গোটা ম্যাচ যদি ভাল করে লক্ষ্য করা যায় তাহলে দেখা যাবে জেমাইমা ব্যাট করতে নামার পর থেকেই চোখ বন্ধ করে খালি বিড়বিড় করে যাচ্ছিলেন।

অজি বধের নায়িকা জেমাইমা
শেষ আপডেট: 31 October 2025 00:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাত সাতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে (Australia) হারিয়ে বিশ্বকাপের (Women's World Cup) ফাইনালে পৌঁছেছে ভারতের মহিলা দল (India Australia)। চাট্টিখানি কথা নয়। আর এই অসাধ্যসাধন ঘটেছেই জেমাইমা রদ্রিগেজের জাদু কাঠিতে (Jemimah Rodrigues)। তাঁর ব্যাটে ১২৭ রানের ইনিংস দলের ভিত গড়ে দেয়। পাশে ছিলেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর, যিনি ৮৯ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন।
গোটা ম্যাচ যদি ভাল করে লক্ষ্য করা যায় তাহলে দেখা যাবে জেমাইমা ব্যাট করতে নামার পর থেকেই চোখ বন্ধ করে খালি বিড়বিড় করে যাচ্ছিলেন। একদম ইনিংসের শুরু থেকে। ঈশ্বরের কাছে কী চাইছিলেন অজি বধের নায়িকা? ম্যাচের সেরা হওয়ার পর যখন সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন তখনই জানালেন কথাটা।
জেমাইমা বলেন, "সেই সময় আমি বাইবেলের কথা মনে করছিলাম। আর নিজেকেই নিজে বলছিলাম, স্থির হয়ে দাঁড়াও, ঈশ্বর তোমার হয়ে লড়বেন।" শেষ মুহূর্তে ক্লান্ত শরীর, নিঃশেষিত শক্তি— তবু ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। ম্যাচের পর কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা, চোখে জল। ভারতীয় ব্যাটার জানান, "শেষ দিকে আমি এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম যে নিজের সঙ্গে কথা বলাও বন্ধ করে দিয়েছিলাম। শুধু বাইবেলের ওই একটি শ্লোকই আওড়াচ্ছিলাম। আমি কিছু করিনি, ঈশ্বরই সব করেছেন।"
নিজের ইনিংস নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে বরং সতীর্থদের কৃতিত্ব দিয়েছেন ভারতীয় ব্যাটার। জেমাইমা জানান, "শেষ কয়েক ওভারে দীপ্তি প্রতিটি বলের পর আমাকে উৎসাহ দিচ্ছিল। ওদের সমর্থন ছাড়া আমি পারতাম না। আমি এর কৃতিত্ব একা নিতে পারি না।"
নবি মুম্বাইয়ের দর্শকদের উদ্দেশেও বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি তিনি। বলেন, "এখানকার প্রতিটি সমর্থক, যাঁরা প্রতিটি রান উদযাপন করেছেন, চিৎকার করেছেন, বিশ্বাস রেখেছেন— তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ।"
জেমাইমা ম্যাচের আগে জানতেন না যে তাঁকে তিন নম্বরে নামতে হবে। বলেন, "আমি পাঁচ নম্বরে নামব ভেবেছিলাম। হঠাৎ বলা হল, আমি তিনে নামব। এটা নিজের কিছু প্রমাণ করার জন্য নয়, ভারতের জয় নিশ্চিত করার জন্যই মাঠে নামা।"
ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, দেশের জয়ই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তাঁর সাফ কথা, "আমার পঞ্চাশ বা শতরানের জন্য নয়, ভারতের জয়ের জন্যই খেলছিলাম। আমি জানি, ঈশ্বর তাঁদেরই পুরস্কৃত করেন যাঁদের উদ্দেশ্য সৎ।"
গত বছর এই বিশ্বকাপ থেকেই জেমাইমাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। মানসিকভাবে খুব খারাপ অবস্থায় ছিলেন বলে বহু সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তিনি। উদ্বেগে দিন কেটেছিল। তবু আশপাশের মানুষগুলো বিশ্বাস রেখেছিল তাঁর উপর। জেমাইমা বলেন, "আমি প্রায় প্রতিদিন কেঁদেছি। কিন্তু শেষমেশ বুঝেছি, আমার কাজ শুধু মাঠে হাজির হওয়া, বাকিটা ঈশ্বরের হাতে।"
শেষে প্রভু যিশুকে ধন্যবাদ জানিয়ে ম্যাচের সেরা রদ্রিগেজ বলেন, "আমি জানি, আজ ঈশ্বরই আমাকে বহন করেছেন। ধন্যবাদ মা-বাবা, কোচ, যাঁরা আমার উপর বিশ্বাস রেখেছেন। গত এক মাসটা খুব কঠিন ছিল, এখনও মনে হচ্ছে—সবটাই স্বপ্ন।"