অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তোলেন, এই পোশাককে ‘গাউন’ বলা ঠিক হচ্ছে কি? কারণ, গাউন পড়ে ওয়ান পিসের অধীনে আর সেখানে আলিয়ার পরনে যে পোশাকটি দেখা যাচ্ছে তাতে রয়েছে ব্লাউজ, স্কার্ট আর ড্রেপ।

কানের রেড কার্পেটে আলিয়া ভট্ট
শেষ আপডেট: 27 May 2025 13:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলিয়া ভাট ৭৮তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের অনুষ্ঠানে গুচির এক ঝলমলে পোশাকে হাজির হন (Alia Bhat wears Gucci saree)। ভারতীয় পোশাকের অনুপ্রেরণা তাতে স্পষ্ট। কিন্তু গোল বাধল তখন, যখন গুচি সেই পোশাকের ছবি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে সেটিকে ‘গাউন’ বলে উল্লেখ করে। আর তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভারতীয় ফ্যাশনপ্রেমীরা।
অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তোলেন, এই পোশাককে ‘গাউন’ বলা ঠিক হচ্ছে কি? কারণ, গাউন পড়ে ওয়ান পিসের অধীনে আর সেখানে আলিয়ার পরনে যে পোশাকটি দেখা যাচ্ছে তাতে রয়েছে ব্লাউজ, স্কার্ট আর ড্রেপ। তাই যা বলা হচ্ছে আর যা আলিয়া পরেছেন- এই দুয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ।
আলিয়ার কান অভিষেকের জন্য স্টাইলিস্ট রিয়া কাপুর যে পোশাকটি তৈরি করিয়েছেন, সেটা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওরা একটা সেক্সি, মিনিমাল পোশাক তৈরি করেছে, তার সঙ্গে যুক্ত করেছে একেবারে ড্রামাটিক এক ড্রেপ।
আলিয়া ভাট (Alia Bhatt) গুচির প্রথম ভারতীয় গ্লোবাল অ্যাম্বাসাডর, তাই ভারতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রেরণায় পোশাক বানানোর নেপথ্যে রয়েছে আলিয়ার সঙ্গে ব্র্যান্ডের এই বিশেষ সম্পর্ক। আলিয়াও বলেন, এই পোশাক আসলে তাঁর চোখে শাড়ির এক নতুন সংজ্ঞা।
অনেক ভারতীয় ফ্যাশন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, গুচির উচিত ছিল পোশাকের ভারতীয় ডিজাইনের উৎসকে স্বীকৃতি দেওয়া।
তাহলে গুচি একে গাউন বলল কেন?
গুচির পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য আসেনি। তবে অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী মনে করছেন, এটা একধরনের ‘কালচারাল ইরেজার’ বা ‘ওয়েস্টার্ন সেন্ট্রিক দৃষ্টিভঙ্গি’।
এক বিশিষ্ট ফ্যাশন বিশেষজ্ঞের মতে, ‘আজকাল যদি কোনও পোশাক মাটিতে গড়িয়ে পড়ে, তাহলেই তাকে গাউন বলে চালানো যায়, সেটা ব্লাউজ-স্কার্ট হলেও। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি পোশাক বিক্রি করছেন, না একটা গল্প বলছেন? গুচি হয়তো দ্বিতীয়টাই করতে চেয়েছে।’
আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কাছে ভারতীয় সংস্কৃতি অনুপ্রেরণার ভান্ডার, এ কথা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু সেই অনুপ্রেরণা যখন কোনও রেড কার্পেট বা গ্লোবাল মঞ্চে তুলে ধরা হয়, তখন তার উপযুক্ত স্বীকৃতি দেওয়াটাও জরুরি। শুধু সাজিয়ে-গুছিয়ে একটা নাম দিয়ে দিলেই হয় না। নামের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ইতিহাস, পরিচয় আর এক সংস্কৃতির প্রতি সম্মান।