টাইমস স্কোয়ারের রাতজাগা আকাশ হঠাৎই যেন এক অচেনা বার্তা পেল। অন্ধকারে ঝলসে উঠল বিশাল এক বিলবোর্ড—একটি পাখির সিলহুয়েট, চোখে অদৃশ্য দিগন্তের দিকে তাকানো চাহনি।

শেষ আপডেট: 11 December 2025 17:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টাইমস স্কোয়ারের রাতজাগা আকাশ হঠাৎই যেন এক অচেনা বার্তা পেল। অন্ধকারে ঝলসে উঠল বিশাল এক বিলবোর্ড—একটি পাখির সিলহুয়েট, চোখে অদৃশ্য দিগন্তের দিকে তাকানো চাহনি। তার নীচেই শীতল নীল আলোর মতো ফুটে ওঠা অক্ষর: “সব কিছু উন্মোচিত হবে। স্পিলবার্গ (steven spielberg)। 06.12.26.”। লস এঞ্জেলেসেও দেখা গেছে একইরকম রহস্যময় বিজ্ঞাপন। কিন্তু এই প্রচারের আড়ালের গল্প কী—সে প্রশ্নে এখন নেমে এসেছে এক গভীর ছায়া।
বিশ্বসিনেমার মহাশিল্পী স্টিভেন স্পিলবার্গ, যিনি ‘ই.টি.’, ‘ক্লোজ এনকাউন্টারস’ এবং ‘ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস’-এর মতো ছবিতে অজানা পৃথিবীর সম্ভাবনাকে মানুষের আবেগে মিশিয়েছেন, আবারও ফিরছেন এক UFO-কেন্দ্রীক রহস্যময় অভিযানের গল্প নিয়ে। ছবিটির নাম বা থিম এখনও তালাবন্ধ, কিন্তু সেই গোপনীয়তাই যেন উত্তেজনাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
২০১৪ সাল থেকেই এই প্রকল্পের ভাবনা তাঁর মনে পাক খেতে শুরু করে। তিনি নিজেই গল্পের কাঠামো তৈরি করেছেন এবং সেই ভাবনাকে চিত্রনাট্যে পরিণত করছেন জুরাসিক পার্ক-খ্যাত লেখক ডেভিড কিপ। অভিনেতাসূচীও যেন এক অভিনয়মেলা—এমিলি ব্লান্ট, ওয়াইয়াট রাসেল, কলম্যান ডোমিংগো, কলিন ফার্থ, ইভ হিউসন, জোশ ও’কোনর—প্রতিটি নামই দর্শকের ভরসা আর প্রত্যাশাকে আরও দৃঢ় করে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে নিউ জার্সির বিভিন্ন লোকেশনে শুটিং শুরু হয়। পথচলতি মানুষের মোবাইল ক্যামেরায় ধরা পড়ে ব্লান্ট ও রাসেলকে দৌড়ে পালাতে দেখা যাচ্ছে, কখনো আবার রেলগাড়ির সামনে থেকে উত্তেজনাপূর্ণ এক পরিত্রাণের দৃশ্য। যেন সিনেমার চরিত্ররা কোনো অজানা বিপদের ফাঁদে হেঁটে যাচ্ছে। মার্চে এক অদ্ভুত তথ্য আরও কৌতূহল বাড়ায়—MRI টেকনিশিয়ানদের জন্য বিশেষ কাস্টিং কল। ছোট্ট এক ঘোষণা, কিন্তু যেন ইঙ্গিতে বলছে, ছবিতে কি কোনো বৈজ্ঞানিক রহস্য লুকিয়ে আছে?
স্বল্প তথ্যের মধ্যে দ্রুতই শেষ হয়েছে শুটিং। ইউনিভার্সাল পিকচার্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১২ জুন মুক্তি পাবে ছবিটি—গ্রীষ্মের সেই সময়ে, যখন দর্শকদের মন রহস্য ও রোমাঞ্চে সবচেয়ে বেশি আলোড়িত থাকে।
কাহিনি এখনও সম্পূর্ণ আঁধারে। UFO-ই কি গল্পের কেন্দ্রবিন্দু, না কি তার চেয়েও গভীর কোনো সত্য? সেটেও ধরা পড়েছে কয়েকটি কালো অদ্ভুত গাড়ি, বিরল ধরনের ল্যাবরেটরি সেটআর পরিবেশ—যা যেন স্পিলবার্গের আগের মহাকাব্যিক অভিযাত্রার ইঙ্গিত বহন করে। বিলবোর্ডে লেখা “সব কিছু উন্মোচিত হবে” লাইনটি নিয়েও উঠেছে নানা অনুমান—এটাই কি ছবির অনানুষ্ঠানিক থিম, নাকি সম্ভাব্য শিরোনাম Disclosure? স্টুডিও এখনও মুখ খুলতে নারাজ।
তবে এটুকু নিশ্চিত—এই চলচ্চিত্র শুধু UFO-র গল্প বলবে না; বলবে মানুষের ভয়, বিস্ময়, কৌতূহল আর জ্ঞানের তৃষ্ণার গভীরে থাকা অনুভূতির কথা। স্পিলবার্গ নিজে যখন ঘোষণা দিলেন যে তিনি এখনও সিনেমা ছাড়ছেন না, তখনই দর্শকদের মনে ফিরে এসেছে নতুন এক ভোরের প্রত্যাশা।