
বোধিসত্ত্ব মজুমদারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অনামিকা সাহা।
শেষ আপডেট: 30 April 2025 15:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একের পর এক বাণ মেরে অনামিকা সাহা এখন শিরোনামে। পরচর্চা পার করে এখন ঘরের লোকের মুখোশ টেনে খুলছেন অনামিকা। এবার নিজের স্বামী নামী অভিনেতা বোধিসত্ত্ব মজুমদারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অনামিকা সাহা। বাদ পড়লেন না প্রয়াত শাশুড়িও।
প্রেম করেই বিয়ে হয়েছিল এই অভিনেতা দম্পতির। সাতের দশকের শেষে রামমোহন লাইব্রেরিতে প্রথম নাটক মঞ্চস্থ হল। সেই নাটকেই প্রথম দেখা অনামিকা আর বোধিসত্ত্বর। মন বিনিময় থেকে বিয়ে। প্রেম করার সময় অনামিকার গায়ের কালো রং বোধিসত্ত্বর খারাপ লাগার কারণ হয়নি। কিন্তু প্রেমিকা স্ত্রী হতেই নাকি শ্বশুরবাড়িতে গায়ের রঙের জন্য অপমানিত হতে থাকেন তিনি।
অনামিকা সাহা একদিকে যেমন দাপুটে খলনায়িকা, অন্যদিকে তেমন স্নেহময়ী মা। নায়িকার রোল না পেয়েও চরিত্রাভিনেত্রীর রোলে অনামিকা অসামান্যা। কেরিয়ারের শুরুর দিকে ভ্যাম্প রোলেই অনামিকা কাজ করতেন বেশি। নেচেগেয়ে পুরুষের মন ভোলানোর রোল। অনামিকার চাবুকের মতো সেক্সি চেহারায় সেসব রোল ফুটত ভাল। বিয়ের পর অনামিকাকে শ্বশুর বলেছিলেন 'এসব খারাপ মেয়ের চরিত্র আর করতে হবে না বৌমা'। ফিল্মি কেরিয়ার ছেড়ে তিনি আকাশবাণীর নাটকে যোগ দেন। পরে 'বেদের মেয়ে জোসনা' ছবি দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হয় তাঁর।
তবে বোধিসত্ত্বর স্নিগ্ধ রূপের সঙ্গে শ্যামলা রঙের স্ত্রী অনামিকা মানানসই ছিলেন না। আত্মীয়স্বজনের বিদ্রুপ শুনতে হত এই দম্পতিকে। তার ওপর সাহা পদবীর অনামিকা বিয়ে করলেন মজুমদারকে।
অনামিকা বললেন 'অভিনয়ের জন্য বাইরে আমি প্রশংসিত হলেও, আমার এই অভিনয় সত্ত্বাকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বাপের বাড়ির লোকদেরও অভিনয় জীবনে পাশে পাইনি। 'বেদের মেয়ে জোসনা' ছবির বিরাট সাফল্যের পরও স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকেরা খুশি হননি। '
অনামিকাকে নিজের থেকে নীচু ক্লাসের মনে করতেন বোধিসত্ত্ব। অনামিকার কথায় 'আমার বরের সঙ্গে যখন প্রেম হল তখন তিনি 'লাইটহাউস', 'গ্লোব' এসব সিনেমা হলে ইংরেজি ছবি দেখতেন। বম্বেতে বোধিসত্ত্ব কেরিয়ার গড়ার চেষ্টা করেও সফল হননি। কলকাতা ফিরে এসে নাটক নিয়ে এম এ পড়েন। তারপর নাট্যকার শোভনলাল মুখোপাধ্যায়ের থিয়েটার দলে যোগ দেন। প্রেম দিয়ে শুরু হলেও আমার বরের সঙ্গে আমার চিরকাল থেকেছে ইগোর লড়াই। রূপের দম্ভ ছিল বোধিসত্ত্বর। ও অনেক সুন্দর। আমি ওর মতো ফর্সা নই। বোধিসত্ত্বর রূপের অহংকার প্রকাশ পেত কথায়। 'শয়তান' নাটকে আমার বরের চরিত্রেই অভিনয় করেন বোধিসত্ত্ব। নাটক শেষে সাজঘরে এসে আমায় সবাই বলেন 'কী দারুণ অভিনয় করেছ অনামিকা!' যা শোনেন আমার স্বামী। তখন অবশ্য আমাদের বিয়ে হয়নি। বিয়ের কথা চলছে। বোধিসত্ত্বকে দর্শকরা বলেন 'মঞ্চে কী হ্যান্ডসাম লাগছিল আপনাকে!' রেগে গিয়ে বোধিসত্ত্ব বলেন 'আমাকে দেখতেই শুধু ভাল লাগল, আমি কি ভাল অভিনয় করিনি?'
নাট্যকার শোভনলালবাবু আমাকে বলেছিলেন, অনামিকা বোধিকে বিয়ে করার কথা ভুলে যাও!'

কিন্তু পাকেচক্রে তা আর হয়নি। বিয়ে হয় অভিনেতা দম্পতির। এমনকী পুত্রবধূকে দেখতে গিয়ে অনামিকার গায়ের রং কালো দেখে শাশুড়ি বাড়ি এসে কেঁদে ভাসিয়েছিলেন। সুদর্শন ছেলে কেমন মেয়ে পছন্দ করল!
বর্ণবৈষম্যের কারণেই নাকি কখনও একসঙ্গে কোনও রিয়্যালিটি শোতেও আসেননি বোধিসত্ত্ব আর অনামিকা। দর্শকরা বহু পরে জেনেছেন বোধিসত্ত্বর স্ত্রী অনামিকা। শুনে আঁতকেও উঠেছেন অনেক দর্শক। অনামিকা চিরকাল খলনায়িকা করেছেন আর বোধিসত্ত্ব সব ইতিবাচক চরিত্র। তাঁরাই যে একসঙ্গে সংসার করতে পারেন, তা ভাবতেই পারেনি আমজনতা।
বোধিসত্ত্ব আর অনামিকার এক মেয়ে। উচ্চশিক্ষিত মেয়ে বাইরে চাকুরিরতা। অবসর পেলেই মেয়ের কাছে থাকতে চলে যান অনামিকা। আজও একসঙ্গে থাকেন , তবু বোধিসত্ত্ব অনামিকার মাঝে দূরত্বের পাঁচিল রয়েই গেছে।