প্রেমানন্দ মহারাজের উপদেশে কোনও নাটকীয়তা নেই। আছে সোজাসাপটা কথা—কাজ করো, কিন্তু অহংকার নয়। সফল হও, কিন্তু বিনয় খুইও না।

বিরাট কোহলি ও প্রেমানন্দ মহারাজ
শেষ আপডেট: 16 December 2025 16:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্পটলাইট, স্কোরকার্ড, বিতর্ক—সবকিছুর বাইরে আরও একবার। ভারত ফেরার পর সস্ত্রীক বৃন্দাবন যাত্রা করলেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। গন্তব্য সেই পরিচিত ঠিকানা—স্বামী প্রেমানন্দ মহারাজের (Premanand Maharaj) আশ্রম ‘শ্রীহিত রাধাকেলি কুঞ্জ’। অনুষ্কা শর্মাকে (Anushka Sharma) সঙ্গে নিয়ে নীরবে, নিরাভরণে হাজির হলেন কোহলি (Virat Kohli Premananda Maharaj)। ক্যামেরার ঝলকানি নয়, স্রেফ একান্ত কথোপকথন। আর সেখানেই জীবনের কাজ, সাফল্য আর আধ্যাত্মিকতার সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রেমানন্দ (Virat Kohli Premananda Maharaj)।
‘কাজকে ঈশ্বরের সেবা ভাবুন’
ভাইরাল ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে প্রেমানন্দ মহারাজের (Virat Kohli Premananda Maharaj) সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর উপদেশ। বিরাট-অনুষ্কার দিকে তাকিয়ে তিনি বলছেন—‘নিজের কাজের ক্ষেত্রকে ঈশ্বরের সেবা বলে ভাবুন। গম্ভীর থাকুন, বিনয়ী থাকুন। আর মন দিয়ে নামজপ করুন!’ কথাগুলো আলাদা কোনও ধর্মীয় আচার নয়, বরং জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর আহ্বান। বিরাটের মাঠে নামা, অনুষ্কার শুটিংয়ে যাওয়া, দুজনের কাজের চাপ—সবকিছুর মধ্যেই যেন সেবার ভাব থাকে। কর্মফল নয়, কর্মভাবটাই আসল—প্রেমানন্দের বক্তব্যের নির্যাস।
টেস্ট-অবসরের পরও একই পথে
এই সফর আলাদা করে নজর কাড়ছে আরও কারণে। চলতি বছরের মে মাসে টেস্ট ক্রিকেট (Test Cricket) থেকে অবসর নেওয়ার ঠিক পরদিনই বিরাট সস্ত্রীক প্রেমানন্দ মহারাজের (Virat Kohli Premananda Maharaj) কাছে আসেন। তখন প্রশ্নের মুখে—ফর্ম, সমালোচনা, অবসর-জল্পনা। প্রেমানন্দের প্রশ্ন ছিল, ‘এবার খুশি তো?’ উত্তরে বিরাট বলেছিলেন, ‘এখন ঠিক আছি।’সেই সাক্ষাতে মহারাজ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন—যশ, খ্যাতি বা বিত্ত ঈশ্বরের কৃপা নয়; অন্তরের চিন্তা বদলালেই তা চলে আসে। মাসকয়েক পর ফের একই আশ্রমে হাজির হওয়া বুঝিয়ে দিল—এই পথচলা ক্ষণিকের আবেগ নয়।
নামজপ, অনুরাগ আর বিনয়
মে মাসের সেই সাক্ষাতে অনুষ্কার প্রশ্ন ছিল—‘নামজপ করেই কি সব সম্ভব?’ প্রেমানন্দের জবাব আজও বদলায়নি। নামজপে ফল আসে, তবে সংখ্যায় নয়—অনুরাগে। অর্থাৎ, যন্ত্রে গোনা জপ নয়, মনের টান-ই আসল। সে বার আশ্রম ছাড়ার সময় বিরাটের হাতে দেখা গিয়েছিল জপযন্ত্র (Jap Machine)। তা ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ব্যাখ্যা ছোটে। প্রেমানন্দের বক্তব্য কিন্তু পরিষ্কার—সংখ্যা নয়, ভাব মুখ্য। এবারের সাক্ষাতেও সেই বিনয় আর অনুরাগের কথাই ফের শোনা গেল।
বারবার বৃন্দাবন কেন?
এ বছর বিরাট-অনুষ্কার তৃতীয় বৃন্দাবন-সফর। জানুয়ারিতে সন্তানদের নিয়ে এসেছিলেন। তার আগে উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দির, উত্তরাখণ্ডে নিম কারোলি বাবার আশ্রম—এই দম্পতির আধ্যাত্মিক যাত্রা নতুন নয়। সম্প্রতি তাঁরা ইংল্যান্ডে পরিবার নিয়ে থাকছেন। সেখান থেকে দেশে ফিরেই বৃন্দাবন—এই পছন্দ যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী। ক্রিকেটার হিসেবে বিরাট এখনও সক্রিয়—ওডিআই, আইপিএল (IPL), বিজয় হাজারে ট্রফি (Vijay Hazare Trophy)। কিন্তু মাঠের বাইরের জীবনেও তিনি খুঁজে চলেছেন ভারসাম্য।
প্রেমানন্দ মহারাজের উপদেশে কোনও নাটকীয়তা নেই। আছে সোজাসাপটা কথা—কাজ করো, কিন্তু অহংকার নয়। সফল হও, কিন্তু বিনয় খুইও না। আর যা কিছু করো, তাকে সেবার চোখে দেখো। বিরাট-অনুষ্কার এই বারবার ফিরে আসা যেন সেই শিক্ষাকেই আবার মনে করিয়ে দিল—কেরিয়ারের শিখরেও, জীবনের পাঠ শেষ হয়ে যায় না।