এর আগে ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবর রটেছিল। পরিবার প্রতিবাদ করেছিল সামাজিক মাধ্যমে। তবে সোমবার সকালটায় দেওল পরিবারের জন্য শুভ হল না। একটা নাগাদ প্রথম জানা যায়, ধর্মেন্দ্র নেই।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 24 November 2025 19:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৭৫ সাল। মুক্তি পেল এক ছবি, যে ছবির নাম 'ধরম করম'। ছবির হিরো। সিনেমাটিতে তাঁর এক বিখ্যাত সংলাপ মনে পড়ে? 'মর জায়ুঙ্গা তো লোগ রোয়েঙ্গে, জিন্দা রাহু তো লোগ জলতে রহেঙ্গে'। অর্থাৎ যেদিন মারা যাব সেদিন অনেকে কাঁদবে, বেঁচে থাকলে সবাই হিংসে করবে। দীর্ঘ জীবনে বহু হিংসের সম্মুখীন হতে হয়েছে, কিন্তু আজ তাঁর প্রয়াণে থমথমে গোটা দেশ। মারা গিয়েছেন বলিউডের হি- ম্যান ধর্মেন্দ্র। তিনি যে অসুস্থ ছিলেন, তা সকলেই জানতেন। চিকিৎসকেরাও এক প্রকার জবাব দিয়ে দিয়েছিলেন দিন কয়েক আগেই। তবু আশা তো জাগে! তা ভাঙলে দগ্ধ হয় মন।
এর আগে ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবর রটেছিল। পরিবার প্রতিবাদ করেছিল সামাজিক মাধ্যমে। তবে সোমবার সকালটায় দেওল পরিবারের জন্য শুভ হল না। একটা নাগাদ প্রথম জানা যায়, ধর্মেন্দ্র নেই। তাও হেমা মালিনীকে শ্মশানঘাটে পৌঁছতে দেখেই সন্দেহ জাগে পাপারাৎজির। এরপর একের পর এক তারকা যেমন অমিতাভ বচ্চন, সলমন খান, সায়রা বানু, আমির খান সহ প্রত্যেকেই হাজির হতে শুরু করে ভিলে পার্লের শ্মশানে।
কিছুই এর পর আর চাপা থাকেনি। তবে বাকিদের থেকে ধর্মেন্দ্রর শেষযাত্রা ছিল খানিক আলাদা। একবার ভুল খবর ছড়িয়েছিল, অকারণে পরিবার পড়েছিল বিড়ম্বনায়, তাই এবার সবটাই হয়েছে নীরবে, একেবারে নিভৃতে। ধর্মেন্দ্র কখন প্রয়াত হলেন, কীভাবে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হল শ্মশানে তা টের পেল না কেউই। এমনকি পরিবারের পক্ষ থেকে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা তো দূর, কোনও অফিসিয়াল স্টেটমেন্টও আসেনি এখনও পর্যন্ত। হল সবটাই, তবে আড়ালে।
এ দিন বিকেল গড়াতেই দেখা যায়, তাঁর অস্থি নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ছুটে চলেছে মুম্বইয়ের জনবহুল রাস্তায়। সেই গাড়িতে পরিবারের কেউ নেই যদিও। বেলা বাড়িতেই বাড়ির সামনে দেখা যায় বড় ছেলে সানি দেওলকে। ওদিকে আবছা কাচের মধ্যে থেকেই মিডিয়ার উদ্দেশে হাতজোড় করতে দেখা যায় হেমা মালিনীকে। চোখে জল, মুখ ম্লান।
সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা মানুষটি চিরকাল থেকেছেন মাটির কাছাকাছি। আমৃত্যু অভিনয় করেছেন। ভালবেসেছেন দর্শকদের। তিনি চলে গেলেন। রয়ে গেল তাঁর সৃষ্টি, তা মুছে ফেলার সাধ্যি কার?