
সুচিত্রা সেন ও আরাত্রিকা মাইতি
শেষ আপডেট: 20 December 2024 22:59
একদা নক্ষত্রের আলোয় যাঁরা প্রজ্জ্বল হয়ে ওঠেন, একদিন তাঁরা হারিয়ে যান ধূসর সন্ধ্যায়। কিন্তু গ্রেটা গার্বো, ইনগ্রিড বার্গম্যান, এলিজাবেথ টেলর, জেনিফার জোন্স, কানন দেবী হয়ে অন্তরালবর্তিনী সুচিত্রা সেন; সকলেরই দীপ্তিতে আজও রোমাঞ্চিত মানুষ।
মহানায়িকা প্রয়াত আজ প্রায় ১১ বছর। কিন্তু তিনি বর্তমান। জীবন্ত। শাশ্বত। তাঁর বাঁকা ঠোঁটের হাসি আজও মন কেড়ে নেয় বাঙালিদের। চোখের চাহনি ঘুম কেড়ে নিতে পারে বহু পুরুষের। সম্প্রতি অভিনেত্রী আরাত্রিকা মাইতির পোস্ট করা ছবি দেখেও অনেকেরই খানিকটা সেই দশাই। তাঁর মুখের ঢঙও যেন মহানায়িকারই মতো। যে কারণে এক প্রকার অস্বস্তিতেই পড়েছেন তিনি।
বলছেন, ‘প্রচণ্ড অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে আমাকে ফেলা হচ্ছে। আমি যেখানেই যাচ্ছি, সে ফ্লোর হোক বাইরে, এ নিয়ে চর্চা হচ্ছে। আমি ভাবিইনি এত কিছু হবে। শুধু একটা সেলফি তুলে পোস্ট করেছিলাম। তারপর থেকেই এই অবধি মোট তেরোটা ফোন পেয়েছি। এখন মনে হচ্ছে যে কেন পোস্ট করতে গেলাম।’
আরাত্রিকার কথায়, ‘যাঁরা আমায় চেনেন তাঁরা জানেন রঙিনের থেকে সাদা-কালো ছবি আমি বেশি পছন্দ করি। এর কোনও কারণ নেই। যে কোনও ছবিই সাদা-কালো করে দেখে তারপর পোস্ট করি। এক্ষেত্রেও তাই করেছি। তারপর থেকেই দেখছি এই ছবি নিয়ে কেউ না কেউ চর্চা করছে।’
সোশ্যাল মিডিয়া এমনই, হাত ধরাধরি করে ট্রোলিং-ও নিজের মহিমায় সামিল হয়। আরাত্রিকার ক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম হয়নি। অভিনেত্রীর কথায়, ‘ট্রোলকে আমি কোনও ভাবেই দেখি না কিছু মনে করি না। সেটা খুবই স্বাভাবিক। দর্শনা বণিক ‘যমালয়ে জীবন্ত ভানু’ ছবিতে মহানায়িকার ছবিতে অভিনয় করে ট্রোলের শিকার হয়েছেন। এসব নিয়ে আমি ভাবছিই না। ক'দিন আগে তো দেখলাম আমারই একটা সাদা-কালো আর রঙিন ছবি পাশাপাশি রেখে পোস্ট করেছে একটি সংবাদমাধ্যম। তাতে কেউ কেউ লিখেছেন, ‘পাশেই তো মহানায়িকার ছবি আছে, তোমরা কার সঙ্গে কার তুলনা করছ? একজন আগরতলা একজন খাটের তলা’— এদিকে দুটোই আমার ছবি।’
অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘আমি প্রথম দিকে ভীষণই ঘেঁটে গিয়েছিলাম, ভাবছিলাম এসব কী হচ্ছে। এত কেন ফোন আসছে। একটা নরম্যাল ছবিই তো আপলোড করেছি। কারণ আমি শুধু লম্বা লম্বা করে কাজল পরতে আর সেলফি তুলে পোস্ট করতে ভালবাসি। সবাই এখন আমায় বোঝাচ্ছেন যে এত কিছু ভাবার দরকার নেই। পজিটিভলি যেন নিই।’
আরাত্রিকা খোলসা করেন, ‘কিছুদিন আগে থেকেই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা হত। আমিও মহানায়িকার সিনেমা দেখে কিছু জায়গা অবজার্ভ করেছি। তারপর মনে হল, এরকম করে ছবি তোলা যাবে না। কিন্তু সব সময় তো আর সে কথা মাথায় থাকে না। আজ থেকে না, আমি একদম ছোট থেকেই চোখ টেরিয়ে ছবি তুলতে ভালবাসি। এখন এই ছবি নিয়ে লোকে মাতামাতি করছে।’
গোটা ব্যাপারটাকেই আরাত্রিকা মানুষের আশীর্বাদ হিসেবেই দেখছেন। জানালেন, ‘দর্শনা বণিক হোক বা পাওলি দাম, প্রত্যেকেই চেষ্টা করেন সুচিত্রা সেনের এক শতাংশ হওয়ার। ওঁর মতো দেখানোর। ভাল লাগছে এই ভেবে যে আমি কোনও চেষ্টা করিনি। সামান্য একটা পোস্ট করেছি তাতেই মানুষ মহানায়িকার সঙ্গে তুলনা টানছেন।’