
শেষ আপডেট: 12 September 2021 18:46
ইন্দ্রাণী হালদারের কেরিয়ার শুরু ছোট পর্দা দিয়েই। জোছন দস্তিদারের বিখ্যাত সিরিয়াল 'তেরো পার্বণ'-এর হাত ধরেই অভিনয় জগতে ইন্দ্রাণীর হাতেখড়ি। এরপর শ্বেত পাথরের থালা, দহন, যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল, সাঁঝবাতির রূপকথারা, চৌধুরী পরিবার, জামাইবাবু, অনু'র মতো সব ঘরানার ছবিতেই সফল নায়িকা ইন্দ্রাণী হালদার। তিনি জিতে নিয়েছেন জাতীয় পুরস্কারও। কিন্তু ইন্দ্রাণী হালদার সেই অভিনেত্রী যিনি বড় পর্দায় বড় বড় অফার পেয়েও কখনও ছোট পর্দাকে অবহেলা করেননি। যদিও মেনস্ট্রিম ছবিতে জুটি বানাতে পারেননি ইন্দ্রাণী। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ছোট পর্দায় বিখ্যাত সব সিরিয়াল 'কুয়াশা যখন', 'তিথির অতিথি', 'বহ্নিশিখা', 'গোয়েন্দা গিন্নি' করে গেছেন ইন্দ্রাণী। এখন বিগত কয়েক বছর 'শ্রীময়ী' রূপে সব মহিলাদের প্রিয় শ্রীময়ী।
আবার রোহিত সেন চরিত্রে বাজিমাৎ করছেন নাইন্টিজ অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরী। টোটা এই বয়সেও পাচ্ছেন বিয়ের প্রস্তাব আর অজস্র প্রেমপত্র। এমনকি স্টার জলসার 'শ্রীময়ী' এতটাই জনপ্রিয় হয়েছে যে বলিউডেও 'শ্রীময়ী'র রিমেক হচ্ছে 'অনুপমা'।
এছাড়া তামিল তেলেগুতেও রিমেক হয়েছে ইন্দ্রাণীর সিরিয়াল। সন্ধ্যে সাতটা বাজলেই সব বাড়িতেই বেজে ওঠে 'হঠাৎ অন্য হাওয়ায়, আয়না খুঁজছে মুখ/একটু ভালো লাগায়, ইচ্ছে কুড়োই সুখ... শ্রীময়ী'।
ইন্দ্রাণী দত্ত
বড় পর্দা দিয়েই ইন্দ্রাণী দত্তর অভিনয় জীবন শুরু। 'তুফান', 'পাপী', 'পতি পরম গুরু', 'সুরের ভুবনে', 'বেলা শেষে', 'নায়িকার ভূমিকায়'- অজস্র ছবি করেছেন তিনি। নব্বই দশকে দূরদর্শনেও কিছু ধারাবাহিকে অভিনয় করতেন ইন্দ্রাণী। কিন্তু পুরোপুরি ছোট পর্দায় বা মেগা সিরিয়ালে কখনই দেখা যায়নি তাঁকে। ইন্দ্রাণী দত্তর সবথেকে বড় হিট ছবি 'সেদিন চৈত্র মাস'। কিন্তু দীর্ঘসময় বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রিকে গুডবাই জানিয়ে নিজের নাচের ট্রুপ নিয়ে দেশে-বিদেশে অনুষ্ঠান করতেই ব্যস্ত থেকেছেন তিনি। পাশাপাশি নিজের ডান্স একাডেমি খুলেছেন ইন্দ্রাণী। কিন্তু এবার বহু যুগ পর জি বাংলায় ইন্দ্রাণী কামব্যাক করলেন 'জীবন সাথী' সিরিয়ালে সালঙ্কারা ব্যানার্জি রূপে।
কড়া ধাতের মায়ের চরিত্র কিন্তু ভীষণ গ্ল্যামারাস মা। তিনিই লিড চরিত্র সিরিয়ালে। তাঁকে ঘিরেই গল্প। কমাসে বেশ জমিয়েছেন ইন্দ্রাণী। নতুন মুরদের থেকেও সুন্দরী ইন্দ্রাণীর মুখ আর শাড়ির কালেকশান দেখার দর্শক আজও বেশি।
পাপিয়া অধিকারী
টালিগঞ্জ পাড়ার আশি-নব্বই দশকের চুলবুলি হট নায়িকা পাপিয়া মানেই বিবি পায়রা। 'প্রতীক', 'পতি পরম গুরু', 'দেবীবরণ' থেকে 'আমার নাম বকুল' ধারাবাহিক, একসময়ের পর্দা কাঁপানো নায়িকা পাপিয়া। পাপিয়া একাধারে মঞ্চ, ফিল্ম, যাত্রা, সিরিয়াল যেমন করেছেন তেমনই একটা সময় তো নিজে পরিচালিকা হয়েও কাজ করেছেন। পাশাপাশি রাজনীতিতে চিরকালই পাপিয়ার দৃঢ় বক্তব্য ছিল। এবার রাজনীতির মঞ্চে বিধায়ক পদেও প্রার্থী হন পাপিয়া। পরাজিত হলেও পরে জয়ের স্বপ্ন দেখেন চিত্রাভিনেত্রী। বর্তমানে 'দত্ত এন্ড বউমা' সিরিয়ালে 'সোনা মা' চরিত্রে সবার মন জয় করে নিয়েছেন পাপিয়া শুরুর মাত্র সাত দিনেই।
