
অপরাজিতা আঢ্য
শেষ আপডেট: 15 April 2025 14:59
অপরাজিতা আঢ্য মানেই পর্দায় লক্ষ্মীশ্রী। ঘর আলো করা, মন ভাল করা বৌ মানেই অপরাজিতা। হাওড়ার বাপের বাড়ি থেকে বেহালার শ্বশুরবাড়ি, দু সংসারেই দশভূজা অপরাজিতা। দ্য ওয়াল নববর্ষ আড্ডায় অভিনেত্রী জানালেন নববর্ষ ১৪৩২ কেমন ভাবে কাটাবেন।
অপরাজিতা আঢ্য বললেন, 'বাড়ির লোকের সঙ্গেই আমি প্রত্যেক নববর্ষে থাকি। নববর্ষ মানেই তো শুভ সূচনা। নববর্ষের দিন আমাদের এক নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে পুজো আছে। সত্যনারায়ণের সিন্নি আর নতুন বছরের পুজো হবে। সেই পুজোয় আমি থাকব। আমাকেই পুজোর আয়োজন করতে হবে। যেহেতু পুজোর অনুষ্ঠান, তাই সকালে লালপাড় সাদা শাড়িই পরব। তারপর বিকেলে আমার এক বোনের বিউটি স্যালনে যাব। ও খুব আশা করে থাকে। আমি প্রতি নববর্ষের বিকেলে ওখানে যাই।'
অপরাজিতা চিরকালই পাকা গিন্নি। নববর্ষের দুপুরে কী রাঁধবেন তিনি? অভিনেত্রীর কথায় 'নববর্ষের দিন মানেই তো নিরামিষ। বছরের প্রথম দিন আমাদের বাড়িতে নতুন চাল ওঠে। তাই পায়েস হয়। যদিও আমার শ্বশুরবাড়ি পুজো-আচ্চার বাড়ি তাই সপ্তাহে চারদিন নিরামিষই হয়। বাকি তিনদিন মাছ হয়। মাংস খুব একটা হয় না। কালকে স্পেশাল রান্না বাসন্তী পোলাও, পনির, আলুর দম, চাটনি, পাঁপড় আর পায়েস। পোলাওটা আমিই করব।'
টলিউডের ব্যস্ততমা অভিনেত্রী অপরাজিতা পরিবারকে রাখেন সবার প্রথমে, যা এ যুগের অভিনেত্রীদের কাছে বিরল ঘটনা। ঘরটাকে যে বড্ড ভালবাসেন অপরাজিতা। আর সে ঘর সবাইকে নিয়ে বাঁচা।
তিনি বললেন 'দুটো কথা আছে। আমি প্রথমে বাড়ির বউ, তারপর অভিনেত্রী। আমার কাজ অভিনয় করা। কিন্তু আগে তো বাড়িকে দেখতে হবে। দুটোই আমার পরিবার। দু’জায়গাতেই আমি কর্তব্য পালন করব। আমাদের ১০ জনের একান্নবর্তী পরিবার। এই ১০ জনের দায়িত্ব আমার আছে। এছাড়াও বাইরে আমার আরও বড় পরিবার রয়েছে। সে জগত আরও বড়। কারও কিছু হলে আমার সঙ্গেই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। এটা হচ্ছে আমার গুরুদায়িত্ব।
আর এখনকার মেয়েরা তো অন্য ভাবে মানুষ হয়। তাদের বেশি যত্ন করে মানুষ করা হয়, অনেকেই সেভাবে দায়িত্ব নিতে জানে না। এটা তাদের দোষ নয়! তারা কী করে পারবে একটা বড় পরিবারে গিয়ে সবার দায়িত্ব নিতে! তারপর এখন সব মেয়ে সাবলম্বী। তারা বাইরে সামলে কেন ঘর সংসারের কাজ করবেন! এখন একান্নবর্তী পরিবারই বা কোথায়? আমাদের বেহালার সারা পাড়াটাই হয় শুধু বুড়োবুড়ির, নয়তো একাকী বৃদ্ধার বাস গোটা বাড়িতে। কারও কোনও ছেলেমেয়ে নেই বাড়িতে। আমাদের বাড়িটাই শুধু পাড়ায় গমগম করে। কলকাতা শহরটাই যেন এখন একটা বৃদ্ধাবাস।
আমি তো বাপের বাড়িতে ১৯ জনের পরিবারের মেয়ে ছিলাম। ছোটবেলা থেকেই রান্না করেছি। রান্না করে স্কুলে গেছি। পড়তে বসার আগে রুটি বেলেছি। তারপর পড়া শেষে রুটি সেঁকে, তরকারি করেছি। এসব আমাদের বাড়ির নিয়ম ছিল। এখনকার ছেলেমেয়েরা তো সেভাবে রান্নার ধারেপাশেই যায় না। হয়তো ইউটিউব দেখে শখে একটা রান্না করল। তাদের করার সেই ক্ষমতাও নেই। সবার ঘাড়ে তো সবকিছু চাপালে হবেনা। তাদের ওরিয়েন্টেশন অন্যরকম। তাদের ভয় লাগবে। সেখানে তো ভালবাসা জন্মাবে না। আর সংসারের কাজ করব, সবাইকে নিয়ে থাকব— সেই ইচ্ছেটাও তো তৈরি হতে হবে।
আজকাল তো নববর্ষ সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্দি। নববর্ষে সকলকে প্রণাম করার রীতি কি এখন আর আছে? নেই। হালখাতা করতে যাওয়ার উৎসবটাই উঠে গেছে। এখন সবকিছু ফেসবুকে। এদিকে তারাই আবার বলবে, ফেসবুক ছেড়ে বাঁচার চেষ্টা করতে। এখন কেউ কারও বাড়ি যদি ফোন না করে আচমকা চলে যায়, তখন মানুষ এমন ভাবে দেখে যেন ওসামা বিন লাদেন এসেছে। অথচ আমাদের কত কাকা, জেঠুরা সন্ধেবেলা না বলে কয়েই আসতেন। মা, কাকিমারা লুচি ভাজতে বসতেন। আমাদের তখন পড়ার ছুটি। সে এক হইহই ব্যাপার। আর এখন কেউ কারও বাড়ি না বলে গেলে তাদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার অবস্থা হয়। তারপর সুইগি করে খাওয়াও। এই বাঙালি নববর্ষের আড্ডাগল্প কী বুঝবে! বাঙালির আন্তরিকতা শেষ। বাঙালিয়ানার ঐতিহ্যও নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ দক্ষিণ ভারতের মানুষের সংস্কৃতি নষ্ট হয়নি। সেই আলপনা দেওয়া, সেইভাবে চুল বাঁধা, বারবার কুমকুম লাগানো থেকে এদের এক চুল সরাতে পারবে না। কিন্তু কলকাতার মানুষজনের মানসিকতা পাল্টে গেছে। সব খাবলাতে গিয়ে, আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি রইল না।'
নতুন বছরে কী কিনলেন অপরাজিতা? অপরাজিতা বললেন 'আজ আমার বান্ধবী পাপিয়া ফোন করেছিল, বলল, নাইটি কিনেছি তোর জন্য নববর্ষে। আমি বললাম বেশ করেছো। নাইটি কিনেছে, এটা তো না বলার কিছু নেই। আমার বন্ধু কত আনন্দ করে কিনেছে মা গো! তবে নববর্ষের সকাল মানে আমার কাছে লাল পাড় সাদা শাড়ি।'