‘ধুরন্ধর’ ছবিতে ২৬/১১ মুম্বই হামলার দৃশ্যের শুটিং শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন অক্ষয় খান্না ও অর্জুন রামপাল।

‘ধুরন্ধর’
শেষ আপডেট: 21 February 2026 11:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই জঙ্গি হামলার পুনর্নির্মাণ, শুধু দর্শকদের নয়, অভিনেতাদের মনেও গভীর ছাপ ফেলেছিল। বক্স অফিসে সাফল্য পাওয়া ‘ধুরন্ধর’ ছবির অন্যতম আলোচিত সেই দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন অক্ষয় খান্না এবং অর্জুন রামপাল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আর মাধবন।
সোনিয়া শেনয়ের সঙ্গে কথোপকথনে মাধবন জানান, একটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক দৃশ্যের শুটিংয়ের পর অক্ষয় এবং অর্জুন “সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন”। আশ্চর্যের বিষয়, এই আবেগঘন মুহূর্তটি ক্যামেরা চলাকালীন নয়, বরং ‘কাট’ বলার পর সামনে আসে। তখনই তারা উপলব্ধি করেন, তারা ঠিক কী ভয়াবহ ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেছেন।

কেন এতটা প্রভাব ফেলেছিল সেই দৃশ্য?
ছবিতে অক্ষয় খান্না এবং অর্জুন রামপাল পাকিস্তানি চরিত্রে অভিনয় করেন, যাদের পর্দায় হামলার পর উল্লাস করতে দেখা যায়। যদিও এটি সম্পূর্ণ স্ক্রিপ্টের অংশ, তবুও এমন চরিত্রে অভিনয় করা তাদের জন্য মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন ছিল। মাধবনের কথায়, দুই অভিনেতাই সেই সময়ের বাস্তব পরিস্থিতির সাক্ষী ছিলেন এবং দেশের সম্মিলিত ট্র্যাজেডির স্মৃতি তাদের মনে এখনও জীবন্ত। ফলে শুটিং শেষ হলেও আবেগ থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়নি।
সেটে কী দেখেছিলেন মাধবন?
মাধবন জানান, পুরো সেটজুড়ে তখন চাপা উত্তেজনার পরিবেশ ছিল। পরিচালক ‘কাট’ বলার পরই যেন সব ভেঙে যায়। তাঁর কথায়, “ওরা অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁদছিল।” সেই মুহূর্তেই তিনি বুঝতে পারেন, ছবিটি সত্যিই বিশেষ কিছু হতে চলেছে। তাঁর মতে, এই আবেগ অভিনেতাদের দুর্বলতা নয়, বরং চরিত্রের প্রতি তাদের গভীর নিষ্ঠার প্রমাণ।
আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে মুক্তি পায় এবং বছরের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক সাফল্য হিসেবে উঠে আসে। ছবিতে অভিনয় করেছেন রণবীর সিং, অক্ষয় খান্না, আর মাধবন, অর্জুন রামপাল এবং সঞ্জয় দত্ত। বাস্তব ঘটনার বাস্তবসম্মত উপস্থাপনার জন্য ছবিটি বিশেষ প্রশংসা পায়।
প্রথম ছবির সাফল্যের পর এবার আসছে ‘ধুরন্ধর ২’। আগামী ১৯ মার্চ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে সিক্যুয়েলের। পরিচালনায় আবারও রয়েছেন আদিত্য ধর। নতুন ছবিতে আন্ডারকভার এজেন্ট হামজা আলি মাজহারির গল্প আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হবে এবং একাধিক ভাষায় মুক্তি পাবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা বলে জানা গেছে।