১১ বছর বাদে এই বিতর্কই উস্কে দিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার সুরেশ রায়না (Suresh Raina)। জানালেন, সময় এসেছে দ্বিতীয়বারের জন্য কোনও খেলোয়াড়কে ভারতরত্ন দেওয়ার। আর যার হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়া উচিত, তিনি আর কেউ নন—বিরাট কোহলি (Virat Kohli)!

বিরাট কোহলি ও সুরেশ রায়না
শেষ আপডেট: 18 May 2025 11:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের একমাত্র ক্রীড়াবিদ হিসেবে ভারতরত্ন পেয়েছেন শচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar)। ২০১৩ সালে ক্রিকেট থেকে অবসর নেন মাস্টার ব্লাস্টার। পরের বছর, ২০১৪ সালে লাভ করেন ভারতরত্ন খেতাব (Bharatratna)। কেন্দ্রের প্রস্তাবে অনুমোদন দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় (Pranab Mukhopadhyay)। এরপর সময় গড়িয়েছে। কিন্তু না ক্রিকেট, না অন্য কোনও ময়দান—খেলার জগতের কারও হাতে দেশের সর্বোচ্চ খেতাব জোটেনি।
১১ বছর বাদে এই বিতর্কই উস্কে দিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার সুরেশ রায়না (Suresh Raina)। জানালেন, সময় এসেছে দ্বিতীয়বারের জন্য কোনও খেলোয়াড়কে ভারতরত্ন দেওয়ার। আর যার হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়া উচিত, তিনি আর কেউ নন—বিরাট কোহলি (Virat Kohli)!
সম্প্রতি টেস্ট ক্রিকেটকে আলবিদা জানিয়েছেন বিরাট। বিশ্বকাপ জিতে টি-২০ ফর্ম্যাট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলে গত বছর। চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন লাল বলের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। আপাতত ওয়ান ডে ও আইপিএলে নামতে দেখা যাবে বিরাটকে। এই নিয়ে কথা চালাচালি, বিতর্ক, জল্পনা কম হয়নি।
কিন্তু সম্ভবত প্রথম কেউ, বিরাটের অবসরকে ঘিরে পদকপ্রাপির জিগির তুললেন। উল্লেখ্য, কোহলির একদা সতীর্থ সুরেশ রায়না দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন। ক্রিকেটের তিন ফর্ম্যাটেই বিরাটের সঙ্গে মাঠে নেমেছেন। এবার তাঁর ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে বলতে গিয়ে রায়না মন্তব্য করেন, ‘ভারতের হয়ে বিরাট যা কিছু অর্জন করেছে, দেশের ও দেশের ক্রিকেটের জন্য যতটুকু অবদান রেখেছে, তাতে ওর ও ভারতরত্ন পাওয়ার যোগ্য দাবিদার। সরকারের বিরাটকে এই খেতাব দেওয়া উচিত।‘
উল্লেখ্য, ভারতের হয়ে বিরাট কোহলি ১২৩টি টেস্টে নেমেছেন। ৯,২৩০ রান করেছেন। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৩০টি শতরান। গড় প্রায় ৪৭-এর কাছাকাছি।
আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের অবসরের ঘোষণায় (Virat Kohli Retirement) ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি লম্বা পোস্টে টেস্ট ক্রিকেটকে আলবিদার কথা জানিয়ে দিয়েছেন বিরাট। বলেছেন, ‘১৪ বছর আগে প্রথমবারের জন্য টেস্টের ব্যাগি ব্লু টুপি পরেছিলাম। কখনও ভাবিনি এই সফর এতটা লম্বা হতে চলেছে। এই জার্নি আমার পরীক্ষা নিয়েছে, আমায় গড়ে তুলেছে, জীবনের শিক্ষা দিয়েছে।‘
কতটা কঠিন ছিল এই ঘোষণা? তা খোলসা করতে গিয়ে কোহলি লিখেছেন, ‘ক্রিকেটের এই ফর্ম্যাট থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। কিন্তু এটাই সঠিক বলে মনে হয়েছে। আমার যা কিছু ছিল সব দিয়ে দিয়েছি। এর প্রতিদানে যা পেয়েছি, কল্পনাও করিনি তা কোনও পাব বলে।‘
