
আরশাজ ‘সার্কিট’ ওয়ারসি
শেষ আপডেট: 19 April 2025 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০৩ সালে মুক্তি পায় সুপারহিট ছবি ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’। আজও বলিউড প্রেমীদের মনে এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছে রাজকুমার হিরানির ছবি। আর এই ছবির অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন আরশাদ ওয়ার্সি (arshad warsi), যিনি 'সার্কিট' চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হাসিতে ভরিয়ে দিয়েছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ছবির অনেক মজার সংলাপ ও দৃশ্য আসলে তিনি নিজের মতো করে সেটে দাঁড়িয়েই তৈরি করেছিলেন— একেবারে এক্সটেম্পোর!
আমার সংলাপগুলো সব হঠাৎ মাথায় এসেছে
এক ইন্টারভিউতে আরশাদ বলেন, ‘আমি খুব একটা নিজের কাজ দেখি না। কখনও টিভিতে নিজের কোনও দৃশ্য চোখে পড়ে গেলে ভাবি, ‘বেশ ভালোই তো!’ মুন্না ভাই-এর বেশিরভাগ জিনিসই আমি স্পটেই বানিয়েছি। পুরোটাই ইন দ্য মোমেন্ট।’ তিনি উল্লেখ করেন, ছবির সেই মজার দৃশ্য— যেখানে একটি মেডিকেল ভ্যানে বিদেশিকে অপহরণ করে সার্কিট— সেই সংলাপগুলোও তাঁর মাথায় আসে ওই মুহূর্তেই। ‘প্রথমে স্ক্রিপ্টে ছিল আমি বলব, ‘তুমি মাধুরী দীক্ষিতকে দেখতে চাও? ভ্যানে বসে আছেন। দারুণ লাগছে।’ পরে সবাই বলল, এটা বাদ দাও। তারপর আমরা ‘আমরা গরিব, ক্ষুধার্ত লোক’ স্টাইলে পুরো জোকটা বানালাম। সব এক্সটেম্পোর,’ বলেন তিনি।
স্ক্রিপ্ট মানেই পাথরে খোদাই তা নয়
আরশাদ (arshad warsi) বলেন, ‘এসি রুমে বসে স্ক্রিপ্ট লেখা আর সেটে এসে বাস্তব অবস্থায় কাজ করা একেবারে আলাদা। যখন লোকজনদের সামনে আসে, তাদের থেকে নতুন গল্প তৈরি হয়। তাই আমি চাই না স্ক্রিপ্টটা পাথরের মতো স্থায়ী হোক।’ একটি মজার ঘটনাও শেয়ার করেন তিনি — ‘আমি যখন এক জুনিয়র আর্টিস্টের সঙ্গে অভিনয় করছিলাম, দেখি ছেলেটা প্রায় ৬ ফুট লম্বা। ওকে দেখে হঠাৎ মাথায় আসে — ‘এ ছয় ফুটের ছেলেকে আমি তিনটে করে দুই ফুটের বানিয়ে দেব!’ এটা আগে থেকে ভাবিনি, সেই মুহূর্তে মাথায় এসেছিল।’
রাজকুমারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ
এই অভিনব সংলাপগুলো স্ক্রিপ্টে জায়গা করে নিতে পেরেছে পরিচালক রাজকুমার হিরানির জন্যই। আরশাদ (arshad warsi) বলেন, ‘রাজু অসাধারণ একজন এডিটর। আমি তাঁকে কিছু বলতাম, যেমন— ‘ওকে আমি চিলি চিকেন ডাকব’, উনি সঙ্গে সঙ্গে মাথায় সম্পাদনা করে ফেলতেন— ‘হ্যাঁ, এটা ভালো লাগবে’। ওর হাস্যরসের সেরা দিকটাই ছিল ও বুঝতে পারত কোনটা পরে দর্শককে হাসাবে।’
মুন্নাভাই থ্রি!
পরিচালক রাজকুমার হিরানি জানিয়েছেন, মুন্নাভাই সিরিজের তৃতীয় কিস্তির জন্য তাঁর কাছে এখনও পাঁচটি অসম্পূর্ণ চিত্রনাট্য রয়েছে। ‘আমি ছয় মাস একটা স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করি, ইন্টারভাল পর্যন্ত যাই… তারপর আর এগোয় না। যেমন— মুন্না ভাই এলএলবি, মুন্না ভাই চল বসে, মুন্না ভাই চলে অমরিকা… অনেক কিছু!’ তিনি আরও বলেন, ‘সঞ্জু (সঞ্জয় দত্ত) তো এখন বাড়ি এসে আমাকে হুমকি দিতে পারে — ‘তুই আরেকটা মুন্না ভাই যদি না বানাস না তাহলে দেখিস!’ ও খুব চায় ফের একবার সেই চরিত্রে ফিরতে।’
সার্কিটের সংলাপে যে ভাবে আজও হাসে দর্শক, তেমনটাই ছিল আরশাদের মজার মস্তিষ্ক আর হিরানির সংবেদনশীল পরিচালনার ম্যাজিক। এখন শুধু অপেক্ষা, কবে আবার ফিরবে মুন্না ভাই ও সার্কিট — নতুন গল্পে, নতুন ভাবে।