
কবি অরুণ চক্রবর্তী।
শেষ আপডেট: 23 November 2024 11:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মর-পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন 'লাল পাহাড়ি দেশে'র শিল্পী অরুণ চক্রবর্তী। সূত্রের খবর, শুক্রবার রাত ১২টা ২০ মিনিট নাগাদ আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
'লাল পাহাড়ির দেশে যা, রাঙামাটির দেশে যা'– এই গান শোনেননি বাংলায় এমন মানুষ কমই আছেন! এই গানের গীতিকার-সুরকার দের নাম অবশ্য অনেকেই জানেন না। যেসব শিল্পীরা এই গান গুলি গেয়ে বিখ্যাত হন, তাঁরাও গীতিকার সুরকারদের নাম না জানার কারণে প্রচলিত বলে অ্যালবামে লিখে দেন।
অরুণ চক্রবর্তী ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে শ্রীরামপুর স্টেশনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মহুয়া ফুলের গাছ ও ফুল দেখতে পান। শ্রীরামপুরে মহুয়া গাছ ও ফুলকে দেখে বড্ড বেমানান মনে হয়েছিল। তাঁর মনে হয়েছিল বাংলার ধান, আলু উৎপাদনের অঞ্চলে মহুয়া ফুলের গাছ কেন থাকবে, মহুয়া তো লাল পাহাড়ের রানি, এই গাছকে সেখানেই মানায়। মহুয়া তো লাল মাটির গাছ। তার পর তিনি 'লাল পাহাড়ির দেশে যা, রাঙামাটির দেশে যা' গান রচনা করেন।
অরুণ চক্রবর্তী এই গানের গীতিকার। এরপর ঝুমুর গায়ক সুভাষ চক্রবর্তী (Subhas Chakraborty) এই রচনাটিতে সুরোরোপ করেন এবং ১৯৭৯ সালে প্রচলিত সুরে ভি বালসারার ব্যবস্থাপনায় সুভাষ চক্রবর্তী রেকর্ড করেন। সুভাষ চক্রবর্তী বাঁকুড়ার লোকগান ঝুমুর,টুসু,ভাদু গানকে জনপ্রিয় করেছিলেন।
গত বছররের২৬ ফেব্রুিয়ারি প্রয়াত হয়েছিলেন সঙ্গীত শিল্পী সুভাষ চক্রবর্তী। এবার সেই একই পথের যাত্রী হলেন অরুণবাবু।
সুভাষ চক্রবর্তী বাঁকুড়ার লোকগানের স্রষ্টা হলেও মূলধারার গানে তিনি কোনও ভাবেই প্রচারের আলো পাননি। তাঁর গান বিখ্যাত, কিন্তু তাঁর কণ্ঠে নয়। 'লাল পাহাড়ির দ্যাশে যা' গানটি বাংলা ব্যান্ড 'ভূমি' র অ্যালবামে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পায়। 'ভূমি'র লাইভ ফাংশানে দীর্ঘ দশক জনপ্রিয় ছিল এই গান। অথচ শ্রোতাদের কাছে পৌঁছয়নি পূর্বের শিল্পী সুভাষ চক্রবর্তীর নাম। এমনকী গীতিকার অরুণ চক্রবর্তী ও রয়ে গেছেন আড়ালে। প্রচলিত কথা-সুর লেখা ছিল ভূমির অ্যালবামে।
‘ভূমি’ এই গানটি রেকর্ড করলেও গীতিকার-সুরকারের নাম উল্লেখ না করায় শুরু হয় বিতর্ক। গান নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে ভূমির গায়ক সৌমিত্র রায় পরে জানান, ‘‘গীতিকারের নাম জানতাম না। তাই উল্লেখ করিনি। প্রচলিত লেখা ছিল অ্যালবামে। ভুল করেছিলাম। পরে ক্ষমাও চেয়েছি।"