আমি ঐসব মোদক ঠাকুরকে দিই না। পারি না, করিও না। আড়ম্বরের থেকেও আসল তো হচ্ছে মনের ভক্তি।

গ্রাফিক্স -দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 27 August 2025 17:40
আজ সারা শহর জুড়ে গণেশ চতুর্থীর সাজো সাজো রব। মহারাষ্ট্রের পুজো সাড়ম্বরে বরণ করে নিয়েছে বাংলার মানুষ। আজ বাঙালির ঘরে-বাইরে চারিদিকে গণেশ পুজোর রমরমা। বিশ্বকর্মার পুজো নয়, গণেশ পুজো দিয়েই এখন বাঙালির উৎসবের আমেজ শুরু হয়। এখন তো সেলেবদের ঘরেও গণেশ চতুর্থী ঘটা করে পালন করা হয়। আজ গণেশ চতুর্থীর দিন জনপ্রিয় অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় কী করছেন? কতটা মন থেকে তিনি মানেন এই ভিনরাজ্যের পুজো কালচারকে? দ্য ওয়াল আড্ডায় জানালেন ভাস্বর নিজেই।
ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় বললেন 'আজকে শুটিং তো আছেই। এমন নয় যে ছুটি আছে। তবে আমাদের বাড়ি প্রত্যহ তো পুজো হয়ই। আজ গণেশ চতুর্থীর দিন ঠাকুরঘরে গণেশ ঠাকুরকে আমিই পুজো করলাম। বৈষ্ণব দেবীর মাতারানিও আমার ঠাকুরঘরে প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন। আজকের দিনে গণেশ ঠাকুরকে একটু স্পেশাল করে খেতে দিলাম, আমি গণেশ ঠাকুরকে নিরামিষ ভোগ, ফল প্রসাদ দিই। আমি ঐসব মোদক ঠাকুরকে দিই না। পারি না, করিও না। আড়ম্বরের থেকেও আসল তো হচ্ছে মনের ভক্তি। আমি মোদক কিনি না। তার কারণ মোদক মিষ্টিটা আমাদের সংস্কৃতি নয়। আমি গণেশকে সারা বছর যেভাবে পুজো করি সেইভাবেই ডাকব। আমার তো মোদক দেওয়ার কোনও প্রয়োজনই নেই।'

ভাস্বরের বাড়ি বাঁকুড়াতেও দুর্গাপুজো হয়। অষ্টধাতুর মূর্তিতে হয় মায়ের পুজো। তাঁর কাছে গণেশ মানে বাংলার গণেশ। মহারাষ্ট্রের গণেশ পুজোকে অসম্মান করেন না ভাস্বর। কিন্তু তাঁদের অনুকরণ করতে নারাজ অভিনেতা।
ভাস্বর আরও বললেন 'আমাদের বাড়িতে কিন্তু পুরনো গণেশ ঠাকুরই। আমি এই মাটির গণেশ মূর্তি এক জায়গা থেকে কিনে নিজেই হলুদ রং করেছিলাম। আমার বাড়িতে গণেশ মানে অবাঙালি গণেশ নয়। এখনকার এত গয়না পরা গণেশ, মাথায় ছাতা দিয়ে নাচছেন এরকম গণেশ আমার নয়। একদম বাঙালি গণেশ যেমন হয়।
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2022/05/bhaswar.jpg)
ওঁদের কালচার আমি কেন মানব! আমাদের যা কালচার সেটাই মেনে চলি। ওরা কি আমাদের কালচারকে মানবে? তা তো নয়! যার যার ঠাকুর নিজেদের সংস্কৃতি অনুযায়ী পুজো করা উচিত। গণেশের সনাতন রূপ আমার কাছে সবথেকে প্রিয়। আমি ছোট থেকে এতটা জীবন কলকাতায় কাটালাম, আমি তো এত গণেশ পুজো হতে দেখিনি। বছর পাঁচেক দেখছি বীভৎস গণেশ পুজো শুরু হয়েছে কলকাতাতে। ডিজে বাজিয়ে গণেশ পুজো যত হয় কিন্তু বিশ্বকর্মা পুজো, সরস্বতী পুজো অলিগলিতে অত হয় না আর আজকাল। আগে তো দেখতাম ব্যাঙ্কেও বিশ্বকর্মা পুজো হয়। কারখানাগুলো উঠে যাওয়াতে বড় বিশ্বকর্মা পুজো আর হয় না। অথচ মেশিন ছাড়া আমরা চলতে পারি না। বিশ্বকর্মাকে আমাদের দরকার।

গণেশকে আমরা চিরকাল বাড়ি ছেলে হিসেবেই দেখেছি, বিরাট আহ্বান করে ঘটা করে পুজো একদমই ছিল না। যদিও এটা একদিকে ভাল হয়েছে কারণ গণেশ ছাড়া তো কোনও পুজো শুরু হয় না। আমি মহারাষ্ট্রের গণেশ চতুর্থীতেও গিয়েছি। অসাধারণ।দেখেছি কত বড় বড় গণেশ, ক্রেনে করে গণেশ সাগরে ফেলা হয় ওঁদের। আমাদের দুর্গা পুজোর মতোই ওঁদের গণেশ পুজো। কিন্তু ওঁরা তো নবরাত্রি মানলেও, এত বড় করে গণেশ পুজো করছে না। বাঙালি আসলে হল হুজুগে জাতি। বাঙালি নিজের সংস্কৃতি মেনে পুজো করুক।'