বলিউডের খিলাড়ি অক্ষয় কুমার শুক্রবার মুম্বইয়ে রাজ্য পুলিশ সদর দফতরে আয়োজিত সাইবার অ্যাওয়ারনেস মান্থ ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন।

শেষ আপডেট: 3 October 2025 18:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের খিলাড়ি অক্ষয় কুমার শুক্রবার মুম্বইয়ে রাজ্য পুলিশ সদর দফতরে আয়োজিত সাইবার অ্যাওয়ারনেস মান্থ ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ, মহারাষ্ট্র পুলিশের ডিজি রশ্মি শুক্লা, আইপিএস অফিসার ইকবাল সিং চাহাল, অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায়ও। তবে এই দিন অক্ষয়ের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন ফেলে দিল এক মর্মস্পর্শী ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।
অভিনেতা জানান, কয়েক মাস আগে তাঁর বাড়িতেই ঘটে গিয়েছিল এক অস্বস্তিকর ঘটনা। মেয়ে একটি অনলাইন ভিডিও গেম খেলছিল। সেই খেলায় অচেনা এক ব্যক্তি যুক্ত ছিল অপরপ্রান্তে। হঠাৎই একটি বার্তা আসে—“তুমি ছেলে না মেয়ে?” ছোট্ট মেয়ে সরল মনে লিখে দেয়, “ফিমেল।” সঙ্গে সঙ্গেই বিপরীতে আসে ভয়ঙ্কর অনুরোধ—“তুমি কি নিজের নগ্ন ছবি পাঠাতে পারো?” অক্ষয় শেয়ার করলেন, “এটা ছিল আমার মেয়ে। সে সঙ্গে সঙ্গে খেলা বন্ধ করে দেয়, গেম সুইচ অফ করে মাকে সব বলে দেয়।”
অভিনেতার গলায় কাঁপুনি ভেসে আসে সেই অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দিতে গিয়ে। তিনি বলেন, “এইভাবেই শুরু হয়। এটাই সাইবার অপরাধের অংশ। আজকের দিনে এই অপরাধ রাস্তাঘাটের অপরাধকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তাই আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করব, মহারাষ্ট্রের সপ্তম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি ক্লাসে সপ্তাহে অন্তত একদিন যেন সাইবার পিরিয়ড রাখা হয়। যাতে আমাদের সন্তানরা বুঝতে শিখতে পারে, কীভাবে নিজেদের রক্ষা করবে।”
অক্ষয়ের এই আবেদন ছিল এক শক্তিশালী সতর্কবার্তা। তাঁর মতে, দ্রুত বদলাতে থাকা ডিজিটাল দুনিয়ায় শিশু-কিশোরদের সুরক্ষার জন্য সচেতনতা তৈরি করা এখনই জরুরি। তাই পাঠ্যসূচির অংশ হিসেবেই তিনি চান সাইবার শিক্ষা—যেখানে পড়ুয়ারা শিখবে কীভাবে অচেনা বিপদ এড়াতে হয়, কেমন করে নিজেদের নিরাপদ রাখতে হয়।
শুক্রবারের এই অনুষ্ঠানে অক্ষয়ের বক্তব্য যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, বিনোদনের দুনিয়ার ঝলমলে মুখোশের আড়ালেও একজন বাবা আছেন, যিনি মেয়ের জন্য ভয় পান, চিন্তিত হন, এবং একইসঙ্গে অন্য সব অভিভাবকের মতোই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত দেখতে চান। তাঁর আবেগভরা আবেদন তাই শুধু রাজ্যের উদ্দেশে নয়, প্রতিটি পরিবারের জন্যও এক বড় বার্তা—ডিজিটাল যুগে বাচ্চাদের নিরাপত্তা আমাদের সবার দায়িত্ব।