চকচকে আলো, ভারী মেকআপ বা জাঁকজমকের কোনও আশ্রয় নেই। আছে শুধু একরাশ সংযম, চোখে জমে থাকা অতীত আর শরীরজুড়ে ক্ষত। ২০২৬ সালের প্রথম দিনে সমাজমাধ্যমে ‘ওসিডি’-র পোস্টার প্রকাশ করে জয়া আহসান যেন আগাম জানিয়ে দিয়েছিলেন—এই ছবি আরাম দেওয়ার জন্য নয়, প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়ার জন্য।

শেষ আপডেট: 27 January 2026 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চকচকে আলো, ভারী মেকআপ বা জাঁকজমকের কোনও আশ্রয় নেই। আছে শুধু একরাশ সংযম, চোখে জমে থাকা অতীত আর শরীরজুড়ে ক্ষত। ২০২৬ সালের প্রথম দিনে সমাজমাধ্যমে ‘ওসিডি’-র পোস্টার প্রকাশ করে জয়া আহসান যেন আগাম জানিয়ে দিয়েছিলেন—এই ছবি আরাম দেওয়ার জন্য নয়, প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়ার জন্য। সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত এই ছবিতে জয়াকে দেখা যায় একেবারে ছিমছাম রূপে, যেখানে বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে অনেক বেশি জোরালো হয়ে ওঠে ভেতরের ভাঙন।
জাহরা বিজনেস ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড নিবেদিত এবং ইন্ডিজেনাস ফিল্মস প্রযোজিত ‘ওসিডি’ এমন এক সামাজিক বাস্তবতাকে সামনে আনছে, যা বছরের পর বছর অবহেলা আর অস্বীকারের আড়ালে ঢাকা পড়ে থেকেছে—শিশু নির্যাতন। এই ছবির কেন্দ্রে রয়েছেন জয়া আহসান, আর তাঁর শৈশবের চরিত্রে অভিনয় করেছে আর্শিয়া মুখোপাধ্যায়। টেলিপর্দার জনপ্রিয় ‘ভূতু’ এবার এই ছবির হাত ধরেই বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে।
প্রকাশ্যে এসেছে ‘ওসিডি’-র ট্রেলার, আর তার রেশ গায়ে লেগে থাকতেই স্পষ্ট—এই গল্প আর পাঁচটা থ্রিলারের মতো নয়। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বড়পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে এই ছবি, যে ছবি ভয় এবং তথাকথিত সামাজিক লজ্জার দেয়াল ভেঙে এক সত্যিকে সামনে আনতে চায়।
ছবি প্রসঙ্গে পরিচালক সৌকর্য ঘোষালের (Soukarya Ghosal)বক্তব্য স্পষ্ট, তাঁর কাছে ‘ওসিডি’ নিছক একটি সিনেমা নয়, বরং প্রতিবাদ। তিনি মনে করিয়ে দেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশু নির্যাতনের অপরাধীরা ধরা পড়ে না, শাস্তিও পায় না—কারণ শিশুরা নিজেদের ভয়, অবিশ্বাস আর নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয়ের জালে আটকে পড়ে।
এমন এক সমাজে বড় হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তিনি তুলে ধরেন, যা বাইরে থেকে আধুনিক হলেও ভিতরে ভিতরে ভণ্ডামিতে ভরা। যেখানে কোনও শিশু নিজের যন্ত্রণার কথা বলতে চাইলে পরিবারও অনেক সময় সামাজিক প্রশ্ন, যৌন কুসংস্কার আর ‘মান-সম্মান’-এর দোহাই দিয়ে সত্যিকে চেপে যেতে চায়।
সৌকর্য ঘোষালের মতে, আজও আমাদের সমাজে অপরাধীর বদলে ভুক্তভোগীকেই কলুষিত হিসেবে দেখা হয়। শিশুর যন্ত্রণাকে ‘পবিত্রতা হারানো’-র ধারণার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার যে মানসিকতা, তা এখনও শক্তভাবে বহাল। লিঙ্গ সমতার প্রশ্নে কিছুটা অগ্রগতি হলেও, শিশু অধিকার—বিশেষ করে যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে—সমাজ যে এখনও যথেষ্ট সংবেদনশীল বা প্রগতিশীল হয়ে উঠতে পারেনি, সে কথাও অকপটে স্বীকার করেন তিনি।
শিশু নির্যাতনের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিচালক আরও গভীরে যান। তাঁর কথায়, একটি শিশু যে মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যায়, তার বোঝা অনেক সময় আজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। এই ট্রমা কখনও মানুষকে আত্মবিধ্বংসী পথে ঠেলে দেয়, আবার কখনও দমিয়ে রাখা ক্ষত প্রতিশোধের রূপ নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ, এমনকি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
‘ওসিডি’-তে গল্প বলা হয়েছে এক নির্যাতিত শিশুর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে—যে শিশু ভয় পায় না, সমাজের বিচারের তোয়াক্কা করে না, নিজের সত্য প্রমাণের জন্য কারও অনুমতির অপেক্ষায় থাকে না।
‘ওসিডি’—অর্থাৎ অবসেসিভ কম্পালশন ডিসঅর্ডার—এমন এক মানসিক সমস্যা, যা আক্রান্ত মানুষের জীবনকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে দেয়। সৌকর্য ঘোষাল এই ছবিতে দেখাতে চেয়েছেন, শৈশবের অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতা কীভাবে পরিচ্ছন্নতার নেশার সঙ্গে মিশে গিয়ে একের পর এক অপরাধের জন্ম দেয়। পর্দায় উঠে আসবে সেই ‘ব্লু প্রিন্ট’, যেখানে ট্রমা ধীরে ধীরে অপরাধপ্রবণতার রূপ নেয়।
ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে শ্বেতা নামের এক চিকিৎসককে ঘিরে, যাঁর ভূমিকায় রয়েছেন জয়া আহসান। অতীতের ধূসর ছায়া তাঁর বর্তমান জুড়ে ছড়িয়ে থাকে, মনে জমে থাকা কালো মেঘ তাঁকে সারাক্ষণ তাড়া করে বেড়ায়। সেই অতীতের কথা আচমকাই এক রোগীর জেনে যাওয়া শ্বেতার জীবনে ডেকে আনে চরম পরিণতি। চারপাশের মানুষ, যারা তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়ায়—তাদের প্রতিই শ্বেতার ভিতরে জন্ম নেয় গভীর বিতৃষ্ণা। এই অবস্থায় শ্বেতার শেষ পরিণতি কী? সেই প্রশ্নের উত্তরই দেবে এই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার।
ট্রেলারেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, শৈশবের কোনও তিক্ত অভিজ্ঞতা কীভাবে লিঙ্গ নির্বিশেষে একজন মানুষের ভবিষ্যৎকে ভেঙে দিতে পারে। সেই যন্ত্রণা আজীবন বয়ে বেড়াতে গিয়ে মানুষকে কখনও প্রতিশোধস্পৃহ করে তোলে, কখনও ঠেলে দেয় অপরাধের পথে। পরতে পরতে ধরা পড়ে সেই নির্মম বাস্তবতা। ছবিতে রয়েছেব জয়া আহসান (Jaya Ahsan), কৌশিক সেন, অনসূয়া মজুমদার, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রমুখ।
আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তির আগে ‘ওসিডি’ ইতিমধ্যেই কৌতূহলের পারদ চড়িয়ে দিয়েছে।