ডাক্তার জানিয়েছিলেন আয়ু মাত্র ৩ থেকে ৬ মাস! ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক যুবরাজ সিং কীভাবে মারণরোগ ক্যানসারকে হারিয়ে মাঠে ফিরলেন? মাইকেল ভনের পডকাস্টে জীবনের সেই দুঃসহ স্মৃতিচারণ করলেন যুবি। বিস্তারিত পড়ুন।

যুবরাজ সিং
শেষ আপডেট: 9 April 2026 15:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজে সিরিজসেরা। টুর্নামেন্টের সফলতম অলরাউন্ডার। সব মিলিয়ে ভারতের ২০১১ বিশ্বকাপজয়ের অন্যতম সৈনিক। কিন্তু ট্রফি তুলে ধরার আগেই শরীরে বাসা বেঁধেছিল মারণরোগ। যুবরাজ সিং (Yuvraj Singh) জানতেন না, ক্যানসার (Yuvraj Singh Cancer) ঠিক কোথায়, কতটা ছড়িয়েছে। প্রতিযোগিতার পর যখন পরীক্ষা হল, চিকিৎসক জানালেন, হার্ট আর ফুসফুসের মধ্যে বাসা বেঁধেছে টিউমার। কেমোথেরাপি না নিলে আর আয়ু তিন থেকে ছয় মাস।
মাইকেল ভনের সঙ্গে ‘দ্য ওভারল্যাপ ক্রিকেট’ পডকাস্টে সেই দুঃসহ স্মৃতি আর জীবনযুদ্ধের এক অচেনা অধ্যায় মেলে ধরলেন যুবরাজ।
‘মরলেও চলবে, টেস্ট স্পট চাই’
বিশ্বকাপের পর শরীর ভেঙে পড়ছিল। তবু মাথায় ঘুরতে থাকে টেস্ট টিমের ভাবনা। যুবরাজের কথাইয়, ‘তখন সৌরভ অবসর নিয়েছে, টেস্টে আমার জায়গা খুলে গিয়েছে—যার জন্য সাত বছর অপেক্ষা করেছিলাম। মনে মনে বললাম, মরলেও চলবে, ওই স্পটটুকু চাই-ই-চাই!’
কিন্তু ঠিক তখনই বাদ সাধলেন চিকিৎসক নীতেশ রোহাতগি। কঠোর বাস্তবটা বুঝিয়ে দিলেন—এমন অবস্থায় ক্রিকেট খেলতে গেলে যে কোনও মুহূর্তে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। কেমো না নিলে মেয়াদ তিন থেকে ছয় মাস। তখন আর বিকল্প ভাবনার সময় ছিল না। যুবরাজ বুঝে গেলেন—পাকা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নইলে মৃত্যু অনিবার্য!
আমেরিকায় চিকিৎসা, মাঠে ফেরার স্বপ্ন
অনেকের সঙ্গে শলাপরামর্শের পর চিকিৎসার জন্য আমেরিকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন যুবি। ডাক্তার ডা. আইনহর্ন। যিনি ল্যান্স আর্মস্ট্রংয়েরও (ক্যানসারজয়ী সাইক্লিস্ট) চিকিৎসা করেছিলেন। যুবরাজকে অভয় জোগান আইনহর্ন। পিঠ চাপড়ে বলেন, ‘তুমি এই হাসপাতাল থেকে বেরবে এবং আর কোনওদিন তোমার ক্যানসার হবে না!’
Yuvraj Singh Exclusive: Playing With Sachin, Beating Cancer & Hitting Six Sixes!https://t.co/B9R1cwIBJG
— Stick to Cricket (@StickToCricket) April 9, 2026
কিন্তু সবই তো শারীরিক ধকল নয়। কর্কট-সহবাসের অনেকটা জুড়ে থাকে মানসিক যুদ্ধ। যা জিতে ফেরা আরও কঠিন। স্মৃতি হাতড়ে যুবরাজ বলেন, ‘এক বছর মেনে নিতে পারিনি, যে আর হয়তো ক্রিকেট খেলব না। ক্রিকেট না থাকলে আমি কে? কিছুই না—এটাই মনে হত!’
অবসাদ আসব আসব করছে যখন, নিজেকে চাঙ্গা রাখতেন কীভাবে? যুবির কথায়, চিকিৎসা চলাকালীন পুরনো ভিডিও দেখতেন। যে খবর পাওয়ামাত্র ছুটে আসেন সতীর্থ অনিল কুম্বলে। হাসপাতালের কেবিনে ঢুকে বিনা বাক্যব্যয়ে ল্যাপটপ বন্ধ করে দেন। বলেন, ‘অন্য কিছু না, স্রেফ স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দাও!’ কম্বলে একা নন। সচিন তেন্ডুলকরও (Sachin Tendulkar) দেখতে এসেছিলেন ইংল্যান্ডে। পাশে ছিল পরিবারও।
ফিরলেন… জিতলেন
কেমোথেরাপির পর মাত্র ছয় মাস। দুশ্চিন্তা মুছে এত অল্প সময়েই ভারতীয় দলে ফিরেছিলেন যুবরাজ সিং। টি-২০ বিশ্বকাপে একটি ম্যান অব দ্য ম্যাচ খেতাবও জোটে। তারপর জহির খানের সঙ্গে ফ্রান্সের প্রত্যন্ত শহর ব্রিভে দু’মাসের ফিটনেস ক্যাম্প। সেখান থেকে ফিরে আবার পুরোদমে ক্রিকেট।
২০১২ সালে ক্যানসার-যুদ্ধ জিতে 'ইউ উই ক্যান’ ফাউন্ডেশন তৈরি করেছেন যুবরাজ—ক্যানসার সচেতনতা ও আক্রান্তদের সহায়তার জন্য। ক্রিকেটের বাইরে তাঁর এই লড়াই বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।