২০২৫-এর প্রথম ছয় মাস পার করে বলিউডে রয়েছে আচমকা ঝড় এবং ভরাডুবি, দুইই। বক্স অফিসে শুধুমাত্র একটাই নিঃসন্দেহ ব্লকবাস্টার – ‘ছাভা’, ভিকি কৌশল অভিনীত এই ইতিহাস-ভিত্তিক অ্যাকশন ফিল্ম দেশাত্মবোধের গরম হাওয়ায় উড়ছে।

বলিউডের হাফ ইয়ারলি রিপোর্ট কার্ড
শেষ আপডেট: 2 July 2025 17:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৫-এর প্রথম ছয় মাস পার করে বলিউডে রয়েছে আচমকা ঝড় এবং ভরাডুবি, দুইই। বক্স অফিসে শুধুমাত্র একটাই নিঃসন্দেহ ব্লকবাস্টার – ‘ছাভা’, ভিকি কৌশল অভিনীত এই ইতিহাস-ভিত্তিক অ্যাকশন ফিল্ম দেশাত্মবোধের গরম হাওয়ায় উড়ছে। লক্ষ্মণ উতেকর পরিচালিত এই ছবি প্রমাণ করেছে—যে সিনেমা জাতীয়তাবাদ, গর্জন, আর কিছু ধর্মীয় টুইস্টের মিশেলে তৈরি, সেটাই এখনকার বাজারে সবচেয়ে বিক্রিযোগ্য।
দর্শক উচ্ছ্বাসে ভাসলেও, সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন এর রাজনৈতিক ইঙ্গিত নিয়ে। তবে শিবাজির বীরপুত্র সম্ভাজির চরিত্রে ভিকি কৌশলের ইনটেন্স উপস্থিতি আর অক্ষয় খান্নার ‘সুরমা চোখ’– দুইই রয়ে যাবে আলোচনার কেন্দ্রে।
বাকি বড় বাজেটের ছবিগুলোর ফল কিন্তু একেবারেই গড়পড়তা বা নিচের দিকেই। সানি দেওলের ‘জাট’ কিছুটা হিটের মুখ দেখেছে, তার দক্ষিণী লুকে মিশে যাওয়া ‘ধাই কিলো কা হাথ’-এর নতুন আঞ্চলিক চেহারায় দর্শক চিড় ধরেই, হইচই করেছে।
তবে শাহিদ কাপুরের ‘দেবা’– একেবারে প্রাণহীন, আর সলমন খানের ‘সিকান্দার’ মুখ থুবড়ে পড়েছে। অক্ষয় কুমার একের পর এক ছবি নিয়ে ফিরেছেন, কিন্তু ‘স্কাই ফোর্স’ বা ‘কেসরি ২’ কোনওটাই সেভাবে উড়তে পারেনি। কঙ্গনা রাণাওয়াতের ‘এমারর্জেন্সি’ যেমন ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক দৃঢ়তা ধরতে চেয়েছিল, বাস্তবে তা হয়ে উঠেছে দূর্বল।

এর মাঝেও কিছু মাঝারি হিট চুপচাপ নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। ‘ভুলচুক মাফ’—রাজকুমার রাওয়ের নেতৃত্বে কৌতিক পারিবারিক কনফিউশন, দর্শকদের এক প্রকার নির্ভরযোগ্য হালকা বিনোদন দিয়েছে। ‘হাউসফুল ৫’ এখনও প্রেক্ষাগৃহে চলছে, তাই চূড়ান্ত রায় আসেনি, তবে ‘হিট’ হওয়ার দৌড়ে দৌড়চ্ছে পুরোদমে।
তবু, যা চোখে পড়ছে সবচেয়ে বেশি, তা হলো দর্শকদের হলবিমুখতা। কারণটা স্পষ্ট, ওটিটিতে দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যেই সব কিছু পাওয়া যায়, তাহলে বাড়তি টাকা দিয়ে হলে যাবেই বা কেন? এর ফল, এমনকি মাটির গন্ধমাখা ইন্ডি-আত্মিক ছবি, যেমন ‘সুপারবয়েজ অফ মালেগাঁও’—যা মূল ডকুমেন্টারির আবেদন হারিয়ে ফেলেছে, সেটিও থিয়েটারে জায়গা পায়নি। অথচ, ওটিটিতে তা খানিকটা দম ফেলেছে।

স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ভিতরেও মানের তারতম্য চোখে পড়ছে। নেটফ্লিক্স-এর ‘নাদানিয়া’ – একেবারে নিচের স্তরের, অভিনয় থেকে চিত্রনাট্য সবই ছিল দুর্বল। ‘জুয়েল থিফ’, যেখানে সইফ আর জয়দীপ আহলাাওয়াত ছিলেন, সেটাও বিশ্রীভাবে ব্যর্থ। বিপরীতে, প্রাইম ভিডিওতে বোমান ইরানির ‘দ্য মেহতা বয়েজ’ কিংবা ২০২৩-এর আলোচিত ‘স্টোলেন’ কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে।
জাট (সানি দেওল)– হিট
রেইড ২, স্কাই ফোর্স– মাঝারি
দ্য ডিপ্লোম্যাট– মাঝারি
কেসরি ২– ফ্লপ
দেবা (শাহিদ কাপুর)– ডিজাস্টার
সিকান্দার (সলমন খান)– এক কথায়, ‘ভয়াবহ’
আর সিনেমার আলোয় সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র ‘সিতারে জমিন পর’। স্প্যানিশ ফিল্ম ‘ক্যাম্পিওনেস’-এর রিমেক, কিন্তু ভারতীয় আবহে আমির খান এই ছবিকে শুধু প্রযোজনা ও অভিনয় করেননি, বরং এটিকে একটি সামাজিক মিশনে পরিণত করেছেন। নিউরোডাইভারজেন্ট তরুণ-তরুণীদের গল্প, ভরপুর হিউমার আর আবেগে তৈরি করা হয়েছে। আমির খান কিছুটা বেশি দৃশ্যে থাকলেও, বাকিদের জায়গা ছেড়ে দিয়ে স্পটলাইট ভাগ করে নিয়েছেন। সিনেমাটা এখনও চলছে, আর প্রাথমিক ইঙ্গিত বলছে এটি একটি হিটের দিকে এগোচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, আমির স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—এই সিনেমা কেবল থিয়েটারে চলবে, ওটিটিতে আপাতত আসছে না। এই সাহসটাই হয়তো বলিউডকে বাঁচাতে পারে।

একথা সত্যি যে আজকের দিনে শুধু বড় তারকায় সিনেমা চলছে না। বিপুল পারিশ্রমিক, বিশাল ইউনিট, বড় বাজেট—সব মিলে লাভের অঙ্কটাই হারিয়ে যাচ্ছে। আরেকদিকে দক্ষিণী বা মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির মতো জায়গায় গল্প-ভিত্তিক সিনেমা দর্শক টানছে। ‘এল২ এমপুরান’, ‘থুদারুম’, ‘টুরিস্ট ফ্যামিলি’—এইসব সিনেমা প্রমাণ করছে, গল্প ভালো হলে কোনও সুপারস্টারের প্রয়োজন পড়ে না। বলিউড যদি সত্যিই ঘুরে দাঁড়াতে চায়, তবে একটাই রাস্তা—গল্পে বিনিয়োগ করতে হবে, স্টারডমে নয়।