অল্প বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাড়া ফেলা এই কিশোর আপাতত বই নয়, ব্যাটেই মন দিচ্ছেন। পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া গেলেও, ক্রিকেটের মঞ্চ অপেক্ষা করে না।

বৈভব সূর্যবংশী
শেষ আপডেট: 15 February 2026 10:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকাল পর্যন্ত সব ঠিক ছিল, কিন্তু আজ সামনে এল অন্য খবর। গুঞ্জন ছড়ালেও এ বছর পরীক্ষার হলে দেখা যাবে না বৈভব সূর্যবংশীকে (Vaibhav Suryavanshi)। ভারতের ১৪ বছরের বিস্ময় প্রতিভা এ বছরের সিবিএসই (CBSE) দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় বসছেন না। কারণ একটাই—ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি।
বিহারের তাজপুরের বাসিন্দা বৈভব মডেস্টি স্কুল, তাজপুরের (Modesty School Tajpur) ছাত্র। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত চলবে পরীক্ষা। পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারিত হয়েছিল পোদ্দার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে (Poddar International School)। পরীক্ষার ফর্ম জমা পড়েছিল, ইস্যু হয়েছিল অ্যাডমিট কার্ডও। কিন্তু শেষমেশ পরিবার ও স্কুল কর্তৃপক্ষের আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—এ বছর বৈভব পরীক্ষা দেবেন না।
স্কুলের ডিরেক্টর আদর্শ কুমার পিন্টু জানিয়েছেন, টানা অনুশীলন, ক্যাম্প এবং টুর্নামেন্টের কারণে দীর্ঘ সময় বাড়ি ও স্কুলের বাইরে ছিলেন। প্রস্তুতিতে ঘাটতি অনিবার্য। আর সে কারণেই বোর্ডে বসা সম্ভব নয়। বৈভবের বাবা সঞ্জীব সূর্যবংশীর (Sanjeev Suryavanshi) সঙ্গে কথা বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বক্তব্য আদর্শের।
পরীক্ষা না দেওয়ার কারণ মোটেও ফেলনা নয়। সদ্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে (U19 World Cup) ভারতের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছেন বৈভব। টুর্নামেন্টে সাত ম্যাচে ৪৩৯ রান করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। গড় ৬২.৭১, স্ট্রাইক রেট ১৬৯.৪৯। একটি শতরান ও তিনটি অর্ধশতরান, সর্বোচ্চ স্কোর ১৭৫। শুধু রান নয়, বইয়েছেন ছক্কার বন্যাও। মোট ৩০টি ছয় মেরে ভেঙেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের (Dewald Brevis) রেকর্ড। যুব বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক সংস্করণে সবচেয়ে বেশি ওভার বাউন্ডারির মালিক এখন তিনিই।
পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডেতে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বৈভব। ২৫ ইনিংসে ১,৪১২ রান, গড় ৫৬.৪৮, স্ট্রাইক রেট ১৬৫-এর বেশি। চারটি শতরান ও সাতটি অর্ধশতরান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। আগামী আইপিএলে (IPL 2026) রাজস্থান রয়্যালসের (Rajasthan Royals) জার্সিতেও দেখা যাবে তাঁকে। ফলে অনুশীলন ও প্রস্তুতির চাপ এখন চরমে।
অল্প বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাড়া ফেলা এই কিশোর আপাতত বই নয়, ব্যাটেই মন দিচ্ছেন। পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া গেলেও, ক্রিকেটের মঞ্চ অপেক্ষা করে না। বৈভবের লক্ষ্য স্পষ্ট—এখন সময় বই-খাতার বৃত্তে নয়, বাইশ গজের কঠিন পিচে লড়াই করে স্বপ্ন ছোঁয়ার।