পরিচালক রোহন সিপ্পি জানেন, পুরনো ছাঁচে ঢেলে দিলে আজকের দর্শক মুখ ফিরিয়ে নেবেন। তাই চতুর্থ সিজনের প্রতিটি পর্ব সাজানো হয়েছে নতুন নতুন টুইস্টে। আট পর্বে আটটি রহস্য।

নতুন সিজন
শেষ আপডেট: 29 May 2025 23:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো:
ছবি: Criminal Justice: A Family Matter
অভিনয়ে: পঙ্কজ ত্রিপাঠী, সুরভিন চাওলা, মোহম্মদ জিশান আয়ুব, স্বস্তিকা মুখার্জি
পরিচালনা: রোহন সিপ্পি
রেটিং: ⭐️⭐️⭐️⭐️⭐️⭐️⭐️⭐️⚪️⚪️ (৮/১০)
যখন কোনও বিবাহিত পুরুষের প্রেমিকা খুন হন, তখন প্রথম সন্দেহ গিয়ে পড়ে সেই পুরুষ এবং তাঁর স্ত্রীর ওপর। ‘Criminal Justice: A Family Matter’ অর্থাৎ এই জনপ্রিয় সিরিজের চতুর্থ সিজন সেই পুরনো বুনটেই গাঁথা—তবে এই কাহিনিতে যখন পরকীয়া করা পুরুষের ভূমিকায় মোহম্মদ জিশান আয়ুব এবং স্ত্রীর ভূমিকায় সুরভিন চাওলা, আর বিচারব্যবস্থার একান্ত নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হিসেবে হাজির মাধব মিশ্র ওরফে পঙ্কজ ত্রিপাঠী—তখন গল্পটা আর ‘সাধারণ’ থাকে না।
পরিচালক রোহন সিপ্পি জানেন, পুরনো ছাঁচে ঢেলে দিলে আজকের দর্শক মুখ ফিরিয়ে নেবেন। তাই চতুর্থ সিজনের প্রতিটি পর্ব সাজানো হয়েছে নতুন নতুন টুইস্টে। তিনটি পর্বে তিনটি রহস্য। প্রত্যেক পর্বে নতুন এক চরিত্র, নতুন এক ব্যথা, নতুন এক প্রশ্ন।

নতুন সিজনের শুরুতেই দেখা যায়—মাধব মিশ্র এক কর্পোরেট আইন সংস্থায় চাকরি করতে যাচ্ছেন। নতুন স্যুট, নতুন অফিস, আর তাঁর মুখে পুরনো সেই বিনয়ী ভঙ্গি। সকালবেলা নতুন স্যুট পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মাধব মিশ্র। আজ তাঁর প্রথম দিন, এক বড় কর্পোরেট আইন সংস্থায়। স্ত্রী বললেন, “আজ আমার আসল কেরিয়ার শুরু।” কিন্তু মাধব জানতেন, জীবনের ছক এত সোজা হয় না। ঠিক যেমনটা তিনি ভেবেছেন, তেমনটাতো একেবারেই নয়।
অফিসে ঢোকার আগেই তাঁর কাছে এল এক নতুন মামলা—একটি খুন, যেটা শোনা মাত্রই চোখে মুখে ছায়া ফেলল এক অন্যরকম কৌতূহলের। এক নার্স, রোশনি সলুজা, খুন হয়েছেন। আর এই খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁরই রোগী ও প্রেমিক, ডঃ রাজ নাগপালের নামে।
রাজ নাগপাল—উচ্চবিত্ত এক পরিবারের ডাক্তার। তাঁর স্ত্রী অঞ্জু’র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন। মেয়ের জন্মদিনের পরদিন নিজের বাড়িতে রোশনির নিথর দেহ নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাজ—পুলিশ এসে তাঁকে হাতকড়া পরায়। কে মারল রোশনিকে?

মাধবের পক্ষে কাজটা ছিল সহজ না। কর্পোরেট ফার্মের লোকেরা বলেছিল, “এই মামলা নিলে তোমার ‘অ্যাম আদমি’ মুখটা সেলিব্রিটির মতো লাগবে।” কিন্তু মাধব জানতেন—যদি কেউ নির্দোষ হয়, তার পাশে দাঁড়ানোই আইনজীবীর ধর্ম।
মামলা যত এগোয়, তত খুলতে থাকে পরত। রাজ কি সত্যিই খুনি? তার চোখে কি সত্যের ছায়া? অঞ্জু, তাঁর স্ত্রী—তিনি কেন হঠাৎ করে এই মামলার মধ্যে এসে পড়লেন? রোশনি শুধু প্রেমিকা ছিলেন না—রাজ ও অঞ্জুর মেয়ের যত্ন নেওয়াও ছিল তাঁর দায়িত্ব। সেই মেয়েটির নাম ইরা—যিনি অ্যাসপারগার সিনড্রোমে আক্রান্ত। মেয়ের জন্মদিনের পর, মৃত্যুর ছায়ায় মোড়ানো সেই রাতটা সত্যিই কি রাজের খুনের রাত?
পাশাপাশি, মাধবের নিজের জগতেও কিছু টানাপোড়েন চলতে থাকে। তাঁর সহকর্মী বারকা সিং, আর বারকার মা—একজন প্রবীণ আইনজীবী। দু’জনে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়েন মামলার এক কোণে। আর এই কেস তদন্ত করছেন এসপি গৌরী ও তাঁর প্রাক্তন স্বামী। ব্যক্তিগত টানাপোড়েন যখন পেশাদারিত্বে ঢুকে পড়ে, তখন সত্য খোঁজাটা হয়ে ওঠে আরও কঠিন।

আট পর্বের এই যাত্রা কখনও ধোঁয়াশা, কখনও ধাক্কা, আবার কখনও চোখ ভিজিয়ে দেওয়া এক মুহূর্তে পৌঁছে দেয়। রাজ যখন জেলে বসে মেয়েকে দেখে বলেন, “আমি তোকে ভালোবাসি”, তখন সেই মুহূর্তটা মনে থেকে যায়। আর অঞ্জুর চরিত্র? সুরভীন চাওলা যেন এক অনন্ত দ্বিধার মুখ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন—তিনি কি শুধুই আহত স্ত্রী, না কি আরও কিছু?
শেষদিকে মনে হয়, বুঝে গেছি খুনি কে। সব পাজল যেন ঠিকঠাক বসে গেছে। কিন্তু ঠিক তখনই গল্প মোড় নেয় এক দারুণ মোচড়ে। সেই মোচড় এমনভাবে দেখায়—যা আমাদের চোখের সামনেই ছিল, তবু আমরা দেখতে পাইনি। মাধব মিশ্র, আবারও জিতে যান। কিন্তু জয়টা এবার একেবারে সহজ ছিল না। নিজের সব কিছু বাজি রেখে লড়েছেন তিনি। আর সেই জেদের জোরেই হয়তো এই 'আম আদমি' হয়ে উঠেছেন আসল নায়ক।

ফলে ‘ক্রিমিনাল জাস্টিস: অ্যা ফ্যামিলি ম্যাটার’ এমন এক সিরিজ, যা রহস্যের মোড়কে পারিবারিক জটিলতাকে তুলে ধরেছে নিপুণভাবে। চেনা ছকে চলেও, অভিনয়, চিত্রনাট্য ও শেষ মুহূর্তের চমকে দর্শককে বেঁধে রাখবে পর্বের পর পর্ব। থ্রিলারপ্রেমীদের জন্য এটি অবশ্যই ‘বিঞ্জ-ওয়ার্থি’।