
রাজেশ-রঞ্জীত
শেষ আপডেট: 9 May 2025 19:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের জনপ্রিয় খলনায়ক তিনি। রঞ্জীত যেমন সিলভার স্ক্রিনে ছিলেন ভয়ঙ্কর, বাস্তব জীবনে ততটাই ছিলেন প্রাণোচ্ছল, অতিথিপরায়ণ ও বন্ধুবৎসল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সত্তরের সময়ে সন্ধে হলেই কীভাবে তাঁর জুহুর বাড়ি, বলিউড সুপারস্টারদের হাজিরায় বদলে যেত এক রমরমা রাতপার্টিতে।
‘নিরামিষ’ রঞ্জীতের ‘রসগোল্লা’ পার্টি
অদ্ভুত শোনালেও সত্যি—নিজে এক ফোঁটাও মদ ছুঁতেন না, অথচ রাতভর চলত পার্টি! রাজেশ খান্না, রীনা রায়, পরভীন ববি, মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়, নীতু কাপুর থেকে শুরু করে ধর্মেন্দ্র, সুনীল দত্ত, ফিরোজ খান—কারা আসেননি সে আড্ডায়! রঞ্জীত বলেন, ‘ভালবাসা দিয়ে মানুষদের আমন্ত্রণ জানানো মানে ঈশ্বরের আশীর্বাদ পাওয়া। আমি তাই করতাম।’
রাজেশ খান্নার মদের নেশা ও সকাল ১০টার শুটিং!
রঞ্জীত জানান, রাজেশ খান্না একসঙ্গে এক বা দু’বোতল মদ খেয়ে ফেলতেন। আর পার্টির রেশ কাটতে না কাটতেই সকাল হয়ে যেত। যার ফলে ‘সকাল ১০টার শুটিংয়ে কেউই ঠিক সময়ে পৌঁছাত না,’ বলেই হেসে ফেলেন রঞ্জীত। ‘সবাই দুপুরের পর আসত। আমি তখন একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ করতাম, কারণ জানতাম বাকিরা দেরি করবেই।’
রাঁধুনি রীনা, মিক্সোলজিস্ট পরভীন, ও ‘ভিন্ডি স্পেশাল’ নীতু
এই পার্টিগুলোর বিশেষ আকর্ষণ ছিল স্টারদের হাতের রান্না। রীনা রায় বানাতেন পরোটা, মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় মাছ রান্না করে মাতিয়ে দিতেন, পরভীন ববি মিশিয়ে দিতেন ড্রিঙ্কস, আর নীতু কাপুরের বানানো ঢেঁড়স ছিল সবার ফেভারিট! শুধুই খাওয়া-দাওয়া নয়, হাসি-ঠাট্টা, গল্প আর ভালবাসায় ভরা থাকত রাতগুলো।
সিনেমার বাইরের রঞ্জীত: এক অন্য জগৎ
‘ধর্মাত্মা’, ‘নমক হালাল’, ‘লাওয়ারিস’, ‘শরাবি’-র মতো ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয়ের বাইরে রঞ্জীতের জীবন ছিল বলিউডের বন্ধুদের জন্য এক আশ্রয়ের নাম। তাঁর বাড়ি ছিল এমন এক জায়গা, যেখানে বন্ধুত্ব, আবেগ আর স্মৃতিরা মিশে গড়ে উঠত এক সোনালী অধ্যায়। আজও অনেকে বলেন, সেই পার্টিগুলোতে ছিল না কোনও বেপরোয়া নেশার আসর। বরং এক মধুর সময় যেখানে গল্প-খাবার-হাসি ঠাট্টা চলত পানীয়ের থেকেও বেশি।