হঠাৎ করেই সোশ্যাল মিডিয়ার গলি-ঘুপচি জুড়ে ছুটে গেল একটাই বার্তা— “Btw you look good in sarees?” একাধিক ইনবক্সে একই মেসেজ! আর এই রহস্যময় বার্তার প্রেরক— ‘বৌ কথা কও’-র এক সময়ের জনপ্রিয় মুখ ঋজু বিশ্বাস।

ঋজু বিশ্বাস।
শেষ আপডেট: 19 November 2025 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হঠাৎ করেই সোশ্যাল মিডিয়ার গলি-ঘুপচি জুড়ে ছুটে গেল একটাই বার্তা— “Btw you look good in sarees?” একাধিক ইনবক্সে একই মেসেজ! আর এই রহস্যময় বার্তার প্রেরক— ‘বৌ কথা কও’-র এক সময়ের জনপ্রিয় মুখ ঋজু বিশ্বাস।
কেউ বলছেন প্রশংসা, কেউ বলছেন নিপাট হেনস্থা— জনপিছু এমন দ্বিধা তৈরি করে একেবারে রাতারাতি ‘ভাইরাল’ও হয়ে গেলেন ঋজু। আঙুল উঠল, প্রশ্ন উঠল, বহু মহিলাই সোচ্চার হলেন— কেউ টেনে আনলেন মানসিক অসুস্থতার কথা, কেউ বললেন এটা নিছক অস্বস্তিকর অবাঞ্ছিত মেসেজ। আবার বিপরীত মেরুতে দাঁড়ানো একদল মানুষ বললেন— প্রশংসা তো প্রশংসাই! শাড়িতে সুন্দর লাগছে বলাটা দোষের কী?
ঝড় বয়ে দেল। পরবর্তী অধ্যায়ে— কোথাও স্ক্রিনশট, কোথাও ঋজুর মাকে নিয়ে নোংরা পোস্ট, আর সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে ঋজুকেই শেষমেশ FIR করতে হল। মিম, রোস্ট, এমনকি AI ভিডিও— সবই নেমে এল তাঁর ইনবক্স-ঝড় তোলা ওই ছয় শব্দের বিরুদ্ধে।
এরই মাঝে বহু মানুষ তাঁকে সাজেশন দিয়েছিলেন—“বলো প্রোফাইল হ্যাক হয়েছে… এভাবে বাঁচো!” কিন্তু ঋজু বললেননি— বলেছেন, ‘মিথ্যা বলতে ভাল লাগে না। মেসেজগুলি আমি-ই করেছি। তাঁর যুক্তি সোজা ছিল, শাড়িতে কাউকে সুন্দর লাগছে বলাটা কুৎসিত কিছু নয়, তাঁর চোখে সেটা নিছকই প্রশংসা।
এতেই শেষ? না, আসল নাটক তো এখানেই শুরু। হঠাৎ করেই কানাঘুষো— ঋজু নাকি সেই বিখ্যাত লাইনটার পেটেন্ট নিতে চলেছেন! ব্যাপারটা শুনে চমকে ওঠার মতোও! তার মানে আপনি, আপনার প্রেয়সীকে বলতে পারবেন না, ‘তোমাকে শাড়িতে সুন্দর দেখাচ্ছে?’ প্রশ্ন এও উঠছে, একটা সাধারণ প্রশংসামূলক বাক্য পেটেন্ট করা যায় আবার? উত্তরে খানিক পরে আসা যাক...
আসলে, এক সিনেমা ইনস্টিটিউটের পড়ুয়ারা তাঁদের আসন্ন ছবির নায়ক হিসেবে নিয়ে এসেছেন ঋজুকে। ছবির নাম— ‘উপসংহার’, পরিচালনায় শৌভিক ভট্টাচার্য। ঋজুর বিপরীতে আছেন ছোটপর্দার চেনা মুখ পায়েল রায়। ছবির গল্পে শাড়ি নেই ঠিকই, কিন্তু শাড়ি নিয়ে এই ‘বার্তা’, সংলাপ হয়ে উঠতে পারে— এমনটাই বলে দিয়েছেন ঋজু-পায়েল দু’জনেই।
সেই ছবির শুটিং শেষের পর ‘দ্য ওয়াল’-এর সঙ্গে আড্ডায় বসেছিলেন তাঁরা। কথার ফাঁকে হঠাৎ ঋজু বলে ফেলেন— “বাই দ্য ওয়ে এটা কিন্তু পেটেন্ট হতে চলেছে!” সাংবাদিক অবাক— “পেটেন্ট নিয়ে কী করবেন?” ঋজুর উত্তর— “ভবিষ্যতে জেনে যাবেন… কিছু তো একটা করব!” পাশেই থাকা পায়েল মজা করে যোগ করেন—“শাড়ির ব্যবসা করবে।”
শুনে সবাই হেসে ফেললেও আসল প্রশ্নটা রয়েই যায়—একটা ছোট্ট বাক্য কি সত্যিই পেটেন্ট করা যায়? উত্তর— একেবারেই না।
কারণ কোনও সাধারণ বাক্য, কমপ্লিমেন্ট, কিংবা কথ্য শব্দবন্ধ পেটেন্ট হয় না। পেটেন্ট লাগে আবিষ্কারে— কোনও যন্ত্র, প্রযুক্তি বা নতুন সমাধানে। কপিরাইটও ধরে না— কারণ ছোট বাক্য, স্লোগান বা নাম কপিরাইটের আওতায় আসে না।
ট্রেডমার্ক? হতে পারে— কিন্তু তখন সেই বাক্যকে বাজারে ব্র্যান্ডের পরিচয় বহন করতে হবে। এই মেসেজ তেমন কিছুই নয়।
সব মিলিয়ে— বাক্যটা পুরোপুরি পাবলিক ডোমেইনের অংশ, তাই কোনও এক ব্যক্তির একচেটিয়া মালিকানা এখান থেকে জন্মায় না।
শেষমেশ পুরো ঘটনার দিকে তাকালে একটাই কথা মনে হয়— ছটি নিরীহ শব্দ এমন কী শক্তি বহন করে, যে একদিকে ভাইরাল ঝড়, অন্যদিকে তুমুল বিতর্ক, আবার মাঝখানে সিনেমার প্রচার আর আইনের ক্লাস— সবই একসঙ্গে জড়িয়ে গেল? তার উত্তর বোধ হয় খুব সহজে মিলবে না...