‘টদ্মশ্রী’ শব্দটা পদ্ম সম্মানের জন্য অপমানজনক। তার উপর দেব সংসদীয় রাজনীতিতে রয়েছেন। একজন সাংসদ এভাবে পদ্মশ্রী পুরস্কার নিয়ে বললে তাতে স্বাভাবিক খারাপ লাগা তৈরি হয়। তার উপর সেই কথাটি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে বলা হয়। যাঁকে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে এখনও প্রায় সকলে ‘ইন্ডাস্ট্রি’ বলে মর্যাদা দেন। বুধ সন্ধ্যায় ওই এক শব্দবন্ধ অনেককে হতভম্ব করে দেয় বলে জানা যায়।

শেষ আপডেট: 30 January 2026 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার ইম্পার ডাকা স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকে ঝড় বয়ে গেছিল। জানা যায়, ওই বৈঠকে দেব (Dev) এমন কিছু কথা বলেন, যাতে অপমানিত বোধ করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)। এক মাত্র ‘দ্য ওয়ালে’ সেই খবর সবার আগে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে প্রসেনজিতের ঘনিষ্ঠ সূত্রে এও বলা হচ্ছে, ‘দাদা (প্রসেনজিৎ) মনে করছেন, দেব আজকালের মধ্যেই তাঁকে ফোন করবেন। তার পর বলবেন, ওভাবে বলতে চাইনি গো। তার পর সব মিটমাট হয়ে যাবে’।
দেখা গেল হলও তাই। শুক্রবার দুপুরে প্রসেনজিৎ ও তৃষাণজিতের সঙ্গে দুটি ছবি পোস্ট করেন দেব। ছবির ক্যাপশনে লেখা ‘Emni’। তবে দেবের পোস্ট দেখে সবে যখন কৌতূহল তৈরি হচ্ছে যে, ব্যাপারটা সত্যিই এমনি কিনা, ঠিক সেই সময়েই দেবের পোস্ট শেয়ার করে ‘কাকাবাবু’ রহস্যের সমাধান করে দেন।
পোস্টে প্রসেনজিৎ লেখেন, “তুই এলি, কথা বললি, ভাল লাগলো। নিজের খারাপ লাগা গুলোকে সরিয়ে বাড়ির ভুলবোঝাবুঝি গুলো কে সামলানোটাই মনে হয় বড়দের কাজ। ভাল থাক। আদর। ”
সূত্রের খবর, বুধবার ইম্পার বৈঠকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এক সময়ে বিনীতভাবে বলেছিলেন,“আমরা সবাই মিলে এই স্ক্রিনিং কমিটি তৈরি করেছি। যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিলে তা ইন্ডাস্ট্রির ভালই করবে।” এই মন্তব্যের জবাবে দেব নাকি বলেন, “আজকাল তো তোমার কথাই শুনতে হবে। কারণ তোমার ছবি এখন দারুণ চলছে—(বিজয়নগরের হিরে), তার উপর আবার পদ্মশ্রী-টদ্মশ্রী পেয়েছ।”
‘টদ্মশ্রী’ শব্দটা পদ্ম সম্মানের জন্য অপমানজনক। তার উপর দেব সংসদীয় রাজনীতিতে রয়েছেন। একজন সাংসদ এভাবে পদ্মশ্রী পুরস্কার নিয়ে বললে তাতে স্বাভাবিক খারাপ লাগা তৈরি হয়। তার উপর সেই কথাটি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে বলা হয়। যাঁকে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে এখনও প্রায় সকলে ‘ইন্ডাস্ট্রি’ বলে মর্যাদা দেন। বুধ সন্ধ্যায় ওই এক শব্দবন্ধ অনেককে হতভম্ব করে দেয় বলে জানা যায়।
বৃহস্পতিবার ‘দ্য ওয়াল’-এ সবার আগে সেই খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সেই খবরে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়াও প্রকাশিত হয়েছিল। অতিশয় শান্ত গলায় প্রসেনজিৎ ‘দ্য ওয়াল’কে বলেছিলেন, “এই বিষয়ে আমি বাইরে কিছু বলব না। আমি এটাই বরাবর মেনটেন করেছি। আমার শিক্ষা ও সংস্কৃতি আমাকে সেভাবেই চালিত করে।”
