মোদীজির সমর্থনে বারবার এগিয়ে এসেছেন এই দুই শিল্পী। কিন্তু আজ এমন এক সময়ে এ হেন দুই মোদীভক্তর সম্পর্কে ধরেছে এক বিরাট ফাটল! তৈরি হয়েছে দূরত্ব। একসময় পরেশ-অক্ষয়ের জুটি পেয়েছে সাফল্যর স্বাদ। একাধিক ছবিতে প্রশংসিত হয়েছে পরেশ-অক্ষয়ের কেমিস্ট্রি। কী কারণে সম্পর্কে এমন বিরোধ? কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, পরিস্থিতির জটিলতা এমন হয়েছে, আদালত অবধি গড়াতে পারে জল! কী কারণে আলাদা-আলাদা হয়ে গেলেন পরেশ-অক্ষয়?

ফিরবে জুটি?
শেষ আপডেট: 26 May 2025 16:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরেশ রাওয়াল। খ্যাতনামা বলিউড অভিনেতা। শুধু তাই নয় যিনি রাজনীতিতেও সক্রিয়। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র সদস্য। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে আহমেদাবাদ পূর্ব লোকসভা কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিতও হন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে সুপরিচিত এবং মোদীর নেতৃত্বের প্রতি প্রকাশ্যে একাধিকবার প্রশংসা করেছেন। শুধু তাই নয় সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি তিনি সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন এবং বিজেপির প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

অন্যদিকে অক্ষয় কুমার। জনপ্রিয় বলিউড সুপারস্টার। তবে, সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত না হলেও বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রতি তাঁর ঘনিষ্ঠতা ও সমর্থনের কারণে আলোচিত। ২০১৯ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একটি ‘অরাজনৈতিক’ সাক্ষাৎকার নেন, যা ব্যাপকভাবে প্রচারের আলোয় আসে। সাক্ষাৎকারে মোদীর ব্যক্তিগত জীবন, অভ্যাস ও চিন্তাভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন, যা অনেকেই মোদীকে মানবিকভাবে উপস্থাপনের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেন। এখানেই শেয় নয়, অক্ষয় কুমার প্রায়শই সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও ক্যাম্পেইনের প্রশংসা করেছেন, যেমন ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’, ‘ফিট ইন্ডিয়া’, ইত্যাদি। তবে তিনি কখনও প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি।
মোদীজির সমর্থনে বারবার এগিয়ে এসেছেন এই দুই শিল্পী। কিন্তু আজ এমন এক সময়ে এ হেন দুই মোদীভক্তর সম্পর্কে ধরেছে এক বিরাট ফাটল! তৈরি হয়েছে দূরত্ব। একসময় পরেশ-অক্ষয়ের জুটি পেয়েছে সাফল্যর স্বাদ। একাধিক ছবিতে প্রশংসিত হয়েছে পরেশ-অক্ষয়ের কেমিস্ট্রি। কী কারণে সম্পর্কে এমন বিরোধ? কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, পরিস্থিতির জটিলতা এমন হয়েছে, আদালত অবধি গড়াতে পারে জল! কী কারণে আলাদা-আলাদা হয়ে গেলেন পরেশ-অক্ষয়?
ঝড়ের এমন ‘হেরাফেরি’, বিধ্বস্ত সম্পর্ক!
বলিউডের কমেডি ক্লাসিক ‘হেরা ফেরি’ সিরিজের তৃতীয় কিস্তি নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এখন যেন এক বিশাল ধোঁয়াশা। ঠিক তখনই, যখন সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন অক্ষয় কুমার এবং পরেশ রাওয়ালকে একসঙ্গে পর্দায় ফেরার জন্য—ঠিক তখনই ঘটে গেল এক অবাক করা ঘটনা। পরেশ রাওয়াল ঘোষণা করলেন, তিনি আর ‘হেরা ফেরি ৩’-এর অংশ নন।

