুখোশ খুলে যাওয়া। সোজা কথায়, ‘যা পুরুষ করলে বুদ্ধিমত্তা, তা মহিলা করলে ‘দেমাগ’—এই মানসিকতা এবার বদলানো দরকার।’ দীপিকা যা চেয়েছেন, সেটা অধিকার। সেটা সম্মানের দাবিও বটে। আর সম্মান তো, কোনও তারকার প্রাপ্য হওয়া উচিত—লিঙ্গ নির্বিশেষে।