সবশেষে ধন্যবাদ জানানোর সুরে জুড়ে দিয়েছেন, ‘একরাশ কৃতজ্ঞতা নিয়ে আমি চলে যাচ্ছি। খেলার জন্য, যাঁদের সঙ্গে খেলেছি তাঁদের জন্য এবং যে সমস্ত অনুরাগী আমায় এতদিন উজ্জীবিত রেখেছেন তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি আমার টেস্ট কেরিয়ারের দিকে সব সময় হাসিমুখেই ফিরে তাকাব।‘
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় কোহলির। তিন বছর বাদে দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন। এরপর দলকে ৬৮টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন (ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ)। হেরেছেন মাত্র ১৭টি ম্যাচ। জয়ের হার ৫৮.৮২%। ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে কোহলিই সবচেয়ে সফল অধিনায়ক। শেষ টেস্ট খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। বর্ডার-গাভাসকার ট্রফিতে একটি সেঞ্চুরি করলেও ছন্দে ছিলেন না কোহলি। যার জেরে ঘরে-বাইরে সমালোচনাও শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, আগের বুধবার টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন রোহিত শর্মা (Rohit Sharma)। এর দু’দিন বাদেই আচমকা জানা যায়, একই পথের পথিক হতে চাইছেন তাঁরই সতীর্থ, দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। রোহিতের মতো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কিছু না জানালেও, সূত্রের খবর, দু’সপ্তাহ আগেই নাকি বোর্ডের কাছে নিজের অবসরের বিষয়টি সাফ করে দেন বিরাট। এহেন আচমকা সিদ্ধান্তে কার্যত দিশেহারা বিসিসিআইয়ের শীর্ষকর্তারা ইতিমধ্যে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধও রাখেন।
এতদূর পর্যন্ত ঠিক থাকলেও কেন ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতি, আইপিএল নিয়ে জমতে থাকা অনিশ্চয়তার মেঘ এবং ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য দল ঘোষণার প্রাক্কালে এমন ‘ইচ্ছে’ বা ‘আর্জি’র কথা জানিয়েছেন কোহলি, সেই বিষয়ে অনুরাগী ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে জল্পনা বাড়তে শুরু করে।
এই বিষয়ে সরকারিভাবে কিছু বলা না হলেও, সূত্রের খবর, দিনকয়েক আগেই বিরাট নাকি বোর্ডের কাছে রোহিতের ছেড়ে রাখা আসনে বসার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিসিসিআই সেই দাবি খারিজ করে দেয়। বিরাটকে মিডল অর্ডারের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবেই দলে দেখতে চাইছেন নির্বাচকরা। টিমের অধিনায়কত্ব অপেক্ষাকৃত তরুণ কোনও সদস্যের হাতে তুলে দিতে ইচ্ছুক নির্বাচকদের একটা বড় অংশ। নেতৃত্বদখলের দৌড়ে এখনও পর্যন্ত এগিয়ে শুভমান গিল। মোট কথা, আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজ থেকেই টিম ইন্ডিয়ার টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে উঠে আসবে নতুন কোনও মুখ।
শুধু তাই নয়। ওই একই সূত্রের তরফে এও বলা হয়েছে, যেহেতু ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ক্যালেন্ডার শুরু হতে চলেছে, তাই অধিনায়ক ও দল হিসেবে তরুণ ব্রিগেডে আস্থা রাখতে চাইছেন গুরু গম্ভীরও। বিরাটকে ফের নেতৃত্বের কুর্সিতে বসালে বিষয়টা ‘সাময়িক সমাধানে’র মতো হত, ‘পাকাপাকি সুরাহা’ মিলত না। শুভমানের অধীনে একদম আনকোরা খেলোয়াড়দের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যে এগতে চাইছেন গম্ভীর। তাই বিরাটের প্রস্তাবে ‘না’ করেছেন। আর এই কারণেই অসন্তুষ্ট কিং কোহলি টেস্ট ক্রিকেটকেই ‘গুডবাই’ জানাতে এতটা উদ্গ্রীব।
এই অনুমান কতটা ঠিক, আদৌ ঠিক কি না, তা নিয়ে তর্ক চললেও পুরোপুরি স্বেচ্ছায় যে ক্রিকেটের প্রিয়তম ফর্ম্যাটকে বিদায় জানালেন না বিরাট, তা জলের মতো পরিষ্কার।