নবাগত নায়ক নায়িকা থাকলেও প্রধান চরিত্রে পাপিয়া। সঙ্গে রয়েছেন বিপরীতে নাইন্টিজ ভিলেন কৌশিক ব্যানার্জি। কৌশিক এখানে একদম ছবি বিশ্বাস স্টাইলে বাড়ির কর্তা। পাপিয়া-কৌশিক জুটি বেশ জমেছে। নতুন ছেলেমেয়েদের অভিনয়ের খামতিগুলো ঢেকে যাচ্ছে পাপিয়া 'সোনামা'-র গিন্নিবান্নি সংলাপ ও পাকা অভিনয়গুণে। 'ভোটে হেরে ঠাকুমার রোল করছেন পাপিয়া' বলে ট্রোল করা হলেও পাপিয়া সপাটে জবাব দিয়েছেন এসব ট্রোলের। 'সোনা মা' চরিত্রটা এক সপ্তাহেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চরিত্র কতটা গুরত্বপূর্ণ সেটাই আসল বলছেন পাপিয়া।
দেবশ্রী রায়
আশি নব্বই দশকের স্টার নায়িকা তিনি। ছোট পর্দায় তিনি বিরল কাজ করেছেন আগে। 'নগরপারে রূপনগর', 'ষোড়শী'-র মতো কিছু ধারাবাহিক করেছিলেন। বড় পর্দাতেই তিনি রাজ করেছেন চিরকাল। বক্সঅফিস হিট থেকে জাতীয় পুরস্কার সবই তাঁর দখলে। তাঁর লিপে অজস্র গান সুপারহিট। দীর্ঘ ১০ বছর অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন তিনি। রাজনীতিতে বিধায়ক পদেও বিপুল ভোটে জয়ী তিনি। কিন্তু রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে আবার দেবশ্রী ফিরেছেন অভিনয়ে। ছোট পর্দা দিয়েই কামব্যাক করেছেন 'সর্বজয়া' রূপে। সিরিয়াল শুরুর আগে বিশাল ট্রোলের শিকার হন দেবশ্রী। কিন্তু সিরিয়াল শুরু হতেই নিন্দুকদের মুখে ছাই দিয়ে সব সিরিয়ালকে ছাপিয়ে সর্বোচ্চ নয়ের অধিক টিআরপি পেয়েছে সর্বজয়া। দেবশ্রীর বরের ভূমিকায় নাইন্টিজ হিরো কুশল চক্রবর্তী। নাইন্টিজ ম্যাজিকই খেল দেখাচ্ছে প্রতিদিন।
যত চ্যানেলে যত সিরিয়াল চলছে সবার থেকে বেশি দর্শক-টিআরপি পেয়েছেন সর্বজয়া দেবশ্রী। রাত নটা বাজলেই এখন সব বাড়ি থেকে ভেসে আসছে সর্বজয়ার শীর্ষসঙ্গীতের সুর। এই সিরিয়ালেও ফ্যামিলি পলিটিক্স আছে কিন্তু সর্বজয়ার মজার মজার সংলাপে কুমতিগুলো সুমতি হয়ে যাচ্ছে সংসারে। সংসারে সবাইকে একসাথে নিয়ে বাঁচতে চায় জয়া। সর্বজয়া প্রতিবাদী নয়, আবার খুব কাঁদুনিও নয়। শুধুমাত্র হাসিমুখে মজার ডায়লগে দুষ্টের দমন করছে সে। যে আইডিয়াটা বেশ নতুন। তবে সিরিয়ালের এত টিআরপির প্রধান কারণ দেবশ্রী রায়।
সবকটি সিরিয়ালের জনপ্রিয়তার পেছনেই আছে স্টার নায়িকাদের স্টারডম ও তাঁদের পাকা অভিনয়। সিরিয়ালগুলোর গল্প কিছুক্ষেত্রে বেশ দুর্বল এবং মোটা দাগের, কিছুটা চিরাচরিতও। কিন্তু সেগুলো ঢেকে যাচ্ছে নাইন্টিজ নায়িকাদের স্টারডমে। আরও নাইন্টিজ অভিনেত্রীদের মনের জোর জোগাবে এই নয়া ট্রেন্ড এবং চ্যানেলও বুঝছে পুরনো চাল ভাতে বাড়ে।
কোথাও অহেতুক হিন্দি গান প্রয়োগ কোথাও বা একঘেয়ে কূটকচালে চিত্রনাট্য বা বিয়েতেই ঘুরপাক গল্প। মেকআপ আরও হালকা দরকার। শুধুমাত্র নায়িকাদের জোরে সিরিয়ালগুলো এখন শীর্ষে। গল্প যদি আরও শক্তিশালী লেখা হয় তাহলে টিআরপি যে কোন উচ্চতায় চলে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। পরিচালক প্রযোজকদের একটাই অনুরোধ অভিনব সুন্দর প্লটে আরো বেশি করে ব্যবহার করুন এই পোড়খাওয়া অভিনেত্রীদের। দর্শকরা অন্তত এরকম মতই পোষণ করছেন।