ওদিকে ইন্ডাস্ট্রিতে দেবের অনেক বন্ধু ও পরিজন খবরটি খণ্ডন করেন। কেউ কেউ ব্যাপারটি লঘু করার চেষ্টা করে বলেন, দেব ওভাবে বলতে চাননি। কিন্তু ঘটনা হল, দেব ব্যক্তিগত ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। এ ব্যাপারে দ্য ওয়ালের টেক্সট মেসেজেরও কোনও উত্তর দেননি।
কিন্তু এদিন যেভাবে প্রসেনজিৎ পোস্টে ‘খারাপলাগা’ বা ‘ভুল বোঝাবুঝি’ শব্দগুলো লিখেছেন, তাতে বৃহস্পতিবারের খবরের সত্যতাও স্পষ্ট হয়ে গেল বলেই মনে করা হচ্ছে।
টলিউডের এক প্রবীণ পরিচালকের কথায়, ‘আমাদের টলিপাড়া বলিউডের মতো অতো বিস্তৃত নয়। ছোট একটা পাড়া, ছোট সংসার। কখনও সখনও কারও কথায় কারও খারাপ লাগতে পারে। অপমানিত বোধ করতে পারেন। যিনি ওই কথাগুলো বলেছেন, তিনি হয়তো সত্যিই সাত-সতেরো ভেবে বলেননি। কিন্তু তার পর যদি নিজেদের মধ্যে কথা বলে ভুল বোঝাবুঝি মিটে যায়, তার চেয়ে ভাল কী হতে পারে!’ তাঁর কথায়, ‘ইগো ছেড়ে জড়িয়ে ধরাটাও তো কম কথা নয়’।
তবে ঘটনা হল, টলিপাড়ায় ইদানীং ঠোকাঠুকিটা খুব ঘনঘনই হচ্ছে। আজ যিনি এক জনের বিরুদ্ধে সোশাল মিডিয়ায় গালমন্দ করছেন, কাল তিনি ফের গলায় গলায়। ফলে টলিপাড়ার সংসার গোছাতেই বছরের অনেকটা সময় লেগে যাচ্ছে। তার উপর রয়েছে কখনও ফেডারেশন-পরিচালক গিল্ডের সমস্যা, কখনও আবার ছবি মুক্তি ঘিরে চাপানউতোর। ইম্পার বুধবারের বৈঠক সেই প্রেক্ষাপটেও জরুরি ছিল বলে অনেকের মত।
বাংলা ছবির বাজারে যখন কোনও হিন্দি ছবি রমরমিয়ে ব্যবসা করে চলে, প্রাইম টাইম ব্লক করে দেয়, তখন কলকাতার বুকে বেশ কিছু ছবির শো পেতে নাজেহাল হতে হয়। সেই জায়গায় প্রয়োজন ছিল সমস্বরে কথা বলার। সেই সূত্রেই স্ক্রিনিং কমিটি তৈরি করা হয়েছিল।
শুক্রবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিতর্ক প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রযোজক রানা সরকারও সেদিকে আলোকপাত করেন। তিনি লেখেন, ‘লড়াইটা ছিল হিন্দি সিনেমার বিরুদ্ধে, এখন তো আমরা নিজেদের মধ্যেই লড়াই করছি। স্ক্রিনিং কমিটির ভিতরের কথা যখন উদ্দেশ্যমূলক ভাবে মিডিয়ার কাছে বলে দেওয়া হচ্ছে, তবে এবার সেটাই আরও বিশদে বলা শুরু করি?’
প্রসঙ্গত, চলতি বছর পুজোয় মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে বেশ কয়েকটি বাংলা ছবি। তার আগেও একগুচ্ছ ছবি পাইপলাইনে রয়েছে। কোন ছবি কবে মুক্তি পাবে, যাতে বক্স অফিস লড়াই এড়ানো সম্ভবপর হয়, সেই উদ্দেশ্য নিয়ে সেদিন আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে সেই আলোচনা এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। যা দেখে মনে করা হচ্ছে, এই আখ্যান বা উপাখ্যান এখনই থামার নয়। নতুন পর্ব শিগগির আসছে। তার আগে দেবের ‘এমনি’ ছবি পোস্ট হয়তো শুধু ‘জলপানের বিরতি’।