
আনোরা।
শেষ আপডেট: 3 March 2025 10:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৯৭তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে ঝড় তুলল শন বেকারের ছবি ‘আনোরা’ (Anora)। ছ’টি বিভাগে মনোনীত হয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে সেরা হয়ে গেল ছবিটি। সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেত্রী, সেরা চিত্রনাট্য এবং সেরা সম্পাদনার মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার জয় করে আনোরা হয়ে উঠল বছরের সবচেয়ে সফল ছবি (Oscar Best Film)।
শন বেকার এই সিনেমার পরিচালক, চিত্রনাট্যকার এবং সম্পাদক—এককথায় ছবিটির প্রতিটি শটে তাঁর ছোঁয়া স্পষ্ট। বরাবরই বাস্তববাদী গল্প বলার জন্য খ্যাত বেকার এবারও এক অনন্য চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন, যা সাধারণ হলিউডি ফর্মুলার বাইরের এক অভিজ্ঞতা। অনেকটা প্রিটি ওম্যান-এর মতো প্রেমের গল্প হলেও, আনোরা তার মায়াবী দুনিয়াকে ভেঙে বাস্তবতার নির্মম মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র আনোরা ওরফে আনি, ব্রুকলিনের এক তরুণ স্ট্রিপার। রূপ, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব আর বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে সে। তবে একদিন তাঁর জীবনে আসে এক রুশ কোটিপতি তরুণ, যে তাঁকে স্বপ্ন দেখায় বিয়ের এবং এক নতুন জীবনের। আনি ভাবে, হয়তো এই জীবনটাই তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিল! কিন্তু খুব দ্রুতই সে বুঝতে পারে, এই স্বপ্ন সত্যি হওয়া যতটা সহজ মনে হয়েছিল, বাস্তবে তা একেবারেই নয়। ছেলেটির পরিবার এই সম্পর্ক মানতে রাজি নয়, এবং তাঁরা এই বিয়ে ভেস্তে দিতে সব করতে পারে।
আনোরা-র নির্মাণশৈলীর বিশেষত্ব এর কাঠামোয়। প্রথমার্ধে এটি ধীর লয়ে চরিত্র ও তার জগতকে গড়ে তোলে, তারপর ধীরে ধীরে সেই জগৎ ভেঙে ফেলে, এবং এক ধরনের বিশৃঙ্খল ছন্দ তৈরি করে, যা মনে করিয়ে দেয় আনকাট জেমস-এর মতো ছবির কথা। তবে আনোরা আরও মেলানকোলিক, কম আক্রমণাত্মক, কিন্তু প্রতিটি ফ্রেমে যেন বিষাদের অনুভূতি ছড়িয়ে থাকে।
সিনেমাটির আবেগের গতি এক অদ্ভুত ছন্দে ওঠানামা করে। এক মুহূর্তে এটি বিশাল ক্যানভাসে বিস্ফোরণ ঘটায়, পরক্ষণেই ছোট্ট, নির্জন, নিঃশব্দ দৃশ্যে চলে আসে। ক্লান্ত, বিপর্যস্ত চরিত্রগুলোর ক্রমাগত বাস্তবতার ধাক্কা খেয়ে ঝিমিয়ে পড়ার যে অনুভূতি, সেটি পরিচালক অসাধারণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। ছবির শেষাংশে সেই অনুভূতিটাই সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়—যখন চরিত্ররা শুধু চায় সব ঝামেলা শেষ হোক, এও ভাবতে থাকে যে হয়তো ঘুমিয়েই সব ভুলে যাওয়া যায়!
পুরস্কার মঞ্চে ঝড় তোলা ছবিটি অভিনয়ের দিক থেকেও অনবদ্য। আনোরা চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিকি ম্যাডিসন। পুরো ছবির আত্মা তিনি। প্রতিটি আবেগকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন মিকি। তাঁর পারফরম্যান্স এতটাই মনোমুগ্ধকর যে, সেরা অভিনেত্রীর অস্কার তাঁর হাতেই উঠবে, এমন প্রত্যাশা ছিল অনেকেরই।
অন্যদিকে, ইউরা বোরিসভ সেরা পার্শ্ব অভিনেতার বিভাগে মনোনয়ন পেলেও পুরস্কার জিততে পারেননি। তাঁর চরিত্র সংলাপে সংযত, কিন্তু উপস্থিতিতে প্রবল। হলিউডের বাইরের এক প্রতিভাকে এই মঞ্চে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক হতো।
শন বেকার বরাবরই প্রমাণ করেছেন, বড় বাজেট বা ঝাঁ-চকচকে ক্যামেরা ছাড়াও চমৎকার সিনেমা নির্মাণ করা যায়। তাঁর প্রথম ছবি ট্যাঙ্গারিন পুরোটা শুট করা হয়েছিল একটি আইফোনে! আর আজ সেই নির্মাতাই পাঁচটি অস্কার জিতে প্রমাণ করলেন, ভালো কনটেন্ট এবং গল্প বলার দক্ষতাই আসল। যদি কেউ সত্যিই প্রতিভাবান হন, বাজেট ও সম্মান আপনাআপনিই চলে আসে!