
শেষ আপডেট: 8 December 2023 10:34
'গাইড', 'বাজি', 'সিআইডি', 'জুয়েল থিফ'- এসব রেট্রো ছবি যদি বড়পর্দায় আবার দেখা যায়, কেমন লাগবে? ঠিক সেই স্বপ্ন সত্যি হল এবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। এই প্রজন্মের হাতে এল সুবর্ণ সুযোগ। দেব আনন্দের একের পর এক হিট ছবি আবার বড়পর্দায় দেখার সৌভাগ্য হতে চলেছে। দেব আনন্দ-এর ছবি মানেই গুরু দত্তর পরিচালনা দেখার সুযোগ, ওয়াহিদা রহমান থেকে বৈজয়ন্তীমালা, তনুজা, হেমা মালিনীদেরদের দেখার সুযোগ। সঙ্গে পর্দায় গীতা দত্ত, লতা মঙ্গেশকর, কিশোর কুমারের মতো শিল্পীদের অবিস্মরণীয় গান এবার ভেসে উঠবে কলকাতা শহরের বড়পর্দায়।
বেঁচে থাকলে এই বছর শতবর্ষে পা দিতেন দেব আনন্দ। গত ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে ১০০ বছর পূর্ণ করেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা দেব আনন্দ। তিনিই বলিউডের একমাত্র হিরো যিনি যুগে যুগে তাঁর রোম্যান্টিক আবেদন ধরে রেখেছেন। ১৯৪৬ থেকে ২০১১, দশকের পর দশক তিনি নানা রূপে পর্দায় আবির্ভূত হয়েছেন। দেব আনন্দ যতটা বম্বের, ততটাই বাংলার। বাংলা ছবিতে তিনি কখনও অভিনয় করেননি, কিন্তু বাংলার সঙ্গে, কলকাতার সঙ্গে রয়ে গেছে তাঁর নানা স্মৃতি, নানা কাজের সফর।
দেব সাহেবের প্রিয় শহর ছিল কলকাতা। তাই তাঁর বেশিরভাগ ছবির প্রিমিয়ার তিনি করতেন কলকাতায়। তিলোত্তমায় সশরীরে হাজির হতেন দেব আনন্দ। কিংবদন্তি এই অভিনেতার প্রথমবার কলকাতা আসা ১৯৫১ সালে তাঁর 'বাজি' ছবির কলকাতা প্রিমিয়ারে। সে বার গুরু দত্ত উদয় শংকরের সঙ্গে দেবের আলাপ করিয়ে দেন। সেই বাজি ছবি এবার দেখা যাবে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে। এরপর 'ট্যাক্সি ড্রাইভার' ছবির প্রিমিয়ারে ১৯৫৪ সালে আবার কলকাতায় আসেন দেব। 'রক্সি' সিনেমাহলে দেব আনন্দকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন প্রবাদপ্রতিম পরিচালক অজয় কর।
তারপর থেকে দেব আনন্দ তাঁর স্মরণীয় সুপারহিট ছবি কলকাতায় রিলিজ করলে অনেকবারই কলকাতায় এসেছেন। 'সিআইডি', 'হাম দোনো', 'তেরে ঘরকে সামনে', 'গাইড', 'জুয়েল থিফ', 'হরে রামা হরে কৃষ্ণ', 'হীরা পান্না' সব ছবির প্রচারেই কলকাতায় এসেছেন কিংবদন্তি দেব সাহেব। ১৯৮০ সালে কলকাতায় এসে দেব আনন্দ ফাটাকেষ্টর কালীপুজোর উদ্বোধন করেছিলেন। তখন তাঁর শহরে আসার মূল কারণ ছিল কলকাতায় 'লুটমার' ছবির প্রিমিয়ার। দেব যতবার কলকাতায় এসেছেন, তাঁকে ঘিরে তৈরী হয়েছে বিশাল উন্মাদনা।
তাই কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এই বছর দেব আনন্দ রেট্রোস্পেকটিভ-এর আয়োজন করেছে। নন্দন থেকে শুরু করে রাধা স্টুডিও সহ আরও বিভিন্ন সিনমাহলে দেখা যাবে দেব আনন্দের ছবি।
মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এই বছর ২৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের বড় চমক দেব আনন্দ। সেখানে জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে বলিউডের এভারগ্রিন নায়ক দেব আনন্দকে। তাঁর সারা জীবনের বিভিন্ন সিনেমার নানা চরিত্রের ছবি ও পোস্টার দিয়ে সাজানো হয়েছে গগনেন্দ্র প্রদর্শনশালা। বুধবার এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন হরনাথ চক্রবর্তী, সুদেষ্ণা রায়, অরিন্দম শীল ও শুভাপ্রসন্ন ।
বাবা বিশ্বজিতের সৌজন্যে দেব আনন্দকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন প্রসেনজিৎ। তিনি জানিয়েছেন, "দেব আনন্দজী সব সময় দু'টো সিঁড়ি বাদ দিয়ে দিয়ে উঠতেন। সেটা দেখার পর থেকে আমিও কখনও সব সিঁড়ি ভেঙে উঠি না। স্টেপ জাম্প করে উঠি।" তিনি আরও বলেন, "দেব আনন্দ আজীবন নায়ক। ওঁর প্রত্যেকটা সিনেমা মনে রাখার মতো। কোনও প্রজন্মের কাছে 'গাইড' ছবি কোনওদিন পুরনো হবে না। দেব আনন্দ চিরসবুজ। তিনি সব সময়ের নায়ক।"
দেব আনন্দ অভিনীত 'সাজা', 'জনি মেরা নাম', 'গাইড', 'জুয়েল থিফ', 'জিৎ , 'সিআইডি', 'বাজি' ছবিগুলি দেখানো হবে এবারের চলচ্চিত্র উৎসবে। আসুন এক লহমায় দেখে নিই কবে কোন প্রেক্ষাগৃহে দেব আনন্দের ছবিগুলি দেখা যাবে।
টানা ছয় দশক ধরে হিন্দি সিনেমায় রাজত্ব করেছেন দেব আনন্দ। ১০০-র বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন এভারগ্রিন মেগাস্টার। চারটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড থেকে শুরু করে দাদা সাহেব ফালকে, পদ্মভূষণে সম্মানিত করা হয়েছে তাঁকে। 'সিআইডি' থেকে শুরু করে 'গাইড', তাঁর সুপারহিট ছবির তালিকা দীর্ঘ। দেব আনন্দ অভিনীত ৭টি ছবি প্রদর্শিত হবে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। একদম হাতছাড়া করবেন না রুপোলি পর্দায় দেব আনন্দকে দেখার সুযোগ। চলচ্চিত্র উৎসবে ভিন্ন ধারার ছবির পাশাপাশি মেনস্ট্রিম ছবিকেও যেভাবে সম্মানের সঙ্গে প্রদর্শন করা হচ্ছে তা প্রশংসনীয়।