দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুশান্ত সিংহ রাজপুতের অকালমৃত্যু অনেকগুলো প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই মৃত্যু যেমন একদিকে বলিউড জগতের অন্তরের আঁধার ও অন্যায়গুলিকে আঙুল দেখিয়েছে, অন্য দিকে তেমনই প্রশ্ন তুলেছে, ডিপ্রেশন বা অবসাদকে কোন চোখে দেখে আমাদের পারিপার্শ্বিক। অবসন্ন একটি মানুষ কি তাঁর প্রাপ্য যত্নটুকু পান? আমরা কি আদৌ ভাবি, মানসিক অবসাদে চিকিৎসা প্রয়োজন?
এই প্রশ্নের মুখেই টুইট করলেন দীপিকা পাড়ুকোন। তিনি এই বার্তা দিলেন, অবসাদ আর পাঁচটা অসুখের মতোই। এটা হলে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া দরকার, চিকিৎসা দরকার। তিনি লেখেন, "সবাই আমার সঙ্গে বলো, ডিপ্রেশন হল যে কোনও অন্য অসুখের মতোই একটা অসুখ।"
https://twitter.com/deepikapadukone/status/1273127652501729281
দীপিকার এই টুইটে অবশ্য নেটিজেনদের একাংশ মোটেই খুশি হননি। তাঁরা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন বলিউডের স্বজনপোষণের কথা, ডাক দিয়েছেন বলিউড বয়কট করার। তাঁর মন্তব্য করেছেন, ডিপ্রেশন আসলে কী তা নিয়ে মাথা না ঘআমিয়ে দীপিকার বলা উচিত বলিউড আসলে কতটা বিষাক্ত।
রবিবার সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই ভেঙে পড়েছিলেন দীপিকা। তিনি সেদিনই টুইট করেছিলেন, তিনি লেখেন, "মানসিক অবসাদে যারা ভুগছেন তাদের বারবার অনুরোধ করছি। এগিয়ে আসুন, কথা বলুন। তুমি একা নও। আমরা একসঙ্গে এই মানসিক অবসাদকে হার মানাব। আশার আলো খুঁজে পাবই। কথা বলো। জানাও নিজের কথা। সাহায্য চাও।"
বস্তুত, এই প্রথম নয়। দীপিকা পাডুকোন কিন্তু আগেও এ বিষয়ে কথা বলেছেন। সম্ভবত তিনি সেই সমস্ত কম সংখ্যক তারকাদের মধ্যে পড়েন যিনি নিজের মানসিক অবসাদ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। সেই বিষয় অসংখ্য সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। মানসিক অবসাদ যে লুকিয়ে রাখার জিনিস নয়, তা তিনি আগে বারবারই বলেছেন। সুশান্তের মৃত্যুর পরেও তিনি বেশ কিছু সাক্ষাৎকারে নিজের সেই মুহূর্তগুলির কথা বলতে বলতে কেঁদেও ফেলেন।
আজও আরও একবার সে কথাই বললেন দীপিকা। মানুষের মনে ঢুকিয়ে দিতে চাইলেন, অবসাদের গুরুত্ব। মানসিক অসুখ যে অন্য রকম কোনও অসুখের মতোই নিরাময়যোগ্য, সে কথাও বোঝাতে চাইলেন এই বার্তার মাধ্যমে।
দীপিকার এই সচেতনতার বার্তা অবশ্য শুধুই মৌখিক নয়। তাঁর নিজের ‘দ্য লাইভ লাভ লাফ ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠনও রয়েছে। এ সংগঠন সচেতনতা বাড়াতে ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে কাজ করছে অনেক দিন ধরেই।