এবার বাংলা গল্প বলার ধরন বদলে যাচ্ছে। বড় পর্দা নয়, দীর্ঘ সিরিজ নয়—এখন মোবাইল স্ক্রিনেই আসর জমে উঠছে। সময়? মাত্র এক মিনিট!

প্রথম ধাপে মুক্তি পেয়েছে বাংলা ভাষায় চারটি সিরিজ।
শেষ আপডেট: 16 July 2025 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বার বাংলা গল্প বলার ধরন বদলে যাচ্ছে। বড় পর্দা নয়, দীর্ঘ সিরিজ নয়—এখন মোবাইল স্ক্রিনেই আসর জমে উঠছে। সময়? মাত্র এক মিনিট!
এসেছে বুলেট অ্যাপ। ছোট গল্প, কিন্তু তার রেশ থেকে যায় মনে। রাগ, প্রেম, ভয়, বিস্ময় আর মায়া—সব মিলেমিশে এক মিনিটেই তৈরি করছে একটা সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা। জি এন্টারটেনমেন্ট আর স্টার্টআপ বুলেট-এর যুগলবন্দিতে তৈরি এই মাইক্রোসিরিজগুলোর লক্ষ্য একটাই—স্বল্পসময়েই প্রভাব।
প্রথম ধাপে মুক্তি পেয়েছে বাংলা ভাষায় চারটি সিরিজ ডিয়ার দিদিমণি (৫৯টি এপিসোড), ফাঁদ দ্য ট্র্যাপ (৪৪টি এপিসোড), লক্ষ্মী পেল লটারি (৬০টি এপিসোড), ছায়াসঙ্গী (৪৭টি এপিসোড)।
সবুজ বর্ধন, শতাক্ষী নন্দী, অনুরাধা মুখোপাধ্যায়, শ্রুতি দাসদের মতো পরিচিত মুখ এই সিরিজগুলোয় অভিনয় করেছেন। পরিচালনায় রয়েছেন আরণ্যক চট্টোপাধ্যায়, সৌরভ চক্রবর্তী, অভ্রজিৎ সেন। গল্পের মুঠোয় যে আবেগ—তা নির্মিত হয়েছে শৌর্য্য দেব ও সৌরভ চক্রবর্তীর লেখায়।
চিন ও কোরিয়ায় এই মাইক্রোফর্ম সিরিজ বহুদিন ধরেই জনপ্রিয়। এখন ভারতও এগোচ্ছে সে পথেই। বুলেট অ্যাপের লক্ষ্য, কনটেন্ট কনজাম্পশনের ধরনটাই বদলে দেওয়া। এখানে এআই সাজিয়ে দেবে আপনার দেখা পছন্দের কনটেন্ট, গেমিফিকেশন রাখবে আপনাকে জড়িয়ে। এই মাইক্রোসিরিজ প্রজেক্টের মিশে আছে এক বিশাল পরিকল্পনা। মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য বানানো এই নতুন অ্যাপটি নির্মিত হয়েছে এমন এক ফরম্যাটে, যেখানে প্রতিটি গল্প ছোট, টানটান এবং একেবারে ক্রিয়েটর-ড্রিভেন।
এই গল্পগুলো শুধু দেখতে নয়, বিঞ্জ করতেও মন চায়। কারণ প্রতিটিই রয়ে গেছে সাসপেন্স আর আবেগের এমন মোড়ে, যা আপনাকে পরের এপিসোড দেখতে বাধ্য করবে। জি এই উদ্যোগকে বলছে ডিজিটাল কনটেন্ট দুনিয়ায় তাদের পরবর্তী বিপ্লব। আর এই বিপ্লব একেবারে বহুভাষিক—বাংলা তো আছেই, সঙ্গে থাকছে দেশের অন্যান্য ভাষাতেও কনটেন্টের সমাহার। বুলেট অ্যাপের মূল লক্ষ্যই তরুণ দর্শকদের কাছে পৌঁছনো। তাই ফরম্যাট রাখা হয়েছে একেবারে ভার্টিকাল, ফোনের জন্য পারফেক্ট। আর গল্প? ফাস্ট-পেসড, ইমোশনাল, যা বিঞ্জ করার মতো! এর নির্মাতা আজিম লালানি ও সৌরভ কুশওয়া, দুই অভিজ্ঞ মিডিয়া উদ্যোক্তা, যাঁদের লক্ষ্য—নতুন যুগের গল্প, নতুন কায়দায় বলা।
চিনে ইতিমধ্যেই মাইক্রো-ড্রামা নিয়ে বিপুল বাণিজ্য হচ্ছে—বছরে প্রায় ৬.৯ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা, যা বক্স অফিসকেও ছাপিয়ে গেছে। ভারতে ধিরে ধিরে শুরু হয়েছে সেই স্রোত। জি এই জায়গাটিকেই ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় বিনোদন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছে। লালানি ও কুশওয়া—দুজনেই মিডিয়ার পুরোনো খেলোয়াড়। লালানি ছিলেন Rediff, Network18, TV9, ও Indian Express-এর শীর্ষ পদে। আর কুশওয়া কাজ করেছেন Zee, Times of India, ABP News-এর মতো জায়গায়। তাঁরা দু’জনেই Fanory-র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য—একটি ক্রিয়েটর মনিটাইজেশন প্ল্যাটফর্ম, যা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পেয়েছে। দুই উদ্যোক্তার কথায়, “গল্প বলার ধরন বদলে গেছে। মানুষ এখন চায় সংক্ষিপ্ত, কিন্তু চুম্বকের মতো টান থাকা গল্প, যা এক মিনিটেই মন ছুঁয়ে যায়।”
বুলেট অ্যাপে শুধুমাত্র হিন্দি বা ইংরেজি নয়, থাকছে বহুভাষিক কনটেন্ট, যার মধ্যে বাংলাও অন্যতম। জি-র বিশাল কনটেন্ট ব্যাকবোন ব্যবহার করে এই অ্যাপ পৌঁছে যাবে ভারতের প্রতিটি কোণায়, প্রতিটি ভাষায়। এককথায় বললে—বুলেট অ্যাপ হল সেই নতুন বিনোদনের জানালা, যা খুললেই আপনি ঢুকে পড়বেন গল্পের এক ঝড়ের মধ্যে। আর জি সেই ঝড়কেই দিচ্ছে ডানা। গল্প এখন আর ঘণ্টা নয়, মিনিটেই শেষ। ফিল্ম বিশেষজ্ঞদের মতে—ছোট ফর্ম্যাটের এই গল্পগুলোই আগামী দিনে বদলে দিতে পারে ভারতের কনটেন্ট কনজাম্পশনের অভ্যাস।