বিমানে সেরা সিট নির্ভর করে ব্যক্তিগত চাহিদার উপর, তবে লেগস্পেস ও আরামের জন্য বাল্কহেড ও এমার্জেন্সি এক্সিট সিটই জনপ্রিয়। বিশেষজ্ঞ জানালেন বিস্তারিত।

বিমানের সেরা আসন কোনটি?
শেষ আপডেট: 27 May 2025 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোথাও বেড়াতে যেতে হলে, ফ্লাইটের টিকিট কাটার তারিখ বা হোটেল বুকিং নিয়ে অনেক চিন্তাভাবনা করেন যাত্রীরা। কিন্তু কেউ কি কখনও ভেবে দেখেছেন, বিমানের কোন সিটটি যাত্রার সবচেয়ে উপযুক্ত হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই পরামর্শ দিয়েছেন এভিয়েশন বিশ্লেষক ধৈর্যশীল বান্ডেকর।
তিনি জানিয়েছেন, বিমানের সেরা আসন বাছাই করা একান্তই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। এটা নির্ভর করে, ভ্রমণের সঙ্গী কারা, কতক্ষণের বিমানযাত্রা, কীভাবে যেতে পছন্দ করেন যাত্রী-- যেমন কাজ করতে করতে বা ঘুমোতে ঘুমোতে বা পড়তে পড়তে, বাজেট এবং শারীরিক বা মানসিক চাহিদার উপর।
তবে এসবের মধ্যেও কিছু আসন সবসময়ই জনপ্রিয়। যেমন, বাল্কহেড ও এমার্জেন্সি এক্সিট সিট: এই সিটগুলোতে অতিরিক্ত লেগস্পেস বা পা রাখার জায়গা থাকে, তাই এগুলো অনেক যাত্রীর প্রথম পছন্দ। যারা দীর্ঘ ফ্লাইটে একটু আরামে বসতে চান, তাঁদের জন্য এগুলো সেরা। আইল সিট: যাঁরা বারবার ওঠা-নামা করেন বা সহজে মুভ করতে চান, তাদের জন্য আইল সিট আদর্শ। পাশের যাত্রীর অসুবিধা ছাড়াই উঠা-নামা সম্ভব। উইন্ডো সিট: অসাধারণ আকাশের দৃশ্য উপভোগ করতে চান যাঁরা, উইন্ডো সিট তাঁদের জন্য। পরিবার ও দলগত ভ্রমণ: একসঙ্গে সপরিবার বা বন্ধুবান্ধব মিলে ভ্রমণ করা যাত্রীরা একসঙ্গে বসার সুযোগ খোঁজেন। তাঁদের জন্য পাশাপাশি সিট থাকাই প্রধান বিবেচনা। ফ্রন্ট রো সিট: সামনের সারির সিটগুলোতে নামার সময় কম লাগে এবং সার্ভিসও আগে পাওয়া যায় বলে অনেক যাত্রী এগুলো পছন্দ করেন।
বিমানে যান্ত্রিক গোলযোগ বা আগুন লাগার মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটে। বিভিন্ন দুর্ঘটনার সাক্ষী বিমানে 'ব্ল্যাকবক্স' থেকে জানা যায় দুর্ঘটনার কারণ। বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, ডানায় আগুন লেগে সেখান থেকে তা গোটা বিমানে ছড়িয়ে পড়ে। অথবা যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে মুখ থুবড়ে পড়ে বিমানে আগুন ধরে যায়। তবে এমন নয় যে বিমানের নির্দিষ্ট আসনে বসলেই প্রাণ সংশয়ের ঝুঁকি থাকবে না। তবে বিপদ এড়ানো যাবে অনেকটাই।

এই বিষয়ে সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড’ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাভিয়েশনের এক অধ্যাপক ডগ ড্রুরি বলেছেন, মাঝ আকাশে বিমানে আগুন লেগে যাওয়া কিংবা অবতরণের সময় বিমান ভেঙে পড়ার মতো অবাঞ্ছিত বিপদ আসতেই পারে। তাছাড়া এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। অধ্যাপকের মতে, জানলা বা করিডোরের আসনগুলোর তুলনায় মাঝের আসনে বসলে প্রাণ বাঁচালেও বাঁচতে পারে। মাঝের আসনে বসলে যেহেতু আপনার দু’পাশে যাত্রী থাকবে, তাই মৃত্যুর ঝুঁকি কমতে পারে। বিমানের সামনের অংশ সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক, মাঝের অংশ তুলনায় সুরক্ষিত, আর শেষে লেজের দিকের অংশ বেশি নিরাপদ।

বিলাসবহুল বিমান ছাড়া, সাধারণ মানের বিমানগুলোতে আসন ব্যবস্থা মোটামুটি এক। সেই ছক অনুযায়ী, তিনটি আসনের মাঝেরটি তো বটেই, এ ছাড়াও আপৎকালীন রাস্তার আগের সারিতে বসা নিরাপদ বলেই মনে করেন তিনি। ফ্লাইটগ্লোবালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ১২টি বিমান বিপর্যয়ে গত বছর প্রায় ২২৯ জন মারা গেছে। গত ১৫ জানুয়ারি নেপালের পোখরায় বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ৬৮ যাত্রী এবং ৪ ক্রু সদস্য। সুতরাং, বিমানে দুর্ঘটনায় সবসময় যে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যায়, তা নয়। তবে অধ্যাপকের কথামতো যদি সিটে বসতে পারেন তাহলে কিছুটা হলেও ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।