সে সময় একটি শব্দ বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায়। তা হল 'দলবদলু'। অর্থাৎ যে কিনা ঘনঘন দল বদলে ফেলে। আর এই কয়নেজ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছিল যার প্রসঙ্গে তিনি রুদ্রনীল ঘোষ।

রুদ্রনীল ঘোষ
শেষ আপডেট: 1 August 2025 18:17
কলেজ জীবনেই হাতেখড়ি হয়েছিল ছাত্র রাজনীতিতে। চুটিয়ে এসএফআই করেছেন একটা সময়। বাম জমানায় ঘনিষ্ঠ ছিলেন শাসকদলের। কিন্তু 'খেলা' ঘুরতেই রুদ্রনীল ঘোষের 'মতামত'ও যায় বদলে। তিনি যোগদান করেন তৃণমূলে। উচ্চপদেও ছিলেন আসীন, বেশ কিছু বছর। তবে এখানেই থেমে থাকা নয়। সাল ২০২১। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তিনি যোগদান করেন বিজেপিতে। শুধু যোগদানই নয়, ভোটেও দাঁড়িয়েছিলেন বিজেপির হয়ে। তবে জেতা হয়নি তাঁর।
সে সময় একটি শব্দ বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায়। তা হল 'দলবদলু'। অর্থাৎ যে কিনা ঘনঘন দল বদলে ফেলে। আর এই শব্দবন্ধ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছিল যাঁর প্রসঙ্গে তিনি রুদ্রনীল ঘোষ।
দ্য ওয়ালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সে কথা তুলে ধরতেই বিস্ফোরক রুদ্রনীল। রাখঢাক না করেই তিনি বলেন, "আমাকে যে দলবদলু বলছে তার পরিবার, তার চোদ্দোগুষ্ঠি দলবদলু"।

তিনি যোগ করেন, "আমি আমার মতামত পাল্টাব। আমাকে কোনও দল কর্মী তৈরি করতে আকর্ষণ করেছিল, মানুষের জন্য কাজ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল, তারা যদি তাদের দায়িত্ব পালন করতে ভুলে যায়, সেখান থেকে সরে আসে তবে তাদের ছেড়ে চলে আসা অন্যায় নাকি!"
এই মুহূর্তে তিনি যে দলে আছেন অর্থাৎ বিজেপিতে গিয়ে যদি তাঁর মনে হয় তাঁরাও কথা রাখতে পারছেন না তবে কোথায় যাবে রুদ্রনীল? কী করবেন তিনি? তাঁর উত্তর, "২৮টি রাজ্যের মধ্যে কুড়িটি রাজ্যের মানুষ রক্তপাতহীন ভোটের মাধ্যমে বিজেপিকে নিয়ে এসেছে। এই কয়দিন আগে দিল্লিতে সংখ্যালঘু মানুষ প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে বিজেপির পক্ষে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন। তাঁরা কি নির্বোধ?"

দক্ষিণ কলকাতার ফ্ল্যাটে একা থাকেন রুদ্রনীল। তাঁর দাবি, হাতে তাঁর কাজ নেই। দাবি, অর্থাভাবে তিনি নাকি বেচতে বাধ্য হয়েছেন বাড়ি-গাড়ি। সূত্র বলছে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়াতে দেখা যেতে পারে তাঁকে। তিনি যদিও সবটাই ছেড়েছেন দলের উপর। মুখে তাঁর একটাই কথা, 'দল যদি চায়...'।