
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 7 November 2024 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সলমন খানের পর শাহরুখ। বৃহস্পতিবার সকালে খুনের হুমকি পান বলিউড বাদশা। মুম্বই পুলিশের কাছে একটি হুমকি ফোন আসে। ৫০ লাখ টাকা চেয়ে পাঠানো হয়। নম্বর ট্র্যাক করে হুমকিদাতার খোঁজ পায় পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, ফয়জান খান নামের ওই ব্যক্তি পেশায় আইনজীবী। ১৯৯৪ সালে আনজাম নামের একটি সিনেমায় শাহরুখ হরিণ মারা প্রসঙ্গে একটি ডায়ালগ দেন। সেই ডায়ালগের ভিত্তিতেই অভিনেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন ফয়জান। এই ব্যক্তির পাল্টা দাবি, তিনি কোনও হুমকি দেননি। ওই মামলার জন্য এভাবে মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উড়ো ফোনের মাধ্যমে হুমকি পায় মুম্বই পুলিশ। বাবা সিদ্দিকি খুনের পর থেকে এমনিই সতর্ক তারা। ফোন পেয়ে তড়িঘড়ি শুরু হয় তদন্ত। জানা যায়, ছত্তিশগড় থেকে ফোনটি এসেছিল। ফোন নম্বরের লোকেশন ধরেই ব্যক্তির খোঁজ শুরু হয়।
তারপরই তদন্তে উঠে আসে ছত্তিশগড়ের ফয়জন খান নামের ওই ব্যক্তির নাম। লোকেশন দেখে ছত্তিশগড়ে পৌঁছায় তারা।
সেখানে গিয়েই গল্প ঘুরে যায়। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নভেম্বরের ২ তারিখে তাঁর ফোন চুরি হয়ে যায়, সেই সংক্রান্ত একটি অভিযোগ তিনি আগেই দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, যে ফোন চুরি করেছে, সে বা তারা এই হুমকি দিয়ে থাকতে পারে। নিজের সপক্ষে তাঁর যুক্তি, তিনি কিছুই জানেন না এবিষয়ে। তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশকে তিনি জানান, ১৯৯৪ সালে 'আনজাম' নামের একটি সিনেমায় শাহরুখ হরিণ মারা প্রসঙ্গে একটি ডায়ালগ দেন। ছবিতে শাহরুখকে তাঁর পরিচারককে নির্দেশ দিতে শোনা যায়, গাড়িতে হরিণের দেহ রয়েছে। সেই ডায়ালগের ভিত্তিতেই অভিনেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন ফয়জান।
তাঁর বক্তব্য এই মামলার জন্যই তাঁকে হয়তো ফাঁসানো হচ্ছে। যদি তাঁর এই দাবির প্রেক্ষিতে কোনও প্রমাণ সেভাবে মেলেনি এখনও। তিনি দাবি করেন, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর অন্য একটি ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি পুলিশকে বলেন, 'আমার নম্বর ট্র্যাক না করে ফোন ট্র্যাক করুন।'
ফয়জান আরও জানান, তাঁর বিষ্ণোই কমিউনিটির অনেক বন্ধু রয়েছে। তিনি জানেন এই গোষ্ঠীর ২৯টি প্রিন্সিপ্যাল রয়েছে। হরিণ মারা অপরাধ, এই বিষয়টিও রয়েছে এর মধ্যে। কিন্তু মুসলিম হিসেবে এই নিয়ে মন্তব্য করায় সমস্যা হতে পারে বলে তিনি মামলা করেন বলে জানান।
প্রসঙ্গত, ১২ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকি খুনের পর থেকে একের পর এক হুমকি ফোন উড়ে আসে সলমন খানের কাছে। ফোন পায় মুম্বই পুলিশও। কখনও ২ কোটি, কখনও ৫ কোটি চাওয়া হয়। এই ঘটনায় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে শেষ কয়েকদিনে।
খুনের হুমকি পান বাবা সিদ্দিকির ছেলে বান্দ্রার বিধায়ক জিশানও। বেশ কয়েকটি ঘটনার তদন্ত ইতিমধ্যেই করা হয়েছে। মহারাষ্ট্র থেকে ২ জন ও নয়ডা থেকে এক ট্যাটু আর্টিস্টকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। শাহরুখ হুমকি পাওয়ার পর এবার উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন।