স্পাই ইউনিভার্সের ছবিগুলিও এই ট্রেন্ডকে আরও সত্যি প্রমাণ করেছে। ওয়ার (War) আয় করেছিল প্রায় ৪৭৫ কোটি টাকা, আর টাইগার (Tiger 3) ছুঁয়েছিল প্রায় ৪৬৪ কোটি টাকা। বড় মাপের অ্যাকশন, তারকাখ্যাতি এবং আন্তর্জাতিক স্কেলের প্রযোজনা, হিসেব কষলে দেখা যায় এই তিনের মেলবন্ধনেই তৈরি হয়েছে এই সাফল্য।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 22 March 2026 16:55
গত কয়েক বছরে বলিউডের বক্স অফিসের দিকে তাকালে একটা বিষয় স্পষ্ট— বড় মাপের অ্যাকশন ছবি যেন একের পর এক রেকর্ড গড়ছে। সাম্প্রতিক উদাহরণ ধুরন্ধর (Dhurandhar The Revenge), যা মাত্র তিন দিনেই বিশ্বজুড়ে ৫০০ কোটির গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই ট্রেন্ড কি নতুন? একেবারেই নয়। গত কয়েক বছর ধরেই এই বিষয়টা নজরে আসছে।
শেষ কয়েকবছরে বলিউডের বক্স অফিস সাকসেস
২০২৩ সালে শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan)-এর কামব্যাকই বদলে দিয়েছিল বলিউডের বক্স অফিস সমীকরণ। পাঠান (Pathaan) বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করে নতুন ট্রেন্ড সেট করে। তার পরেই আসে জওয়ান (Jawan), যা প্রায় ১১৫০ কোটির বেশি আয় করে আরও বড় রেকর্ড গড়ে। তবে একই বছরে মুক্তি পাওয়া ডানকি (Dunki) তুলনামূলকভাবে কম আ করে, তবুও প্রায় ৪৭০ কোটির ব্যবসা করে সফল হয়।
অন্যদিকে, রণবীর কাপুর (Ranbir Kapoor) অভিনীত অ্যানিম্যাল (Animal) প্রমাণ করে দেয়, শুধুমাত্র অ্যাকশন নয়, ডার্ক ও ইন্টেন্স গল্পও দর্শকদের টানতে পারে। এই ছবি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯০০ কোটির কাছাকাছি ব্যবসা করে, যা ‘A’ সার্টিফিকেট পাওয়া ছবির ক্ষেত্রে খুব একটা নজরে পড়ে না।
স্পাই ইউনিভার্সের ছবিগুলিও এই ট্রেন্ডকে আরও সত্যি প্রমাণ করেছে। ওয়ার (War) আয় করেছিল প্রায় ৪৭৫ কোটি টাকা, আর টাইগার (Tiger 3) ছুঁয়েছিল প্রায় ৪৬৪ কোটি টাকা। বড় মাপের অ্যাকশন, তারকাখ্যাতি এবং আন্তর্জাতিক স্কেলের প্রযোজনা, হিসেব কষলে দেখা যায় এই তিনের মেলবন্ধনেই তৈরি হয়েছে এই সাফল্য।
অ্যাকশন মানেই কি ছবি হিট?
তবে সব অ্যাকশন ছবিই যে সফল, তা নয়। অনেক বড় বাজেটের ছবিও চিত্রনাট্যের দুর্বলতার কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফলে স্পষ্ট, শুধুমাত্র বিস্ফোরণ, স্টান্ট বা ভিএফএক্স দিয়ে দর্শককে ধরে রাখা যায় না।
ওটিটি যুগে দর্শক ঘরে বসেই নানা ধরনের কনটেন্ট দেখছেন। তাই প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবি দেখার জন্য তাঁরা ‘বিশেষ’ কিছু চান, আর সেই জায়গায় অ্যাকশন ছবি এগিয়ে থাকলেও, দিনের শেষে এটা সত্যি যে কনটেন্টই শেষ কথা বলে।
সব মিলিয়ে, বলিউডে এখন অ্যাকশন ছবির দাপট থাকলেও, পাঠান (Pathaan), জওয়ান (Jawan), অ্যানিম্যাল (Animal) বা ধুরন্ধর (Dhurandhar The Revenge)— প্রতিটি ছবির সাফল্যের পেছনেই কাজ করেছে ভিন্ন ভিন্ন ফ্যাক্টর। তাই এক কথায় বলা যায় না, “অ্যাকশন মানেই হিট”, বরং সঠিক চিত্রনাট্যের বুনট, অভিনয়, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, উপস্থাপনা, সবটা মিলে তৈরি করছে আসল ব্লকবাস্টার।
অ্যাকশন ঘরানার সব ছবিই যে সফল হয়েছে, তা কিন্তু একেবারেই নয়। বরং একাধিক বড় বাজেটের অ্যাকশন ছবি বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সে প্রমাণও রয়েছে বলিউডের ঝুলিতে।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যায় বড়ে মিঞা ছোটে মিঞা (Bade Miyan Chote Miyan)-কে। অক্ষয় কুমার (Akshay Kumar) ও টাইগার (Tiger Shroff) অভিনীত এই হাই-অকটেন অ্যাকশন ছবিটি বিশাল বাজেট ও প্রচার সত্ত্বেও বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। একইভাবে গণপথ (Ganapath), যেখানে আবারও টাইগার শ্রফকে অ্যাকশন অবতারে দেখা যায়, তবে সেটিও প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের টানতে ব্যর্থ হয়।
আরও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল হিরোপন্থি ২ (Heropanti 2) ভিএফএক্স ও স্টান্টে ভরপুর এই ছবিটিও বক্স অফিসে কোনও ফলই করতে পারেনি। এমনকি বড় তারকা ও অ্যাকশন ঘরানার সমীকরণ থাকলেও, অ্যাটাক পার্ট ১ ( Attack Part 1)-এর মতো ছবিও প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।
বলিউডের নয়া সমীকরণ
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের একশ্রেণির মতে, এই ব্যর্থতার মূল কারণ একটাই— চিত্রনাট্যে বুনটের অভাব। দর্শক এখন শুধুমাত্র অ্যাকশন দৃশ্য নয়, তার সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য কাহিনি চান, চান ভাল অভিনয়, উপস্থাপনা আর পরিচালনা। ফলে শুধু স্টান্ট, বিস্ফোরণ বা আন্তর্জাতিক মানের প্রেজেন্টেশন থাকলেই যে ছবি হিট হবে, সেই তথ্য সঠিক নয়।
সব মিলিয়ে, বলিউডের বর্তমান বক্স অফিস চিত্র বলছে, অ্যাকশন নিঃসন্দেহে বড় ফ্যাক্টর, কিন্তু সেটাই শেষ কথা নয়। “অ্যাকশন মানেই হিট”— এই সমীকরণটা মেনে চললে ভুল হবে। অ্যাকশন ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে, তা বলাই চলে, তবে সঙ্গে বাকি রসদে ভাটা পড়লে, ফল খুব একটা সুখকর যে হবে না, সে প্রমাণ বলিউড হাতে গরম পেয়ে গিয়েছে।