বাবুরাওয়ের বিদায়: ‘এ চরিত্রটা এখন আর করতে ইচ্ছে করছে না’
১৬ মে, পরেশ রাওয়াল জানিয়ে দেন যে তিনি এই প্রজেক্ট ছেড়ে দিচ্ছেন। ‘এই চরিত্রটা আর এখন করতে ভালো লাগছে না,’—এই ছিল তাঁর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা। কিন্তু এর পর থেকেই বলিউড জুড়ে শুরু হয় জল্পনা, বিতর্ক, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের খেলা।
অক্ষয় কুমারের আইনি পদক্ষেপ
‘হেরা ফেরি ৩’ ছেড়ে পরেশের বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ে যে অক্ষয় কুমার এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ করছেন। তাঁর প্রোডাকশন হাউজের পক্ষে আইনজীবী পূজা তিডকে জানান, ‘পরেশ রাওয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন তিনি ছবির অংশ। এরপর চুক্তিও স্বাক্ষর হয়। এমনকি তিন মিনিটের কিছু দৃশ্য শুটও হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত প্রোডাকশনকে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে। তাই চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়েছে যে এর আইনি পরিণতিও রয়েছে।’
পরেশ রাওয়ালের পাল্টা জবাব
এই অভিযোগের পাল্টা জবাবে, পরেশ রাওয়ালের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, ‘এটাকে সিনেমার শুট বলা হচ্ছে, অথচ সেটি ছিল শুধুই একটি প্রোমো শুট। প্রকৃত ছবির শুট তো এখনও শুরুই হয়নি! উনি তো এমন এক অভিনেতা, যিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শককে হাসিয়েছেন। তাঁকে অপেশাদার বলা হাস্যকর।’ ২৫ মে, পরেশ রাওয়াল নিজেই একটি টুইটে লেখেন, ‘আমার আইনজীবী অমিত নায়েক ছবির প্রযোজকদের কাছে আমার আইনসম্মত জবাব পাঠিয়েছেন। আমি আমার সাইনিং অ্যামাউন্ট সুদসহ ফেরত দিয়েছি। বিষয়টি এখানেই শেষ হবে বলেই মনে করি।’
অভিনেতা সুনীল শেট্টি ও পরিচালক প্রিয়দর্শনের প্রতিক্রিয়া
সুনীল শেট্টি বলেন, ‘আমি ভীষণ দুঃখিত। ব্যাপারটা আমি মিডিয়া থেকেই শুনেছি। আমি চাই না এর ফলে অক্ষয়-পরেশের মধ্যে কোনও দূরত্ব তৈরি হোক। যদি সিনেমাটা না-ও হয়, আমাদের বন্ধুত্ব যেন অটুট থাকে।’ অন্যদিকে পরিচালক প্রিয়দর্শন এই ঘবর শুনে হতবাক, বলেন, ‘আমি ওঁর কাছ থেকে কোনও খবর পাইনি। অক্ষয় যখন বলেছিলেন, আমি দু'জনের সঙ্গেই কথা বলেছিলাম। দু'জনেই রাজি ছিলেন। এখন কেন এমন হল, বুঝতে পারছি না।’ এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, ‘অক্ষয়ের চোখে জল ছিল। সে আমাকে বলেছিল, ‘প্রিয়, পরেশ এটা আমাদের সঙ্গে করল কেন?’

‘হেরা ফেরি ৩’ এর ভবিষ্যৎ?
২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হেরা ফেরি’ ছিল এক বিশাল চমক। এরপর ২০০৬-এ আসে ‘ফির হেরা ফেরি’, এবং সেখানেও ছিল দমফাটানো হাসি। তৃতীয় কিস্তি বারবার নানা কারণে থমকে গিয়েছে, ২০১৬-তেও কিছু শুট হয়েছিল, কিন্তু পরিচালক নীরজ ভোরার মৃত্যুর পর তা থেমে যায়। অবশেষে, যখন অরিজিনাল কাস্ট ফিরছিলেন প্রিয়দর্শনের পরিচালনায়, তখন সেটা এক দারুণ সুযোগ ছিল। তবে, পরেশ রাওয়ালের অনুপস্থিতিতে সিনেমার ভবিষ্যৎ আজ সত্যই অনিশ্চিত। বাবুরাও গনপতরাও আপটে চরিত্রটা এতটাই জনপ্রিয় যে তাঁকে ছাড়া এই সিরিজ অসম্পূর্ণ। আপাতত আশার আলো শুধু একটাই—মধ্যস্থতা। যদি কোনওভাবে বিবাদ মিটে যায়, তবেই হয়তো আবার একসাথে হাসতে এবং হাসাতে পারেন সেই নস্ট্যালজিক ত্রয়ী। ততদিন পর্যন্ত, ‘হেরা ফেরি’ ভক্তদের কাছে পড়ে রইল অপেক্ষা।