এই জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছিল কয়েকটি ঘটনাই। ‘ধুমকেতু’ ছবির প্রচারে রুক্মিণীর অনুপস্থিতি চোখ এড়ায়নি কারও। এমনকি দেবের ইন্ডাস্ট্রিতে কুড়ি বছর পূর্তি উপলক্ষে যে বিশেষ অনুষ্ঠান হয়েছিল, সেখানেও তাঁকে দেখা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আরও গাঢ় হয়েছিল—পর্দার বাইরের সমীকরণেও কি কিছু বদলেছে?

শেষ আপডেট: 26 January 2026 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছর মানেই দেবের (Dev) কাছ থেকে নতুন স্বপ্নের তালিকা। ২০২৬ সাল শুরু হতেই সেই চেনা অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি—কোন কোন ছবি আসছে, কোন গল্পে দর্শককে আবার বড় পর্দার অন্ধকারে টেনে নেবেন, তার ইঙ্গিত আগেভাগেই দিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এ বছরের ঘোষণায় ছিল একেবারে আলাদা রকমের চমক। ‘ধুমকেতু’-র (Dhumketu) পর আবার শুভশ্রীর (Subhasree Ganguly) সঙ্গে দেবের জুটি—খবরটা প্রকাশ্যে আসতেই উত্তেজনায় ফেটে পড়ে টলিউড। নস্টালজিয়া, স্মৃতি আর প্রত্যাশা মিলেমিশে গেল একসঙ্গে।
তবে এই আনন্দের পাশাপাশি দর্শকদের মনে জন্ম নিল আরেকটা প্রশ্ন। যদি শুভশ্রী ফিরতে পারেন, তবে রুক্মিণী (Rukmini Maitra) কোথায়? ‘ব্যোমকেশ এবং দুর্গ রহস্য’-র পর প্রায় তিন বছর কেটে গিয়েছে, বড় পর্দায় দেব-রুক্মিণীকে একসঙ্গে দেখা যায়নি। ধীরে ধীরে ফিসফাস শুরু হয়—তাহলে কি এই জনপ্রিয় জুটির অধ্যায় শেষ? দেবের ছবিতে কি আর নায়িকা হিসেবে ফিরবেন না রুক্মিণী মৈত্র?
এই জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছিল কয়েকটি ঘটনাই। ‘ধুমকেতু’ ছবির প্রচারে রুক্মিণীর অনুপস্থিতি চোখ এড়ায়নি কারও। এমনকি দেবের ইন্ডাস্ট্রিতে কুড়ি বছর পূর্তি উপলক্ষে যে বিশেষ অনুষ্ঠান হয়েছিল, সেখানেও তাঁকে দেখা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আরও গাঢ় হয়েছিল—পর্দার বাইরের সমীকরণেও কি কিছু বদলেছে?
কিন্তু সেই সন্দেহে খানিকটা জল ঢেলে দিয়েছিল ঘাটালের একটি অনুষ্ঠান। সেখানে দেবের হাত ধরেই প্রকাশ্যে হাজির হয়েছিলেন রুক্মিণী। সেই মুহূর্তে অন্তত এটুকু স্পষ্ট হয়ে যায়—দু’জনের মধ্যে কোনও দূরত্ব নেই, কোনও ভাঙনও নয়। তবু প্রশ্ন থেকেই যায়। নতুন বছরে দেব যখন কোয়েল, শুভশ্রীর সঙ্গে নতুন ছবির ঘোষণা করছেন, শোনা যাচ্ছে অঙ্কিতা মল্লিক আর ইধিকার সঙ্গেও স্ক্রিন শেয়ার করবেন—তখন রুক্মিণীর নামটা কেন তালিকায় নেই?
এই সমস্ত ধোঁয়াশার মাঝেই আসে সেই খবর, যা অপেক্ষার অবসান ঘটায়। টলিউডের অন্দরমহলের ইঙ্গিত বলছে—দেব ও রুক্মিণী আবার একসঙ্গে ফিরছেন। ছবির নাম ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’। বিনয় মুদগিল পরিচালিত এই ছবিতে দেব রূপদান করবেন করিমুল হকের জীবনে—একজন সাধারণ মানুষ, যাঁর অসাধারণ মানবিকতা তাঁকে করে তুলেছে কিংবদন্তি।
এই ছবির কথা দেব নিজেই ঘোষণা করেছিলেন গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর, নিজের জন্মদিনে। শুধু আরেকটা প্রজেক্ট নয়, এই ছবি তাঁর কেরিয়ারের পঞ্চাশতম মাইলফলক। সেই কারণেই হয়তো দেব চেয়েছেন এই অধ্যায়টিকে আরও বিশেষ করে তুলতে। ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসে দর্শকদের জন্য এই ছবি উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা, আর সেই ঐতিহাসিক ছবিতে রুক্মিণীর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে আলাদা তাৎপর্য বহন করছে।
করিমুল হক—নামটা শুনলেই মনে পড়ে যায় ‘অ্যাম্বুলেন্স দাদা’। যিনি সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করতে না পেরে নিজের মাকে বাঁচাতে পারেননি। চিকিৎসার অভাবে সেই মৃত্যু তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সেই ক্ষত থেকেই জন্ম নিয়েছিল এক অদম্য সংকল্প—আর কোনও অসুস্থ মানুষ যেন শুধু পরিবহনের অভাবে প্রাণ না হারায়। নিজের বাইককেই তিনি বানিয়ে নিয়েছিলেন ভরসার বাহন। প্রত্যন্ত গ্রামের অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়াই হয়ে ওঠে তাঁর ব্রত। এই নিঃস্বার্থ মানবসেবার জন্যই দেশ তাঁকে সম্মান জানিয়েছে পদ্ম সম্মানে।
এবার সেই হৃদয়বিদারক অথচ অনুপ্রেরণার গল্পই বড় পর্দায় প্রাণ পাবে। দেবের পঞ্চাশতম ছবিতে, রুক্মিণীর উপস্থিতিতে, এক মানবিক লড়াইয়ের কাহিনি ছুঁয়ে যাবে দর্শকের মন। নতুন বছরের শুরুতে যে প্রশ্নটা জন্ম নিয়েছিল—তার উত্তর যেন এখানেই লুকিয়ে।